১২:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
জিয়ানিসের নতুন গন্তব্য কি মায়ামি? বাকস ছাড়ার জোর গুঞ্জনে সরগরম এনবিএ বিশ্বকাপে ইরানের নাটকীয় শুরু, নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ড্র যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের উত্থান, বাড়ছে অবিশ্বাস ও বিভাজন তালেবান শাসনের পাঁচ বছর: আফগানদের প্রশ্ন, আর কত অপেক্ষা করবে বিশ্ব? হরমুজ সংকটের ধাক্কায় ঋণ ফাঁদে উন্নয়নশীল দেশ, বাড়ছে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ঝুঁকি এনএফএলে হারিয়ে গেলেও সংগ্রাহকদের কাছে অমর ইউএসএফএল, পুরোনো ট্রেডিং কার্ডে বাড়ছে আগ্রহ ইরান টিকে থাকল, বদলে যাচ্ছে উপসাগরীয় শক্তির সমীকরণ শহরে ঢুকে পড়ছে ভালুক, বাড়ছে আতঙ্ক: মানুষের ভয় হারাচ্ছে বন্য প্রাণী হরমুজ প্রণালি খুলছে, কিন্তু তেলবাহী জাহাজে এখনো কাটেনি অনিশ্চয়তা মেসির হ্যাটট্রিক, মেসির রেকর্ড, মেসির চোখে জল

লিবিয়ার গোপন কারাগার থেকে উদ্ধার দুই শতাধিক অভিবাসী, মানবতাবিরোধী অপরাধের ভয়াবহ চিত্র

লিবিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কুফরা শহরে এক গোপন কারাগার থেকে দুই শতাধিক অভিবাসীকে মুক্ত করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, দীর্ঘ সময় ধরে অমানবিক পরিবেশে বন্দি রাখা এই অভিবাসীদের অনেকেই নারী ও শিশু, যাদের কেউ কেউ টানা দুই বছর পর্যন্ত মাটির নিচের সেলে আটকে ছিলেন।

গোপন কারাগারের সন্ধান
নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে কুফরা শহরের ভেতরে প্রায় তিন মিটার গভীর একটি ভূগর্ভস্থ কারাগারের সন্ধান মেলে। সূত্র জানায়, এই কারাগারটি এক লিবীয় মানবপাচারকারীর নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছিল। তবে অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি গ্রেপ্তার হননি।

যেভাবে 'গোপন কারাগার' থেকে লিবিয়ায় মুক্ত দুই শতাধিক অভিবাসী | | বাংলাদেশ  প্রতিদিন

অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ
নিরাপত্তা সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদের অনেককে বছরের পর বছর ধরে আলোবিহীন সংকীর্ণ সেলে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। তাদের খাদ্য, চিকিৎসা ও মৌলিক মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়। অভিযানে যে চিত্র সামনে এসেছে, তা এই অঞ্চলে প্রকাশ পাওয়া সবচেয়ে গুরুতর মানবতাবিরোধী অপরাধগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেছেন তারা।

কারা এই অভিবাসীরা
মুক্ত হওয়া অভিবাসীরা মূলত সাব-সাহারান আফ্রিকার দেশগুলোর নাগরিক। তাদের মধ্যে সোমালিয়া ও ইরিত্রিয়ার নাগরিকদের সংখ্যা বেশি। নারী ও শিশুদের উপস্থিতি এই ঘটনাকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

লিবিয়ায় গোপন ভূগর্ভস্থ কারাগার থেকে বাংলাদেশী সহ ২০০-এর বেশি অভিবাসী  উদ্ধার » পিবিএন টিভি ২৪

লিবিয়া কেন অভিবাসীদের ঝুঁকিপূর্ণ গন্তব্য
দীর্ঘদিন ধরে লিবিয়া আফ্রিকা থেকে ইউরোপে যাওয়ার একটি প্রধান ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। গাদ্দাফি সরকারের পতনের পর দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। মরুভূমি ও ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় হাজারো মানুষ লিবিয়ায় আসে। তেলের অর্থনীতিও দরিদ্র অভিবাসীদের কাজের আশায় টেনে আনে, কিন্তু দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে তারা সহজেই পাচারকারী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর নির্যাতনের শিকার হয়।

Libye : MSF peut de nouveau travailler auprès des migrants dans les centres  de détention de Tripoli | Médecins sans frontières

 

গণকবর ও বিচার প্রক্রিয়া
এই উদ্ধার অভিযানের এক সপ্তাহ আগেই পূর্ব লিবিয়ায় একটি গণকবর থেকে অন্তত একুশ জন অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই দলের কয়েকজন জীবিত ব্যক্তি মুক্তির পর জানিয়েছেন, বন্দি অবস্থায় তাদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হয়েছিল। লিবিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর জানিয়েছে, গণকবরের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক আসামিকে বিচারের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আগের ভয়াবহ নজির
এর আগেও কুফরা শহরে এমন ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে সেখানে প্রায় পঞ্চান্নটি গণকবর থেকে ঊনচল্লিশ জন অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই শহরে ২০২৩ সালে সুদানে সংঘাত শুরু হওয়ার পর আশ্রয় নেওয়া হাজার হাজার সুদানি শরণার্থীও অবস্থান করছে, যা এলাকাটিকে মানবিক সংকটের কেন্দ্রে পরিণত করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জিয়ানিসের নতুন গন্তব্য কি মায়ামি? বাকস ছাড়ার জোর গুঞ্জনে সরগরম এনবিএ

লিবিয়ার গোপন কারাগার থেকে উদ্ধার দুই শতাধিক অভিবাসী, মানবতাবিরোধী অপরাধের ভয়াবহ চিত্র

০২:৩৮:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

লিবিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কুফরা শহরে এক গোপন কারাগার থেকে দুই শতাধিক অভিবাসীকে মুক্ত করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, দীর্ঘ সময় ধরে অমানবিক পরিবেশে বন্দি রাখা এই অভিবাসীদের অনেকেই নারী ও শিশু, যাদের কেউ কেউ টানা দুই বছর পর্যন্ত মাটির নিচের সেলে আটকে ছিলেন।

গোপন কারাগারের সন্ধান
নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে কুফরা শহরের ভেতরে প্রায় তিন মিটার গভীর একটি ভূগর্ভস্থ কারাগারের সন্ধান মেলে। সূত্র জানায়, এই কারাগারটি এক লিবীয় মানবপাচারকারীর নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছিল। তবে অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি গ্রেপ্তার হননি।

যেভাবে 'গোপন কারাগার' থেকে লিবিয়ায় মুক্ত দুই শতাধিক অভিবাসী | | বাংলাদেশ  প্রতিদিন

অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ
নিরাপত্তা সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদের অনেককে বছরের পর বছর ধরে আলোবিহীন সংকীর্ণ সেলে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। তাদের খাদ্য, চিকিৎসা ও মৌলিক মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়। অভিযানে যে চিত্র সামনে এসেছে, তা এই অঞ্চলে প্রকাশ পাওয়া সবচেয়ে গুরুতর মানবতাবিরোধী অপরাধগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেছেন তারা।

কারা এই অভিবাসীরা
মুক্ত হওয়া অভিবাসীরা মূলত সাব-সাহারান আফ্রিকার দেশগুলোর নাগরিক। তাদের মধ্যে সোমালিয়া ও ইরিত্রিয়ার নাগরিকদের সংখ্যা বেশি। নারী ও শিশুদের উপস্থিতি এই ঘটনাকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

লিবিয়ায় গোপন ভূগর্ভস্থ কারাগার থেকে বাংলাদেশী সহ ২০০-এর বেশি অভিবাসী  উদ্ধার » পিবিএন টিভি ২৪

লিবিয়া কেন অভিবাসীদের ঝুঁকিপূর্ণ গন্তব্য
দীর্ঘদিন ধরে লিবিয়া আফ্রিকা থেকে ইউরোপে যাওয়ার একটি প্রধান ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। গাদ্দাফি সরকারের পতনের পর দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। মরুভূমি ও ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় হাজারো মানুষ লিবিয়ায় আসে। তেলের অর্থনীতিও দরিদ্র অভিবাসীদের কাজের আশায় টেনে আনে, কিন্তু দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে তারা সহজেই পাচারকারী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর নির্যাতনের শিকার হয়।

Libye : MSF peut de nouveau travailler auprès des migrants dans les centres  de détention de Tripoli | Médecins sans frontières

 

গণকবর ও বিচার প্রক্রিয়া
এই উদ্ধার অভিযানের এক সপ্তাহ আগেই পূর্ব লিবিয়ায় একটি গণকবর থেকে অন্তত একুশ জন অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই দলের কয়েকজন জীবিত ব্যক্তি মুক্তির পর জানিয়েছেন, বন্দি অবস্থায় তাদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হয়েছিল। লিবিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর জানিয়েছে, গণকবরের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক আসামিকে বিচারের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আগের ভয়াবহ নজির
এর আগেও কুফরা শহরে এমন ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে সেখানে প্রায় পঞ্চান্নটি গণকবর থেকে ঊনচল্লিশ জন অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই শহরে ২০২৩ সালে সুদানে সংঘাত শুরু হওয়ার পর আশ্রয় নেওয়া হাজার হাজার সুদানি শরণার্থীও অবস্থান করছে, যা এলাকাটিকে মানবিক সংকটের কেন্দ্রে পরিণত করেছে।