০৫:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
যুক্তরাজ্যে গ্রোক ঘিরে তোলপাড়, মাস্কের এক্সের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু চীনের বাণিজ্যিক নৌবহরেই লুকোচ্ছে যুদ্ধ জাহাজের শক্তি তরুণদের হাতেই নতুন প্রাণ পাচ্ছে জাপানের কিস্সাতেন সংস্কৃতি জাপানে প্রাপ্তবয়স্ক দিবসের উৎসব, তরুণ কমলেও আশার আলো ছড়াচ্ছে নতুন প্রজন্ম “ভয়েস এআই বাজারে ডিপগ্রামের তেজি অগ্রযাত্রা” দাভোস সম্মেলনে নতুন বিশ্ব শৃঙ্খলা নিয়ে আলোচনা সরকারের অনুমোদন: এক কোটি লিটার সয়াবিন তেল ও ৪০ হাজার মেট্রিক টন সার কেনা ইরানে বিক্ষোভ দমনে সহিংসতা তীব্র, নিহতের সংখ্যা প্রায় দুই হাজারে পৌঁছানোর আশঙ্কা গ্যাস সংকট ও চাঁদাবাজিতে রেস্তোরাঁ ব্যবসা চালানো হয়ে উঠছে অসম্ভব সস্তা চিনিযুক্ত পানীয় ও অ্যালকোহলে বাড়ছে অসংক্রামক ব্যাধির ঝুঁকি

চীনের বাণিজ্যিক নৌবহরেই লুকোচ্ছে যুদ্ধ জাহাজের শক্তি

চীন নীরবে এমন এক কৌশলের দিকে এগোচ্ছে, যা বাস্তবায়িত হলে এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সামরিক ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। বেইজিংয়ের ভাবনায় এখন বাণিজ্যিক জাহাজ হতে পারে যুদ্ধের নতুন হাতিয়ার। বিশাল বেসামরিক নৌবহরকে সামরিক কাজে রূপান্তরের মাধ্যমে নৌ ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানোর পথ খুঁজছে দেশটি।

বেসামরিক জাহাজে সামরিক রূপান্তর
চীনের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো বেসামরিক সম্পদকে জাতীয় প্রতিরক্ষার সঙ্গে একীভূত করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, পিপলস লিবারেশন আর্মির অভিযানে বাণিজ্যিক জাহাজকে ব্যবহারযোগ্য করে তোলাই এর কেন্দ্রবিন্দু। উভচর আক্রমণ, চিকিৎসা উদ্ধার, রসদ সরবরাহ, নজরদারি ও গোয়েন্দা কার্যক্রম থেকে শুরু করে আকাশ প্রতিরক্ষা ও নৌযুদ্ধে সহায়তার মতো ক্ষমতা যুক্ত করার পরিকল্পনা চলছে।

নতুন মানদণ্ডে নৌ ক্ষমতার হিসাব
এই ধারণা সফল হলে নৌক্ষমতা পরিমাপের প্রচলিত মানদণ্ড বদলে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন যুদ্ধজাহাজ তৈরিতে যে সময় ও ব্যয় লাগে, তার তুলনায় বিদ্যমান বাণিজ্যিক জাহাজ রূপান্তর অনেক দ্রুত ও সাশ্রয়ী। এতে অপেক্ষা না করেই যুদ্ধ ক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হবে।

ঝং দা সত্তর ন’ নম্বরের উদাহরণ
সম্প্রতি সাংহাইয়ের দ্বৈত ব্যবহারের একটি জাহাজ কারখানায় দেখা গেছে ঝং দা সত্তর ন’ নামের একটি কনটেইনার জাহাজ। ছবিতে দেখা যায়, মাঝারি আকারের এই পণ্যবাহী জাহাজে উন্নত রাডার ও যোগাযোগ ব্যবস্থা, নিকট প্রতিরক্ষা অস্ত্র, বিভ্রান্তিমূলক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপক এবং কন্টেইনার ভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা বসানো হয়েছে। এমনকি বড় আকারের ড্রোন উৎক্ষেপণের জন্য বিশেষ ক্যাটাপুল্ট ব্যবস্থারও ইঙ্গিত মিলেছে।

দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি
দুই হাজার পনেরো সাল থেকে চীন এমনভাবে বাণিজ্যিক জাহাজ নির্মাণ করছে, যাতে সংকটকালে সেগুলো সামরিক কাজে ব্যবহার করা যায়। কনটেইনার, রোল অন রোল অফ, বহুমুখী ও বাল্ক জাহাজ সহ বিভিন্ন শ্রেণির নকশায় সামরিক মানদণ্ড যুক্ত করা হয়েছে। বড় নৌ ও উভচর মহড়ায় ইতিমধ্যেই এসব জাহাজকে হেলিকপ্টার বা সামরিক যান বহনে ব্যবহার করা হচ্ছে।

তাইওয়ান ঘিরে হিসাব
বিশ্লেষকদের মতে, তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সংঘাতে এই কৌশলের গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে। বেসামরিক জাহাজের আড়ালে সামরিক প্রস্তুতি চালালে তা সহজে নজরে আসে না। কন্টেইনার ভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এ ক্ষেত্রে চমক সৃষ্টি করতে পারে।

সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ
তবে সবকিছুই যে সহজ হবে, তা নয়। রূপান্তরিত জাহাজগুলো আধুনিক যুদ্ধজাহাজের মতো দ্রুতগামী বা নিরাপদ হবে না। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে নাবিকদের প্রশিক্ষণ নিয়ে। বাণিজ্যিক জাহাজের নাবিকদের উন্নত সামরিক প্রযুক্তি পরিচালনার জন্য প্রস্তুত করা কঠিন হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

তবু পথচলা অব্যাহত
সব সীমাবদ্ধতার পরও বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বড় কোনো সংঘাতে চীন এই বেসামরিক জাহাজ ভিত্তিক সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করবেই। এটি কোনো অস্থায়ী ব্যবস্থা নয়, বরং ভবিষ্যৎ যুদ্ধভাবনারই অংশ।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাজ্যে গ্রোক ঘিরে তোলপাড়, মাস্কের এক্সের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

চীনের বাণিজ্যিক নৌবহরেই লুকোচ্ছে যুদ্ধ জাহাজের শক্তি

০৩:৩০:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

চীন নীরবে এমন এক কৌশলের দিকে এগোচ্ছে, যা বাস্তবায়িত হলে এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সামরিক ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। বেইজিংয়ের ভাবনায় এখন বাণিজ্যিক জাহাজ হতে পারে যুদ্ধের নতুন হাতিয়ার। বিশাল বেসামরিক নৌবহরকে সামরিক কাজে রূপান্তরের মাধ্যমে নৌ ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানোর পথ খুঁজছে দেশটি।

বেসামরিক জাহাজে সামরিক রূপান্তর
চীনের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো বেসামরিক সম্পদকে জাতীয় প্রতিরক্ষার সঙ্গে একীভূত করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, পিপলস লিবারেশন আর্মির অভিযানে বাণিজ্যিক জাহাজকে ব্যবহারযোগ্য করে তোলাই এর কেন্দ্রবিন্দু। উভচর আক্রমণ, চিকিৎসা উদ্ধার, রসদ সরবরাহ, নজরদারি ও গোয়েন্দা কার্যক্রম থেকে শুরু করে আকাশ প্রতিরক্ষা ও নৌযুদ্ধে সহায়তার মতো ক্ষমতা যুক্ত করার পরিকল্পনা চলছে।

নতুন মানদণ্ডে নৌ ক্ষমতার হিসাব
এই ধারণা সফল হলে নৌক্ষমতা পরিমাপের প্রচলিত মানদণ্ড বদলে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন যুদ্ধজাহাজ তৈরিতে যে সময় ও ব্যয় লাগে, তার তুলনায় বিদ্যমান বাণিজ্যিক জাহাজ রূপান্তর অনেক দ্রুত ও সাশ্রয়ী। এতে অপেক্ষা না করেই যুদ্ধ ক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হবে।

ঝং দা সত্তর ন’ নম্বরের উদাহরণ
সম্প্রতি সাংহাইয়ের দ্বৈত ব্যবহারের একটি জাহাজ কারখানায় দেখা গেছে ঝং দা সত্তর ন’ নামের একটি কনটেইনার জাহাজ। ছবিতে দেখা যায়, মাঝারি আকারের এই পণ্যবাহী জাহাজে উন্নত রাডার ও যোগাযোগ ব্যবস্থা, নিকট প্রতিরক্ষা অস্ত্র, বিভ্রান্তিমূলক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপক এবং কন্টেইনার ভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা বসানো হয়েছে। এমনকি বড় আকারের ড্রোন উৎক্ষেপণের জন্য বিশেষ ক্যাটাপুল্ট ব্যবস্থারও ইঙ্গিত মিলেছে।

দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি
দুই হাজার পনেরো সাল থেকে চীন এমনভাবে বাণিজ্যিক জাহাজ নির্মাণ করছে, যাতে সংকটকালে সেগুলো সামরিক কাজে ব্যবহার করা যায়। কনটেইনার, রোল অন রোল অফ, বহুমুখী ও বাল্ক জাহাজ সহ বিভিন্ন শ্রেণির নকশায় সামরিক মানদণ্ড যুক্ত করা হয়েছে। বড় নৌ ও উভচর মহড়ায় ইতিমধ্যেই এসব জাহাজকে হেলিকপ্টার বা সামরিক যান বহনে ব্যবহার করা হচ্ছে।

তাইওয়ান ঘিরে হিসাব
বিশ্লেষকদের মতে, তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সংঘাতে এই কৌশলের গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে। বেসামরিক জাহাজের আড়ালে সামরিক প্রস্তুতি চালালে তা সহজে নজরে আসে না। কন্টেইনার ভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এ ক্ষেত্রে চমক সৃষ্টি করতে পারে।

সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ
তবে সবকিছুই যে সহজ হবে, তা নয়। রূপান্তরিত জাহাজগুলো আধুনিক যুদ্ধজাহাজের মতো দ্রুতগামী বা নিরাপদ হবে না। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে নাবিকদের প্রশিক্ষণ নিয়ে। বাণিজ্যিক জাহাজের নাবিকদের উন্নত সামরিক প্রযুক্তি পরিচালনার জন্য প্রস্তুত করা কঠিন হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

তবু পথচলা অব্যাহত
সব সীমাবদ্ধতার পরও বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বড় কোনো সংঘাতে চীন এই বেসামরিক জাহাজ ভিত্তিক সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করবেই। এটি কোনো অস্থায়ী ব্যবস্থা নয়, বরং ভবিষ্যৎ যুদ্ধভাবনারই অংশ।