পর্তুগালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফায় এগিয়ে গেছেন মধ্যপন্থী সমাজতন্ত্রী প্রার্থী আন্তোনিও জোসে সেগুরো। তাঁর পরেই অবস্থান করছেন চরম ডানপন্থী নেতা আন্দ্রে ভেনচুরা। ভোটের ফল অনুযায়ী আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রানঅফ নির্বাচন, যেখানে এই দুই প্রার্থী সরাসরি মুখোমুখি হবেন। প্রায় চার দশক পর পর্তুগালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আবারও রানঅফের প্রয়োজন পড়ায় দেশটির রাজনীতিতে ভাঙনের চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
প্রথম দফার ফলাফল
দেশজুড়ে সব ভোট গণনা শেষে দেখা যায়, সমাজতন্ত্রী সেগুরো পেয়েছেন প্রায় একত্রিশ শতাংশ ভোট। চরম ডানপন্থী দল চেগার নেতা ভেনচুরা পেয়েছেন প্রায় তেইশ শতাংশের বেশি ভোট। ডানপন্থী ব্যবসাবান্ধব দল লিবারাল ইনিশিয়েটিভের প্রার্থী জোয়াও কত্রিম দে ফিগেইরেদো তৃতীয় স্থানে থেকে প্রায় ষোল শতাংশ ভোট অর্জন করেন। মোট এগারো জন প্রার্থী এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

চার দশক পর রান অফ কেন
স্বৈরতান্ত্রিক শাসন অবসানের পর গত পাঁচ দশকে পর্তুগালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মাত্র একবার রান অফ হয়েছিল। দীর্ঘদিন পর আবারও সেই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় বিশ্লেষকেরা বলছেন, মূলধারার রাজনীতির প্রতি ভোটারদের অনীহা এবং চরম ডানপন্থার উত্থান দেশটির রাজনৈতিক মানচিত্রকে ভেঙে দিচ্ছে।
ক্ষমতায় প্রতীকী হলেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
পর্তুগালের প্রেসিডেন্ট পদটি মূলত আনুষ্ঠানিক হলেও এর হাতে রয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ক্ষমতা। বিশেষ পরিস্থিতিতে সংসদ ভেঙে দেওয়া, আকস্মিক সংসদ নির্বাচন ডাকা কিংবা আইন বাতিল করার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের রয়েছে। সে কারণেই এই নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে।
ভেনচুরার চ্যালেঞ্জ ও কৌশল
চরম ডানপন্থী দল চেগা মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই দেশটির প্রধান বিরোধী দলে পরিণত হয়েছে। গত সংসদ নির্বাচনে দলটি উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়ে আলোচনায় আসে। অভিবাসনবিরোধী ও প্রতিষ্ঠিত রাজনীতি বিরোধী অবস্থানের কারণে ভেনচুরা ব্যাপক সমর্থন পেলেও তাঁর বিরুদ্ধে ভোটারদের প্রত্যাখ্যানের হার খুব বেশি। সাম্প্রতিক জনমত জরিপ গুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, এই উচ্চ প্রত্যাখ্যানই রানঅফে তাঁর পরাজয়ের প্রধান কারণ হতে পারে।

তবু আত্মবিশ্বাসী ভেনচুরা রান অফের আগে ডানপন্থীদের একত্র করার ডাক দিয়েছেন। লিসবনে এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পর তিনি সমর্থকদের বলেন, সমাজতন্ত্রী প্রেসিডেন্ট ঠেকাতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন।
অন্যান্য রাজনৈতিক অবস্থান
দেশটির প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টেনেগ্রো জানিয়েছেন, তাঁর মধ্য ডানপন্থী দল রান অফে কোনো প্রার্থীকে সমর্থন দেবে না। অন্যদিকে তৃতীয় হওয়া প্রার্থীও স্পষ্ট করে বলেছেন, তিনি ভেনচুরাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখতে চান না। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই অবস্থান সেগুরোর পথ আরও সহজ করতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















