সিঙ্গাপুরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্যাথলিক জুনিয়র কলেজ নতুন ঠিকানায় পা রাখতে যাচ্ছে। প্রায় ছয় দশকের পুরোনো হুইটলি রোড ক্যাম্পাস ছেড়ে কলেজটি স্থানান্তরিত হবে পুংগোল ডিজিটাল জেলার কাছাকাছি এলাকায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন ক্যাম্পাসে শিক্ষাক্রম শুরু হওয়ার সম্ভাব্য সময় দুই হাজার চৌত্রিশ সাল।
নতুন ঠিকানা, নতুন সম্ভাবনা
ক্যাথলিক জুনিয়র কলেজের নতুন ক্যাম্পাস নির্মিত হবে সিঙ্গাপুর ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির নিকটে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই অবস্থান কলেজটির জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। পুংগোল ডিজিটাল জেলা ইতোমধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স ও সাইবার নিরাপত্তার মতো প্রযুক্তিনির্ভর খাতের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠছে। এই পরিবেশে অবস্থান করলে শিক্ষার্থীরা পাঠ্য বইয়ের জ্ঞানকে বাস্তব ক্ষেত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার সুযোগ পাবে।

স্থানান্তরের পেছনের কারণ
ক্যাথলিক জুনিয়র কলেজের স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান বার্নার্ড ট্যান জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত সহজ ছিল না। প্রায় দুই বছর ধরে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। হুইটলি রোডের বর্তমান ক্যাম্পাস এর অবকাঠামো পুরোনো হয়ে পড়েছে এবং জমির লিজ দুই হাজার ঊনত্রিশ সালে শেষ হবে। এই প্রেক্ষাপটে পুংগোলের জমি প্রস্তাব পাওয়াকে কলেজ কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যৎ গঠনের একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে।
ঐতিহ্য রক্ষার অঙ্গীকার
কলেজ কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, এটি শুধু ঠিকানা বদল নয়। ক্যাথলিক জুনিয়র কলেজের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে বর্তমান ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য উপাদান, ঐতিহাসিক নিদর্শন ও স্মৃতিচিহ্ন নতুন ক্যাম্পাসে স্থানান্তরের সম্ভাবনা যাচাই করা হবে। এমনকি বর্তমান লেকচার থিয়েটার, শ্রেণিকক্ষ ও উন্মুক্ত সমাবেশ এলাকার পরিবেশ নতুন জায়গায় কীভাবে পুনর্গঠন করা যায়, তা নিয়েও ভাবনা চলছে।

শিক্ষা অবকাঠামোতে আধুনিক রূপ
নতুন ক্যাম্পাসে উঁচু ভবনের মাধ্যমে তুলনামূলক ছোট জমিতে আধুনিক শিক্ষা অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এখানে সেমিনার ভিত্তিক পাঠদান, প্রকল্প আলোচনা ও দলগত কাজের জন্য নমনীয় শেখার জায়গা থাকবে। শিক্ষক ও কর্মীদের জন্য থাকবে বহুমুখী কর্মক্ষেত্র। পাশাপাশি পুংগোল আঞ্চলিক ক্রীড়া কেন্দ্র, জলপথ উদ্যান ও ঐতিহ্য ট্রেইলের মতো খোলা জায়গা ব্যবহারের সুযোগ পাবে শিক্ষার্থীরা।
ডিজিটাল পরিবেশে শিক্ষা সংযোগ
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিঙ্গাপুরের উপপ্রধানমন্ত্রী গ্যান কিম ইয়ং বলেন, পুংগোল ডিজিটাল জেলার পাশে কলেজটির অবস্থান শিক্ষাকে বাস্তব জীবনের সঙ্গে যুক্ত করার একটি সচেতন সিদ্ধান্ত। তাঁর মতে, বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা এখানে তত্ত্বকে বাস্তবে প্রয়োগের সুযোগ পাবে, আর মানববিদ্যার শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তির সামাজিক ও নৈতিক দিকগুলো কাছ থেকে অনুধাবন করতে পারবে। এই দৃষ্টিভঙ্গি কলেজটির একাডেমিক কঠোরতা ও ক্যাথলিক মূল্যবোধের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সহযোগিতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
দুই হাজার ছাব্বিশ সাল থেকে কার্যকর হবে এমন যৌথ উদ্যোগের জন্য ক্যাথলিক জুনিয়র কলেজ ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছে। এসব কর্মসূচি নতুন ক্যাম্পাসে যাওয়ার আগেই শুরু হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই স্থানান্তর উত্তর-পূর্ব সিঙ্গাপুর অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত প্রাক-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

শিক্ষার্থী ও সম্প্রদায়ের সংযোগ
প্রতিবছর প্রায় সাতশ থেকে সাতশ পঞ্চাশ শিক্ষার্থী এখান থেকে স্নাতক হয়। সিঙ্গাপুরের একমাত্র ক্যাথলিক জুনিয়র কলেজ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির একটি চ্যাপেল রয়েছে এবং ক্যাথলিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে এর ঘনিষ্ঠ সংযোগ আছে। দুই হাজার চব্বিশ সালে পোপ ফ্রান্সিসের সফরও এই কলেজের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য ঘটনা। নতুন এলাকায় গিয়ে শিক্ষার্থীরা শুধু পড়াশোনায় নয়, আশপাশের সম্প্রদায়ের জীবনেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















