ইউএনবি
প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষ, বাজার ও জীবিকার সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম ভরসা ছিল আমনুরা রেলওয়ে জংশন। সময়ের সঙ্গে সেই গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনটি আজ জীর্ণ ও অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে।
১৯০৯ সালে আবদুলপুর–মালদা রেলপথের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এই জংশনটি একসময় ছিল ব্যস্ত ও প্রাণবন্ত। কিন্তু ধীরে ধীরে এর গুরুত্ব কমতে শুরু করে।
প্রায় দেড় দশক আগে স্টেশনের যাত্রী ছাউনি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে যাত্রীদের খোলা আকাশের নিচেই ট্রেনের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। প্রচণ্ড রোদ, বৃষ্টি ও শীত—সবকিছুর মধ্যেই কষ্ট করে সময় কাটাতে হচ্ছে তাদের।

স্টেশন এলাকায় নেই ন্যূনতম সুবিধাও। নিরাপদ পানীয় জল, শৌচাগার কিংবা বসার মতো ব্যবস্থার অভাব স্পষ্ট। ফলে নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন, বিশেষ করে বর্ষা ও শীত মৌসুমে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাইপাস রেললাইন নির্মাণের পর থেকে আমনুরা জংশনে ট্রেনের যাত্রাবিরতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এতে জেলা শহরের সঙ্গে রেল যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের দৈনন্দিন চলাচলে।
যাত্রী আবদুর রাকিব বলেন, একসময় এই স্টেশনই ছিল এলাকার মানুষের প্রধান ভরসা। এখন এখানে কোনো সুবিধাই নেই। বৃষ্টি আর রোদের মধ্যেই আমাদের ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়।
আরেক যাত্রী মতিউর রহমান জানান, জেলার অন্য স্টেশনগুলোতে অনলাইন টিকিটের সুবিধা থাকলেও আমনুরা জংশনে তা চালু হয়নি। বাধ্য হয়ে স্টেশনে এসে সরাসরি টিকিট কাটতে হয়। দ্রুত এখানে অনলাইন টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে যাত্রী ছাউনি পুনর্নির্মাণ, পানীয় জলের ব্যবস্থা, শৌচাগার নির্মাণ এবং ট্রেনের যাত্রাবিরতি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এসব উদ্যোগ না নিলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।
আমনুরা জংশনের স্টেশন মাস্টার হাসিবুল হাসান জানান, স্টেশন উন্নয়নের জন্য রেল কর্তৃপক্ষ একটি পরিকল্পনা নিয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন হলে যাত্রীসেবা উন্নত হবে এবং অবকাঠামোগত সমস্যাগুলোর সমাধান হবে।
তবে কবে নাগাদ এই উন্নয়নকাজ শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
শতবর্ষী এই রেল জংশনের হারানো গুরুত্ব ফিরিয়ে আনা এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘবে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যাত্রী ও স্থানীয়রা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















