০২:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
চীনের কয়লাখনি বিস্ফোরণ: প্রযুক্তির অগ্রগতির আড়ালে রয়ে গেছে শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণ জীবন ৪৫ ডিগ্রি তাপেও থামে না জীবন, দিল্লির শ্রমজীবী মানুষের কাছে বেঁচে থাকাই বড় চ্যালেঞ্জ ভাইরাল নাচে নতুন প্রাণ পাচ্ছে গান, বদলে যাচ্ছে পপসংস্কৃতির চিত্র পেন্টাগনের গোপন ইউএফও নথি প্রকাশ, রহস্য আরও ঘনীভূত চালের দামের রকেট গতি, বাংলাদেশি টাকায় ১১৬ টাকা কেজি দরে ৫ লাখ টন চাল রপ্তানি করছে ইন্দোনেশিয়া দিল্লির সাকেত মেট্রো স্টেশনের কাছে বহুতল ভবন ধস, ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়ার আশঙ্কা টয়োটার বড় সিদ্ধান্ত: স্থগিত হচ্ছে পরবর্তী প্রজন্মের বৈদ্যুতিক গাড়ি প্রকল্প বিতর্কে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ স্থগিত মোদির মিতব্যয়ী বার্তা নিয়ে অসন্তোষ, চাপে ভারতের মধ্যবিত্ত ও করদাতা শ্রেণি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় শক্তিশালী হচ্ছে কর্তৃত্ববাদী শাসন, নেতৃত্বে নতুন মুখের উত্থান

একসময়ের প্রাণকেন্দ্র আমনুরা জংশন এখন অবহেলায়

ইউএনবি

প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষ, বাজার ও জীবিকার সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম ভরসা ছিল আমনুরা রেলওয়ে জংশন। সময়ের সঙ্গে সেই গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনটি আজ জীর্ণ ও অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে।

১৯০৯ সালে আবদুলপুর–মালদা রেলপথের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এই জংশনটি একসময় ছিল ব্যস্ত ও প্রাণবন্ত। কিন্তু ধীরে ধীরে এর গুরুত্ব কমতে শুরু করে।

প্রায় দেড় দশক আগে স্টেশনের যাত্রী ছাউনি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে যাত্রীদের খোলা আকাশের নিচেই ট্রেনের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। প্রচণ্ড রোদ, বৃষ্টি ও শীত—সবকিছুর মধ্যেই কষ্ট করে সময় কাটাতে হচ্ছে তাদের।

রেলওয়ের অবহেলায় ধুঁকছে আমনুরা জংশন, যাত্রী দুর্ভোগ চরমে

স্টেশন এলাকায় নেই ন্যূনতম সুবিধাও। নিরাপদ পানীয় জল, শৌচাগার কিংবা বসার মতো ব্যবস্থার অভাব স্পষ্ট। ফলে নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন, বিশেষ করে বর্ষা ও শীত মৌসুমে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বাইপাস রেললাইন নির্মাণের পর থেকে আমনুরা জংশনে ট্রেনের যাত্রাবিরতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এতে জেলা শহরের সঙ্গে রেল যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের দৈনন্দিন চলাচলে।

যাত্রী আবদুর রাকিব বলেন, একসময় এই স্টেশনই ছিল এলাকার মানুষের প্রধান ভরসা। এখন এখানে কোনো সুবিধাই নেই। বৃষ্টি আর রোদের মধ্যেই আমাদের ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়।

আরেক যাত্রী মতিউর রহমান জানান, জেলার অন্য স্টেশনগুলোতে অনলাইন টিকিটের সুবিধা থাকলেও আমনুরা জংশনে তা চালু হয়নি। বাধ্য হয়ে স্টেশনে এসে সরাসরি টিকিট কাটতে হয়। দ্রুত এখানে অনলাইন টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান তিনি।

No photo description available.

স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে যাত্রী ছাউনি পুনর্নির্মাণ, পানীয় জলের ব্যবস্থা, শৌচাগার নির্মাণ এবং ট্রেনের যাত্রাবিরতি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এসব উদ্যোগ না নিলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।

আমনুরা জংশনের স্টেশন মাস্টার হাসিবুল হাসান জানান, স্টেশন উন্নয়নের জন্য রেল কর্তৃপক্ষ একটি পরিকল্পনা নিয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন হলে যাত্রীসেবা উন্নত হবে এবং অবকাঠামোগত সমস্যাগুলোর সমাধান হবে।

তবে কবে নাগাদ এই উন্নয়নকাজ শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

শতবর্ষী এই রেল জংশনের হারানো গুরুত্ব ফিরিয়ে আনা এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘবে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যাত্রী ও স্থানীয়রা।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের কয়লাখনি বিস্ফোরণ: প্রযুক্তির অগ্রগতির আড়ালে রয়ে গেছে শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণ জীবন

একসময়ের প্রাণকেন্দ্র আমনুরা জংশন এখন অবহেলায়

০২:১৪:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

ইউএনবি

প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষ, বাজার ও জীবিকার সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম ভরসা ছিল আমনুরা রেলওয়ে জংশন। সময়ের সঙ্গে সেই গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনটি আজ জীর্ণ ও অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে।

১৯০৯ সালে আবদুলপুর–মালদা রেলপথের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এই জংশনটি একসময় ছিল ব্যস্ত ও প্রাণবন্ত। কিন্তু ধীরে ধীরে এর গুরুত্ব কমতে শুরু করে।

প্রায় দেড় দশক আগে স্টেশনের যাত্রী ছাউনি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে যাত্রীদের খোলা আকাশের নিচেই ট্রেনের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। প্রচণ্ড রোদ, বৃষ্টি ও শীত—সবকিছুর মধ্যেই কষ্ট করে সময় কাটাতে হচ্ছে তাদের।

রেলওয়ের অবহেলায় ধুঁকছে আমনুরা জংশন, যাত্রী দুর্ভোগ চরমে

স্টেশন এলাকায় নেই ন্যূনতম সুবিধাও। নিরাপদ পানীয় জল, শৌচাগার কিংবা বসার মতো ব্যবস্থার অভাব স্পষ্ট। ফলে নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন, বিশেষ করে বর্ষা ও শীত মৌসুমে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বাইপাস রেললাইন নির্মাণের পর থেকে আমনুরা জংশনে ট্রেনের যাত্রাবিরতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এতে জেলা শহরের সঙ্গে রেল যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের দৈনন্দিন চলাচলে।

যাত্রী আবদুর রাকিব বলেন, একসময় এই স্টেশনই ছিল এলাকার মানুষের প্রধান ভরসা। এখন এখানে কোনো সুবিধাই নেই। বৃষ্টি আর রোদের মধ্যেই আমাদের ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়।

আরেক যাত্রী মতিউর রহমান জানান, জেলার অন্য স্টেশনগুলোতে অনলাইন টিকিটের সুবিধা থাকলেও আমনুরা জংশনে তা চালু হয়নি। বাধ্য হয়ে স্টেশনে এসে সরাসরি টিকিট কাটতে হয়। দ্রুত এখানে অনলাইন টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান তিনি।

No photo description available.

স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে যাত্রী ছাউনি পুনর্নির্মাণ, পানীয় জলের ব্যবস্থা, শৌচাগার নির্মাণ এবং ট্রেনের যাত্রাবিরতি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এসব উদ্যোগ না নিলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।

আমনুরা জংশনের স্টেশন মাস্টার হাসিবুল হাসান জানান, স্টেশন উন্নয়নের জন্য রেল কর্তৃপক্ষ একটি পরিকল্পনা নিয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন হলে যাত্রীসেবা উন্নত হবে এবং অবকাঠামোগত সমস্যাগুলোর সমাধান হবে।

তবে কবে নাগাদ এই উন্নয়নকাজ শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

শতবর্ষী এই রেল জংশনের হারানো গুরুত্ব ফিরিয়ে আনা এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘবে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যাত্রী ও স্থানীয়রা।