লন্ডনে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে। যৌন বিকৃত ও অনুমতি ছাড়া তৈরি করা ভুয়া ছবি তৈরির অভিযোগে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে ব্রিটেনের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকম। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে এক্সের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট গ্রোক, যা ব্যবহার করে যৌন ঘনিষ্ঠ ভুয়া ছবি তৈরি ও ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গ্রোক নিয়ে উদ্বেগ কেন
অফ কম জানিয়েছে, গ্রোক ব্যবহার করে অনুমতি ছাড়া যৌন ভুয়া ছবি ও শিশুদের যৌন নির্যাতন মূলক কনটেন্ট তৈরি ও ছড়ানোর অভিযোগ গভীর উদ্বেগজনক। যুক্তরাজ্যের অনলাইন নিরাপত্তা আইনের অধীনে প্ল্যাটফর্ম গুলোর দায়িত্ব মানুষকে অবৈধ কনটেন্ট থেকে সুরক্ষা দেওয়া। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি থাকলে তদন্তে পিছপা হবে না বলেও স্পষ্ট করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
নতুন আইন কার্যকর হচ্ছে এই সপ্তাহেই
ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, যৌন ভুয়া ছবি তৈরি করাকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করে নতুন আইন এই সপ্তাহ থেকেই কার্যকর হচ্ছে। প্রযুক্তিমন্ত্রী লিজ কেন্ডাল সংসদে বলেন, সরকার কেবল কনটেন্ট সরানোর দিকেই নয়, বরং সমস্যার উৎসে আঘাত করতে চায়। সেই লক্ষ্যেই ভুয়া ছবি তৈরির জন্য বিশেষভাবে তৈরি সরঞ্জাম সরবরাহ করাকেও অবৈধ করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

স্টারমার্ক এর কড়া ভাষা
ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার গ্রোকের তৈরি ছবিকে জঘন্য ও বেআইনি বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, এক্সকে অবিলম্বে গ্রোকের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এই মন্তব্যের পরই অফকমের ওপর দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার চাপ বেড়ে যায়।
এক্সের প্রতিক্রিয়া
তদন্ত প্রসঙ্গে এক্স জানিয়েছে, তারা অবৈধ কনটেন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত উপাদানসহ যেকোনো বেআইনি কনটেন্ট সরানো হয়, সংশ্লিষ্ট হিসাব স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয় এবং প্রয়োজনে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করা হয়। এক্সের দাবি, গ্রোক ব্যবহার করে কেউ অবৈধ কিছু তৈরি করলে, সেটি সরাসরি অবৈধ কনটেন্ট আপলোড করার মতোই শাস্তিযোগ্য হবে।

মতপ্রকাশ বনাম নিরাপত্তা বিতর্ক
ইলন মাস্ক এক্সে লিখেছেন, গ্রোক ও এক্সকে লক্ষ্য করে ব্রিটিশ সরকার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমন করতে চাইছে। তবে মন্ত্রী লিজ কেন্ডাল স্পষ্ট করে বলেন, বিষয়টি মতপ্রকাশের নয়। এটি নারী ও কন্যাশিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা রোধ, শালীনতা ও সম্মানবোধ রক্ষা এবং অনলাইনেও অফলাইনের মতো মান বজায় রাখার প্রশ্ন।
অনলাইন নিরাপত্তা আইনের বড় পরীক্ষা
২০২৩ সালে পাস হওয়া ব্রিটেনের অনলাইন নিরাপত্তা আইন ধাপে ধাপে কার্যকর হচ্ছে। পর্নোগ্রাফি সাইটে বয়স যাচাই ব্যর্থতার বিরুদ্ধে প্রাথমিক পদক্ষেপের পর গ্রোক ইস্যুই হতে যাচ্ছে এই আইনের প্রথম বড় পরীক্ষা। গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে অফ কম আদালতের মাধ্যমে অর্থ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বা বিজ্ঞাপনদাতাদের সেবা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিতে পারে, এমনকি ব্রিটেনে কোনো প্ল্যাটফর্মে প্রবেশাধিকার বন্ধের ব্যবস্থা নিতে পারে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়াও তীব্র
গ্রোকের মাধ্যমে নারী ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের আপত্তিকর ছবি তৈরির অভিযোগে এক্স ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে। ফ্রান্সে কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে স্পষ্টতই অবৈধ বলে উল্লেখ করেছে, ভারতের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া সাময়িকভাবে গ্রোক বন্ধ করে দিয়েছে। এক্স জানিয়েছে, ছবিতে মানুষের পোশাক খুলে দেওয়ার মতো অনুরোধ কেবল অর্থপ্রদ ব্যবহারকারীদের জন্য সীমিত করা হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















