০৩:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
জীবনের অন্য এক রূপে জোডি ফস্টার, ফ্রান্সে গোপনীয়তাই তাঁর মুক্তি শেরপুরে পারিবারিক কলহের নির্মম পরিণতি, বাবার হাতে প্রাণ গেল সাত বছরের কন্যার ড্রাগন নেই, তবু রক্ত-মাটিতে ভেজা বীরত্বের গল্প ইউরোপ–আমেরিকা বাণিজ্য যুদ্ধের শঙ্কা: গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের শুল্ক হুমকিতে পাল্টা জবাবের পথে ইইউ জার্মান শিল্পে ক্ষোভের বিস্ফোরণ, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের শুল্ক চাপ মানতে নারাজ ইউরোপ বিশ্ববাজারে অস্থির ঝাঁকুনি, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ইউরোপে শুল্ক হুমকিতে চাপে মুদ্রা ও শেয়ার লিবিয়ার গোপন কারাগার থেকে উদ্ধার দুই শতাধিক অভিবাসী, মানবতাবিরোধী অপরাধের ভয়াবহ চিত্র গুয়াতেমালার কারাগারে জিম্মি সংকটের অবসান, সহিংসতার জেরে জরুরি অবস্থা ঘোষণা পর্তুগালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চরম ডানপন্থার উত্থান, রান অফে মুখোমুখি সমাজতন্ত্রী সেগুরো ও ভেনচুরা পেন্টাগনের প্রস্তুতি, মিনেসোটায় সেনা নামানোর ইঙ্গিত ঘিরে তীব্র উদ্বেগ

বিগ থ্রি শেষ, এখন টেনিসের দুনিয়ায় রাজত্ব করছে বিগ টু

এক সময় পুরুষ টেনিস মানেই ছিল তিনজনের আধিপত্য। রজার ফেদেরার, রাফায়েল নাদাল ও নোভাক জোকোভিচ মিলিয়ে গড়ে উঠেছিল এক দীর্ঘ শাসনকাল। সেই যুগ এখন অতীত। বর্তমান সময়ে পুরুষ টেনিসে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠছে নতুন বাস্তবতা। বিগ থ্রি নয়, এখন আলোচনায় বিগ টু।

নতুন যুগের দুই মুখ

কার্লোস আলকারাজ ও ইয়ানিক সিনার এখন বিশ্বের এক ও দুই নম্বর খেলোয়াড়। গত আটটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা এই দুজন নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছেন। ধারাবাহিক জয়, মানসিক দৃঢ়তা ও শারীরিক সক্ষমতার দিক থেকে তারা বাকিদের অনেকটাই ছাপিয়ে গেছেন। অস্ট্রেলিয়ান ওপেন শুরু হওয়ার আগেই টেনিস মহলে ধারণা, ফাইনালে আবারও এই দুই তারকাকেই দেখা যেতে পারে।

Year in tennis: 'Sincaraz' rivalry splits men's grand slams while 4 share women's titles | South China Morning Post

ফ্রিটজের স্বীকারোক্তি

দুই বছর আগে টেলর ফ্রিটজ বলেছিলেন, এখন এমন সময় এসেছে যখন যে কেউ ভালো এক সপ্তাহ পেলে বড় সাফল্য পেতে পারে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে নিজের বক্তব্য নিয়েই যেন একটু হাসলেন তিনি। তুরিনে মৌসুম শেষের টুর্নামেন্টে ফ্রিটজ স্পষ্ট করে বলেন, বাস্তবতা বদলে গেছে। এখন আর খোলা মাঠ নয়, বরং দুজনেই পুরো দৃশ্যপট দখল করে রেখেছেন।

চ্যালেঞ্জের মাঝেও আশার আলো

ফ্রিটজ, আলেকজান্ডার জভেরেভ, অ্যালেক্স ডি মিনাউর, বেন শেলটনদের মতো খেলোয়াড়রা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বড় মঞ্চে তারা লড়াই করছেন, সেট জিতছেন, ম্যাচে চাপ তৈরি করছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয় আসছে না। তবু তাদের বিশ্বাস, একক কোনো ম্যাচে এই দুই তারকাকে হারানো অসম্ভব নয়।

Carlos Alcaraz after Wimbledon defeat: My rivalry with Jannik Sinner will only get better | Tennis News | Sky Sports

এক ম্যাচে সব বদলে যেতে পারে

সাবেক বিশ্বসেরা দানিল মেদভেদেভের মতে, দীর্ঘ সময়ে আলকারাজ ও সিনার এগিয়ে থাকবেন, এতে সন্দেহ নেই। তবে এক ম্যাচের হিসাব আলাদা। সেখানে সুযোগ তৈরি হতে পারে। টেলর ফ্রিটজের কোচিং টিমের সদস্য পল আনাকোনও একই কথা বলেন। তার মতে, শ্রেষ্ঠত্ব মানেই অজেয় হওয়া নয়। সঠিক দিনে সেরা খেললে চমক দেখানো সম্ভব।

মানসিক লড়াইই আসল যুদ্ধ

শারীরিক সক্ষমতার পাশাপাশি মানসিক চাপই এখন অনেক খেলোয়াড়ের বড় বাধা। জভেরেভ একাধিক গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনাল হেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। ডি মিনাউরও স্বীকার করেছেন, অতিরিক্ত চাপ তাকে অন্ধকার জায়গায় নিয়ে যায়। সাবেক চ্যাম্পিয়নদের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান প্রজন্ম বুঝতে পারছে, নিজের সীমা না ছাড়িয়ে এগোনোটাই সবচেয়ে জরুরি।

Taylor Frtiz tells Wimbledon opponent to 'have a nice flight home' - Los Angeles Times

জোকোভিচের বাস্তবতা

২৪টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী জোকোভিচও এখন বাস্তবতা মেনে নিচ্ছেন। তার মতে, পাঁচ সেটের ম্যাচে আলকারাজ বা সিনারকে হারিয়ে শিরোপা জেতা আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই চ্যালেঞ্জ আরও বড় হয়ে উঠছে।

হতাশার মধ্যেই প্রেরণা

ক্রীড়া মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই পরিস্থিতিকে সুযোগ হিসেবে দেখাই সঠিক পথ। অসম্ভব মনে হওয়া লক্ষ্যই অনেক সময় খেলোয়াড়দের সেরাটা বের করে আনে। টেনিসে এখন হয়তো আরও অনেক আক্ষেপের হাসি দেখা যাবে। তবু সেই আক্ষেপের ভেতরেই লুকিয়ে আছে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

জীবনের অন্য এক রূপে জোডি ফস্টার, ফ্রান্সে গোপনীয়তাই তাঁর মুক্তি

বিগ থ্রি শেষ, এখন টেনিসের দুনিয়ায় রাজত্ব করছে বিগ টু

০১:৩২:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

এক সময় পুরুষ টেনিস মানেই ছিল তিনজনের আধিপত্য। রজার ফেদেরার, রাফায়েল নাদাল ও নোভাক জোকোভিচ মিলিয়ে গড়ে উঠেছিল এক দীর্ঘ শাসনকাল। সেই যুগ এখন অতীত। বর্তমান সময়ে পুরুষ টেনিসে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠছে নতুন বাস্তবতা। বিগ থ্রি নয়, এখন আলোচনায় বিগ টু।

নতুন যুগের দুই মুখ

কার্লোস আলকারাজ ও ইয়ানিক সিনার এখন বিশ্বের এক ও দুই নম্বর খেলোয়াড়। গত আটটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা এই দুজন নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছেন। ধারাবাহিক জয়, মানসিক দৃঢ়তা ও শারীরিক সক্ষমতার দিক থেকে তারা বাকিদের অনেকটাই ছাপিয়ে গেছেন। অস্ট্রেলিয়ান ওপেন শুরু হওয়ার আগেই টেনিস মহলে ধারণা, ফাইনালে আবারও এই দুই তারকাকেই দেখা যেতে পারে।

Year in tennis: 'Sincaraz' rivalry splits men's grand slams while 4 share women's titles | South China Morning Post

ফ্রিটজের স্বীকারোক্তি

দুই বছর আগে টেলর ফ্রিটজ বলেছিলেন, এখন এমন সময় এসেছে যখন যে কেউ ভালো এক সপ্তাহ পেলে বড় সাফল্য পেতে পারে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে নিজের বক্তব্য নিয়েই যেন একটু হাসলেন তিনি। তুরিনে মৌসুম শেষের টুর্নামেন্টে ফ্রিটজ স্পষ্ট করে বলেন, বাস্তবতা বদলে গেছে। এখন আর খোলা মাঠ নয়, বরং দুজনেই পুরো দৃশ্যপট দখল করে রেখেছেন।

চ্যালেঞ্জের মাঝেও আশার আলো

ফ্রিটজ, আলেকজান্ডার জভেরেভ, অ্যালেক্স ডি মিনাউর, বেন শেলটনদের মতো খেলোয়াড়রা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বড় মঞ্চে তারা লড়াই করছেন, সেট জিতছেন, ম্যাচে চাপ তৈরি করছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয় আসছে না। তবু তাদের বিশ্বাস, একক কোনো ম্যাচে এই দুই তারকাকে হারানো অসম্ভব নয়।

Carlos Alcaraz after Wimbledon defeat: My rivalry with Jannik Sinner will only get better | Tennis News | Sky Sports

এক ম্যাচে সব বদলে যেতে পারে

সাবেক বিশ্বসেরা দানিল মেদভেদেভের মতে, দীর্ঘ সময়ে আলকারাজ ও সিনার এগিয়ে থাকবেন, এতে সন্দেহ নেই। তবে এক ম্যাচের হিসাব আলাদা। সেখানে সুযোগ তৈরি হতে পারে। টেলর ফ্রিটজের কোচিং টিমের সদস্য পল আনাকোনও একই কথা বলেন। তার মতে, শ্রেষ্ঠত্ব মানেই অজেয় হওয়া নয়। সঠিক দিনে সেরা খেললে চমক দেখানো সম্ভব।

মানসিক লড়াইই আসল যুদ্ধ

শারীরিক সক্ষমতার পাশাপাশি মানসিক চাপই এখন অনেক খেলোয়াড়ের বড় বাধা। জভেরেভ একাধিক গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনাল হেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। ডি মিনাউরও স্বীকার করেছেন, অতিরিক্ত চাপ তাকে অন্ধকার জায়গায় নিয়ে যায়। সাবেক চ্যাম্পিয়নদের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান প্রজন্ম বুঝতে পারছে, নিজের সীমা না ছাড়িয়ে এগোনোটাই সবচেয়ে জরুরি।

Taylor Frtiz tells Wimbledon opponent to 'have a nice flight home' - Los Angeles Times

জোকোভিচের বাস্তবতা

২৪টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী জোকোভিচও এখন বাস্তবতা মেনে নিচ্ছেন। তার মতে, পাঁচ সেটের ম্যাচে আলকারাজ বা সিনারকে হারিয়ে শিরোপা জেতা আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই চ্যালেঞ্জ আরও বড় হয়ে উঠছে।

হতাশার মধ্যেই প্রেরণা

ক্রীড়া মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই পরিস্থিতিকে সুযোগ হিসেবে দেখাই সঠিক পথ। অসম্ভব মনে হওয়া লক্ষ্যই অনেক সময় খেলোয়াড়দের সেরাটা বের করে আনে। টেনিসে এখন হয়তো আরও অনেক আক্ষেপের হাসি দেখা যাবে। তবু সেই আক্ষেপের ভেতরেই লুকিয়ে আছে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা।