ভারতের প্রতিরক্ষা খাতে বিদেশি বিনিয়োগ সহজ করতে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের পথে হাঁটছে নরেন্দ্র মোদির সরকার। সরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, দেশীয় প্রতিরক্ষা সংস্থায় বিদেশি বিনিয়োগের সীমা শিথিল করে দ্রুত উৎপাদন ও প্রযুক্তি সক্ষমতা বাড়াতে চায় দিল্লি। পাকিস্তানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সীমান্ত সংঘাতের পর এই সিদ্ধান্তকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্বয়ংক্রিয় বিনিয়োগের সীমা বাড়ছে
বর্তমানে যেসব প্রতিরক্ষা সংস্থার বৈধ লাইসেন্স রয়েছে, সেখানে সরকারি অনুমোদন ছাড়াই বিদেশি বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সীমা ঊনপঞ্চাশ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে চুয়াত্তর শতাংশ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতদিন এই চুয়াত্তর শতাংশ সুবিধা কেবল নতুন লাইসেন্সের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য ছিল। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে পুরোনো লাইসেন্সধারী সংস্থাগুলি ও একই সুবিধা পাবে।
প্রযুক্তি সংক্রান্ত শর্ত বাতিলের উদ্যোগ
সরকার এমন একটি শর্তও তুলে দেওয়ার কথা ভাবছে, যেখানে বলা ছিল চুয়াত্তর শতাংশের বেশি বিদেশি বিনিয়োগ তখনই সম্ভব, যদি তা আধুনিক প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই শর্তের ভাষা অস্পষ্ট হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই অনিশ্চয়তা ছিল। নতুন প্রস্তাবে সেই জটিলতা দূর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বিদেশি সংস্থার বড় অংশীদারিত্বের সুযোগ
নীতিমালার এই শিথিলতার ফলে ভারতের প্রতিরক্ষা অংশীদার দেশগুলোর সংস্থাগুলি দেশীয় উদ্যোগে সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানা নিতে পারবে। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এই সংস্কার কার্যকর হতে পারে। এতে উৎপাদন, গবেষণা ও রপ্তানিতে গতি আসবে বলে আশা করছে সরকার।
রপ্তানি নির্ভর সংস্থার বাধা কমছে
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হচ্ছে রপ্তানিমুখী প্রতিরক্ষা প্রস্তুতকারকদের জন্য দেশের ভিতরে রক্ষণাবেক্ষণ ও সহায়তা কেন্দ্র গড়ার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া। এই পরিষেবাগুলি এখন বাইরের সংস্থার মাধ্যমে নেওয়া যাবে। সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা অমিত কৌশিশের মতে, এতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ অনেক সহজ হবে।
এখনও সীমিত বিদেশি বিনিয়োগ
যদিও ভারতের প্রতিরক্ষা খাতে ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল ও রাশিয়ার সংস্থাগুলির উপস্থিতি রয়েছে, তবুও বাস্তবে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ খুবই কম। গত পঁচিশ বছরে এই খাতে বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে মাত্র অল্প কয়েক কোটি ডলার, যা মোট বৈদেশিক বিনিয়োগের তুলনায় নগণ্য।
সংঘাতের পর প্রতিরক্ষা ব্যয়ে জোর
গত বছর পাকিস্তানের সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি কিন্তু প্রাণঘাতী সংঘাতে ড্রোন ও যুদ্ধবিমানের ব্যবহার বিশেষ গুরুত্ব পায়। এর পর থেকেই প্রতিরক্ষা খাতে অর্থ বরাদ্দ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী অর্থবছরের বাজেটে প্রতিরক্ষা ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও রপ্তানি কয়েক বছরের মধ্যে দ্বিগুণ করার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















