০৭:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
ইরানপন্থী সমাবেশের আশঙ্কা, লন্ডনে ফিলিস্তিনপন্থী মিছিল নিষিদ্ধ করলেন ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমানিয়ায় মার্কিন সেনা উপস্থিতি বাড়ানোর অনুমোদন হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ; তেল ছাড়তে প্রস্তুত জাপান ও জার্মানি সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই থাইল্যান্ডের জাহাজে হরমুজ প্রণালীতে অজ্ঞাত হামলা, নিখোঁজ তিন নাবিক ইরান যুদ্ধে বেসামরিক ও শিশু মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ পোপ লিওর তেলের বাজারে অস্থিরতা: ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়ার সুপারিশ আইইএর ইরানে নতুন করে ‘ব্যাপক হামলা’ শুরু করেছে ইসরাইল, একই সঙ্গে বৈরুতেও আঘাত ইরান যুদ্ধ: যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৭টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত প্রয়োজন হলে সৌদি আরবের পাশে থাকবে পাকিস্তান

ঘুম ঠিক রাখার এক অভ্যাসই বদলে দিতে পারে আপনার স্বাস্থ্য

ঘুম ভালো হয়েছে কি না—এই প্রশ্নের উত্তরে আমরা সাধারণত কত ঘণ্টা ঘুমালাম বা রাতে কতবার ঘুম ভাঙল, সেটাই হিসাব করি। কিন্তু ঘুমের আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক প্রায়ই উপেক্ষিত থেকে যায়। সেটি হলো প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নিয়মিত ঘুমের সময়সূচিই দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি।

নিয়মিত ঘুম কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

মানবদেহের ভেতরে রয়েছে একটি প্রাকৃতিক জৈবঘড়ি, যা দিনরাতের চক্র অনুযায়ী শরীরের কাজকর্ম নিয়ন্ত্রণ করে। চোখে সকালের আলো পড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ঘড়ি শরীরকে জানিয়ে দেয়, সন্ধ্যার দিকে ঘুমের প্রস্তুতি নিতে হবে। ঠিক সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও জাগা এই স্বাভাবিক ছন্দকে ঠিক রাখে। কিন্তু প্রতিদিন ঘুমের সময় বদলালে, বিশেষ করে ছুটির দিনে দেরিতে ঘুমানো বা দেরিতে ওঠার অভ্যাস হলে, এই ছন্দ নষ্ট হতে শুরু করে।

Irregular sleep schedule linked to high blood pressure | American Heart  Association

গবেষণায় কী উঠে এসেছে

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁদের ঘুমের সময়সূচি সবচেয়ে বেশি এলোমেলো, তাঁদের হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। একটি বড় গবেষণায় দেখা যায়, অনিয়মিত ঘুমের অভ্যাস যাঁদের বেশি, তাঁদের ক্ষেত্রে হৃদ্‌যন্ত্রজনিত রোগের সম্ভাবনা দ্বিগুণেরও বেশি। আরেকটি গবেষণায় অনিয়মিত ঘুমের সঙ্গে স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি বাড়ার স্পষ্ট সম্পর্ক পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের সময় যত বেশি বার বদলায় এবং যত দীর্ঘ সময় ধরে এই অনিয়ম চলতে থাকে, ঝুঁকিও তত বাড়ে।

স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব পড়ে কেন

ঘুমের সময় এলোমেলো হলে শরীরের ভেতরের জৈবঘড়ি তাল হারায়। এর ফলে হরমোন নিঃসরণ ঠিক সময়ে হয় না। মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন অস্বাভাবিকভাবে নিঃসৃত হতে পারে, যা শরীরে প্রদাহ ও চাপ বাড়ায়। এতে দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্‌যন্ত্র ও বিপাক প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পাশাপাশি, অস্বাভাবিক সময়ে ক্ষুধা লাগার প্রবণতা বাড়ে। গভীর রাতে খাবার খাওয়ার অভ্যাস তৈরি হলে হজমের সমস্যা থেকে শুরু করে ওজন বাড়ার ঝুঁকিও দেখা দেয়।

Study: Experts Suggest Irregular Sleep Raises Your Risk of Heart Disease

নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস গড়বেন যেভাবে

ব্যস্ত কাজ, পড়াশোনা, পরিবার ও সামাজিক জীবনের চাপে প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো সহজ নয়। তবু ছোট কিছু পরিবর্তন বড় ফল আনতে পারে। প্রতিদিন ঘুমাতে যাওয়ার এক ঘণ্টা আগে নিজেকে মনে করিয়ে দিন যে এখন ধীরে ধীরে বিশ্রামের সময়। এই সময়টায় শান্ত কোনো কাজ করলে শরীর ও মন ঘুমের জন্য প্রস্তুত হয়। পাশাপাশি প্রতিদিন সকালে একই সময়ে অন্তত কিছুক্ষণ প্রাকৃতিক আলোতে থাকার চেষ্টা করুন। মেঘলা দিন হলেও বাইরে বের হলে শরীরের জৈবঘড়ি সঠিক সংকেত পায়।

দীর্ঘমেয়াদে সুফল

অনিয়মিত ঘুমে আপনি হয়তো প্রতিদিন ক্লান্তি অনুভব করবেন না, কিন্তু এর ক্ষতি ধীরে ধীরে জমতে থাকে। নিয়মিত ঘুমের সময় ধরে রাখতে পারলে শরীরের হরমোন, মনোযোগ, মেজাজ এবং হৃদ্‌স্বাস্থ্য সবকিছুই ভালো থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে ভালো স্বাস্থ্যের জন্য প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো ও জাগার অভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে কার্যকর ঘুমের কৌশল।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানপন্থী সমাবেশের আশঙ্কা, লন্ডনে ফিলিস্তিনপন্থী মিছিল নিষিদ্ধ করলেন ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঘুম ঠিক রাখার এক অভ্যাসই বদলে দিতে পারে আপনার স্বাস্থ্য

১২:৩০:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

ঘুম ভালো হয়েছে কি না—এই প্রশ্নের উত্তরে আমরা সাধারণত কত ঘণ্টা ঘুমালাম বা রাতে কতবার ঘুম ভাঙল, সেটাই হিসাব করি। কিন্তু ঘুমের আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক প্রায়ই উপেক্ষিত থেকে যায়। সেটি হলো প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নিয়মিত ঘুমের সময়সূচিই দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি।

নিয়মিত ঘুম কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

মানবদেহের ভেতরে রয়েছে একটি প্রাকৃতিক জৈবঘড়ি, যা দিনরাতের চক্র অনুযায়ী শরীরের কাজকর্ম নিয়ন্ত্রণ করে। চোখে সকালের আলো পড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ঘড়ি শরীরকে জানিয়ে দেয়, সন্ধ্যার দিকে ঘুমের প্রস্তুতি নিতে হবে। ঠিক সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও জাগা এই স্বাভাবিক ছন্দকে ঠিক রাখে। কিন্তু প্রতিদিন ঘুমের সময় বদলালে, বিশেষ করে ছুটির দিনে দেরিতে ঘুমানো বা দেরিতে ওঠার অভ্যাস হলে, এই ছন্দ নষ্ট হতে শুরু করে।

Irregular sleep schedule linked to high blood pressure | American Heart  Association

গবেষণায় কী উঠে এসেছে

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁদের ঘুমের সময়সূচি সবচেয়ে বেশি এলোমেলো, তাঁদের হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। একটি বড় গবেষণায় দেখা যায়, অনিয়মিত ঘুমের অভ্যাস যাঁদের বেশি, তাঁদের ক্ষেত্রে হৃদ্‌যন্ত্রজনিত রোগের সম্ভাবনা দ্বিগুণেরও বেশি। আরেকটি গবেষণায় অনিয়মিত ঘুমের সঙ্গে স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি বাড়ার স্পষ্ট সম্পর্ক পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের সময় যত বেশি বার বদলায় এবং যত দীর্ঘ সময় ধরে এই অনিয়ম চলতে থাকে, ঝুঁকিও তত বাড়ে।

স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব পড়ে কেন

ঘুমের সময় এলোমেলো হলে শরীরের ভেতরের জৈবঘড়ি তাল হারায়। এর ফলে হরমোন নিঃসরণ ঠিক সময়ে হয় না। মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন অস্বাভাবিকভাবে নিঃসৃত হতে পারে, যা শরীরে প্রদাহ ও চাপ বাড়ায়। এতে দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্‌যন্ত্র ও বিপাক প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পাশাপাশি, অস্বাভাবিক সময়ে ক্ষুধা লাগার প্রবণতা বাড়ে। গভীর রাতে খাবার খাওয়ার অভ্যাস তৈরি হলে হজমের সমস্যা থেকে শুরু করে ওজন বাড়ার ঝুঁকিও দেখা দেয়।

Study: Experts Suggest Irregular Sleep Raises Your Risk of Heart Disease

নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস গড়বেন যেভাবে

ব্যস্ত কাজ, পড়াশোনা, পরিবার ও সামাজিক জীবনের চাপে প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো সহজ নয়। তবু ছোট কিছু পরিবর্তন বড় ফল আনতে পারে। প্রতিদিন ঘুমাতে যাওয়ার এক ঘণ্টা আগে নিজেকে মনে করিয়ে দিন যে এখন ধীরে ধীরে বিশ্রামের সময়। এই সময়টায় শান্ত কোনো কাজ করলে শরীর ও মন ঘুমের জন্য প্রস্তুত হয়। পাশাপাশি প্রতিদিন সকালে একই সময়ে অন্তত কিছুক্ষণ প্রাকৃতিক আলোতে থাকার চেষ্টা করুন। মেঘলা দিন হলেও বাইরে বের হলে শরীরের জৈবঘড়ি সঠিক সংকেত পায়।

দীর্ঘমেয়াদে সুফল

অনিয়মিত ঘুমে আপনি হয়তো প্রতিদিন ক্লান্তি অনুভব করবেন না, কিন্তু এর ক্ষতি ধীরে ধীরে জমতে থাকে। নিয়মিত ঘুমের সময় ধরে রাখতে পারলে শরীরের হরমোন, মনোযোগ, মেজাজ এবং হৃদ্‌স্বাস্থ্য সবকিছুই ভালো থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে ভালো স্বাস্থ্যের জন্য প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো ও জাগার অভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে কার্যকর ঘুমের কৌশল।