ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে অনুষ্ঠিত একটি সংগীতানুষ্ঠানে ডাকসুর এক নেতার স্লোগানকে কেন্দ্র করে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিদ্রুপাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কনসার্ট চলাকালে দেওয়া স্লোগানের বিপরীতে শিক্ষার্থীদের পাল্টা ধ্বনি মুহূর্তের মধ্যেই আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
ঘটনার সময় ও প্রেক্ষাপট
শনিবার রাতে ‘স্পিরিটস অব জুলাই’ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের যৌথ আয়োজনে চলমান ‘কুয়াশার গান’ কনসার্টে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রাত নয়টার দিকে অনুষ্ঠান চলাকালে মঞ্চ থেকে বক্তব্য দেন ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মুসাদ্দেক ইবনে আলী মোহাম্মদ।
স্লোগান ও পাল্টা প্রতিক্রিয়া
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এক পর্যায়ে বিভিন্ন স্লোগান উচ্চারণ শুরু করেন। ‘কোটা না সংস্কার?’ প্রশ্নসূচক স্লোগান দেওয়ার পরই দর্শকসারির একাংশ ‘কোটা, কোটা’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। পাশাপাশি আরেক অংশ থেকে শোনা যায় বিদ্রুপাত্মক ‘ইউরেনিয়াম, ইউরেনিয়াম’ ধ্বনি।

এরপর তিনি যখন ‘গোলামী না সংস্কার?’ স্লোগান দেন, তখন নিচ থেকে কয়েকজন শিক্ষার্থী ‘যুক্তরাজ্যের চাকরি’ বলে পাল্টা স্লোগান দেন। সবশেষে পরিচিত ছাত্র আন্দোলনের স্লোগান ‘আমি কে তুমি কে?’ উচ্চারণ করলে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা ‘মুসাদ্দেক, মুসাদ্দেক’ বলে ব্যঙ্গাত্মক আওয়াজ তুলতে থাকেন।
শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া ও কারণ
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিজয় একাত্তর হলের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী আব্দুল কাদের জানান, শিক্ষার্থীরা মূলত ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদকের প্রতি বিরক্তি থেকেই এমন বিদ্রুপাত্মক স্লোগান দিয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে ওই ছাত্রনেতার বিতর্কিত বক্তব্য ও অবস্থানের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তার প্রতি নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে।
অনুষ্ঠান ও সামগ্রিক প্রতিক্রিয়া
‘এক্স ফোর্স প্রেজেন্টস কুয়াশার গান’ শিরোনামের এই সংগীতানুষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতা করে সিটি ব্যাংক। শীতের সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থী কনসার্ট উপভোগ করতে উপস্থিত হলেও অনাকাঙ্ক্ষিত এই স্লোগান-পাল্টা স্লোগানের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















