গুয়াতেমালায় কারাগারে ভিত্তিক সহিংসতা ও গ্যাং তাণ্ডবের পর দেশজুড়ে তীব্র নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয়েছে। একাধিক কারাগারে বন্দিদের বিদ্রোহ, কারারক্ষীদের জিম্মি করা এবং পুলিশের ওপর ধারাবাহিক হামলার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট।
কারাগারে বিদ্রোহ ও জিম্মি নাটক
শনিবার ভোরে গুয়াতেমালার তিনটি পুরুষ কারাগারে একযোগে বিদ্রোহ শুরু করে বন্দিরা। ওই ঘটনায় অন্তত ছেচল্লিশ জন কারারক্ষী ও কারা বিভাগের কর্মীকে জিম্মি করা হয়। সরকারি সূত্র জানায়, এই বিদ্রোহের পেছনে ছিল কুখ্যাত গ্যাং বাহিনীর চাপ, যারা কারাগারের ভেতরে নিজেদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা আদায়ে মরিয়া হয়ে ওঠে।

নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান
দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর নিরাপত্তা বাহিনী রোববার কারাগারের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়। অভিযানের সময় গ্যাংটির শীর্ষ নেতা আলদো ডুপ্পি ওরফে এল লোবোকে আবারও আটক করা হয়। পুলিশের প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, রক্তাক্ত কাঁধ নিয়ে তাকে কারাগার থেকে বের করে আনা হচ্ছে।
পুলিশ হত্যায় দেশজুড়ে আতঙ্ক
কারাগার নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর রাজধানী গুয়াতেমালা সিটি ও আশপাশের এলাকায় পুলিশের ওপর একের পর এক হামলা চালানো হয়। এসব হামলায় অন্তত সাতজন পুলিশ সদস্য নিহত হন এবং আরও দশজন আহত হন। প্রেসিডেন্ট জানান, এটি ছিল গ্যাংগুলোর প্রতিশোধমূলক হামলা, যার উদ্দেশ্য ছিল নিরাপত্তা বাহিনী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি ছড়ানো।

জরুরি অবস্থা ও সেনা মোতায়েন
পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে প্রেসিডেন্ট বার্নার্দো আরেভালো ত্রিশ দিনের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। এই ঘোষণার ফলে পুলিশ ও সেনাবাহিনী পূর্ণ ক্ষমতা নিয়ে গ্যাং সহিংসতা দমনে কাজ করতে পারবে। আইন অনুযায়ী, এই সময়ে সাময়িকভাবে কিছু নাগরিক অধিকার সীমিত করা যেতে পারে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ও সতর্কতা
নিরাপত্তাজনিত কারণে দেশজুড়ে এক দিনের জন্য সব স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পুলিশ প্রধান নাগরিকদের প্রয়োজনে ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বিদেশি নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্টের কড়া বার্তা
জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট বলেন, এই হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতা রাষ্ট্রকে ভয় দেখানোর চেষ্টা হলেও সরকার পিছু হটবে না। তিনি তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেন এবং বলেন, জরুরি অবস্থার মধ্যেও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন যেন স্বাভাবিক থাকে, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক থাকবে।
গ্যাং নেতা এল লোবোর পটভূমি
এল লোবো বর্তমানে প্রায় দুই হাজার বছরের সমপরিমাণ কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তার পারিবারিক যোগাযোগও আলোচনায় এসেছে, কারণ তিনি দেশটির সাবেক প্রথম নারীর পরিবারের সঙ্গে আত্মীয়তায় যুক্ত।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















