ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়। যখন বিশ্বের বেশির ভাগ পেশাদার টেনিস খেলোয়াড় ছুটি কাটিয়ে নতুন মৌসুমের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, তখন ব্যাংককে ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলছিলেন ফিলিপাইনের আলেকজান্দ্রা ইলা ও ইন্দোনেশিয়ার জানিস জেন। দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ান গেমসের মঞ্চে তাঁদের সাফল্য শুধু পদক জয়ের গল্প নয়, বরং একটি অঞ্চলের সম্ভাবনার নতুন বার্তা।
দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ান গেমসের গুরুত্ব
প্রায় দশ হাজার ক্রীড়াবিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ান গেমস এই অঞ্চলের জন্য কেবল একটি ক্রীড়া আসর নয়, বরং গর্বের প্রতীক। ইলা জানান, ছোটবেলা থেকেই এই আসর তাঁর স্বপ্নের অংশ। প্রতিযোগিতা শেষে ইলা এককে স্বর্ণপদক জিতেছেন, আর জেন ইন্দোনেশিয়াকে দলগত শিরোপা এনে দিয়েছেন, সঙ্গে নারী দ্বৈতে সোনা। এই সাফল্য দুজনেরই উত্থানপর্বের মৌসুমকে আরও স্মরণীয় করেছে।

অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে নতুন অধ্যায়
ইলা ও জেন দুজনই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের মূল পর্বে প্রথমবার খেলতে যাচ্ছেন। জেনের জন্য এটি সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতা, আর ইলার জন্য তিনবার বাছাইপর্বে ব্যর্থতার পর বড় মঞ্চে নিজেকে প্রমাণের সুযোগ। তাঁদের এই উপস্থিতি দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার টেনিসকে বিশ্বমঞ্চে নতুন করে পরিচিত করছে।
অঞ্চলটির প্রতি বাড়তি নজর
টেনিস অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন, এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গ্র্যান্ড স্লাম হিসেবে এই টুর্নামেন্টের জন্য দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীন, জাপান ও কোরিয়ার পর এই অঞ্চলকে ভবিষ্যতের বড় দর্শকভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইলা ও জেনের মতো তরুণ মুখগুলো সেই সম্ভাবনাকে আরও দৃঢ় করছে।

ইলার পথচলা ও ব্যক্তিত্ব
ইলার শুরুটা ছিল সাঁতার দিয়ে, মায়ের পথ অনুসরণে। কিন্তু অল্প বয়সেই টেনিস তাঁকে টেনে নেয়। বর্তমানে বিশ্বের সেরা পঞ্চাশে থাকা প্রথম ফিলিপিনো খেলোয়াড় তিনি। যুক্তরাষ্ট্র ওপেন জুনিয়র জয় থেকে শুরু করে বড় তারকাদের হারিয়ে শিরোনামে আসা, সব মিলিয়ে তাঁর আত্মবিশ্বাস ও হাসি তাঁকে দর্শকপ্রিয় করেছে। স্পেনের রাফায়েল নাদাল একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নিয়ে মানসিক দৃঢ়তা ও লড়াইয়ের মানসিকতা গড়ে তুলেছেন তিনি।
জেনের আলাদা যাত্রা
ইলার মতো সরাসরি পেশাদার টেনিসে না এসে জেন বেছে নেন বিশ্ববিদ্যালয় টেনিসের পথ। পড়াশোনা শেষ করে পুরোপুরি পেশাদার সার্কিটে নামার পর দ্রুতই নিজের অবস্থান তৈরি করেন। দীর্ঘ দুই দশকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ওপেনে জয়ী হওয়া প্রথম ইন্দোনেশিয়ান খেলোয়াড় হওয়া তাঁর জন্য বড় মাইলফলক। মানসিক শক্তি ও কৌশলগত পরিপক্বতাই তাঁকে আলাদা করেছে।
![Alexandra Eala [PHI] | AO](https://ausopen.com/sites/default/files/202601/18/ao-2026-alexandra-eala-ta-luis-enrique-ascui-main.jpg)
সমর্থন ও সংস্কৃতির বন্ধন
ইলার ম্যাচে ফিলিপিনো সমর্থকদের উচ্ছ্বাস নতুন কিছু নয়। তিনি বলেন, মানুষের সঙ্গেই আসল ঘরবাড়ি গড়ে ওঠে। সংস্কৃতি, পরিশ্রম আর ইতিবাচক মানসিকতাই তাঁর শক্তি। জেনও অনুভব করেন দেশের মানুষের ভালোবাসা ও গর্ব।
দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার ভবিষ্যৎ
এর আগে থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনের কিছু খেলোয়াড় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য পেয়েছেন। তবে ইলা ও জেন সেই ধারাকে আরও এগিয়ে নিচ্ছেন। মানিলায় প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক নারী টেনিস প্রতিযোগিতা আয়োজন এই পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত।

বিশ্ব টেনিসে বৈচিত্র্যের সৌন্দর্য
জাপানের নাওমি ওসাকা বলেন, টেনিস মানেই নানা সংস্কৃতির মিলনমেলা। ইলা ও জেনের মতো নতুন মুখগুলো সেই বৈচিত্র্যকে আরও সমৃদ্ধ করছে। দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার টেনিস এখন আর প্রান্তিক নয়, বরং ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় শক্তি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















