[দুই চিপের নকশা ও ভয়েস‑ভিত্তিক বৈশিষ্ট্য]
চীনা স্টার্ট‑আপ রোকিড লাস ভেগাসের কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স শোতে এমন এক স্মার্টগ্লাস প্রদর্শন করেছে যাতে কোনো স্ক্রিন নেই, বরং ভয়েস কমান্ড ও অডিও আউটপুটের মাধ্যমে তথ্য সরবরাহ করে। মাত্র ৩৮.৫ গ্রাম ওজনের ‘স্টাইল’ নামের এই চশমায় দুটি প্রসেসর রয়েছে: একটি এনএক্সপি আরটি৬০০ চিপ ওয়েক‑ওয়ার্ড শনাক্তকরণ ও ব্লুটুথ সংযোগের মতো নিম্ন‑শক্তির কাজের জন্য, আর কোয়ালকম এআর১ চিপ চ্যাটজিপিটি ও ডিপসিকের মতো ভাষা মডেল চালায়, ফলে এক চার্জে ১২ ঘন্টা পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়। ব্যবহারকারী স্ক্রিনের দিকে তাকাতে না গিয়েও প্রশ্ন করতে, বার্তা টাইপ করতে, গুগল ম্যাপসের মাধ্যমে নির্দেশনা জানতে ও ট্রান্সলেশনের জন্য অনুরোধ করতে পারে। মাইক্রোসফটের অংশীদারত্বে রিয়েল‑টাইম অনুবাদ ফিচার যুক্ত করা হয়েছে, যা কানে অন্য ভাষায় ফিসফিস করে অনুবাদ শুনিয়ে দেয়। চশমায় প্রেসক্রিপশন লেন্স লাগানোর সুবিধা আছে এবং অস্থি পরিবাহী স্পিকার ব্যবহার করে যাতে কান খোলা থাকে।
হার্ডওয়্যারের দিক থেকে এতে রয়েছে ১২ মেগাপিক্সেলের সনি সেন্সর যা ৪কে ভিডিও ১০ মিনিট পর্যন্ত রেকর্ড করতে পারে—মেটা রে‑ব্যান স্টোরিজে যেখানে ভিডিও মাত্র তিন মিনিটের, সেখানে এটি বড় অগ্রগতি। একটি বুদ্ধিমান অ্যালগরিদম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ল্যান্ডস্কেপ ও পোর্ট্রেট মোডে অনুপাত ঠিক করে, ফলে সোশাল মিডিয়ায় ভিডিও পোস্ট করা সহজ। অতি পাতলা, আঁচর‑রোধী লেন্স ও ম্যাট ফিনিশ চশমাটিকে সাধারণ ফ্রেমের মতো দেখায়, ফলে গুগল গ্লাসের মতো সামাজিক অস্বস্তি থাকছে না। ১৯ জানুয়ারি বিশ্বব্যাপী বাজারে আসা ডিভাইসের দাম ৩০০ ডলার; মাত্র ১ ডলার আমানত দিয়ে এখনই বুকিং দেওয়া যায়, আর দৃষ্টিশক্তিহীন ব্যবহারকারীদের জন্য ২০ ডলার ছাড় রয়েছে। বিশ্লেষকেরা মনে করেন, স্ক্রিন ছাড়াই এই ডিভাইস অডিও‑ভিত্তিক ওয়্যারেবলের যুগে প্রবেশের সেতু নির্মাণ করছে। কোম্পানিটি ভবিষ্যতে একটি অ্যাপ মার্কেটপ্লেস চালু করার পরিকল্পনা করেছে, যেখানে স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ, গেম ও কেনাকাটার ফিচার যোগ করা যাবে, ফলে ডিভাইসটি আরও বহুমুখী হবে।

[এআই ওয়্যারেবলের ভবিষ্যৎ ও প্রভাব]
রোকিডের স্ক্রিনহীন উদ্যোগ দেখাচ্ছে কিভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্রুত মোবাইল ও ল্যাপটপ থেকে দৈনন্দিন বস্তুর মধ্যে প্রবেশ করছে। কোম্পানিটি আশা করছে, স্ক্রিন বাদ দিয়ে তারা গোপনীয়তা ও নান্দনিকতাবিষয়ক উদ্বেগ দূর করতে পারবে। ডিভাইসটির সেন্সর মুখভঙ্গি ও ঠোঁট নড়াচড়া শনাক্ত করতে পারে, যা ভবিষ্যতে নিঃশব্দ কমান্ডের পথ খুলে দেবে। প্রাথমিক ব্যবহারকারীরা হাড় পরিবাহিত স্পিকার ও মাইক্রোফোনের মানের প্রশংসা করছেন; ভিড়ের মধ্যে নিয়ন্ত্রণের জন্য ডিভাইসটি আশপাশের শব্দ বিশ্লেষণ করে। তবে সব সময় মাইক্রোফোন খোলা থাকার কারণে গোপনীয়তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, ডেটা ব্যবহারের নীতি স্বচ্ছ না হলে নজরদারি ঝুঁকি থাকবে। রোকিড বলেছে, বেশিরভাগ ভয়েস প্রক্রিয়াকরণ স্থানীয়ভাবে হয় এবং ক্লাউড প্রশ্নগুলো এনক্রিপ্ট করা, কিন্তু বিস্তারিত তথ্য এখনও অল্প। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো এআই ওয়্যারেবলের জন্য নির্দেশিকা তৈরি করছে, যা ভবিষ্যতে কোম্পানিগুলোকে অডিট ও স্পষ্ট সম্মতি নিতে বাধ্য করতে পারে।
স্টাইলের সফলতা নির্ধারণ করবে মানুষ ambient computing গ্রহণ করবে কি না। অ্যাপল, মেটা এবং অন্যান্য কোম্পানি স্মার্ট রিং, ইয়ারবাড ও ক্লিপ‑অন পিনের মতো ডিভাইস নিয়ে পরীক্ষা করছে। ক্রেতারা যদি ভয়েস‑ভিত্তিক ডিভাইস পছন্দ করেন, তাহলে স্মার্টফোনের যুগ সরে গিয়ে আরও কথোপকথন‑ভিত্তিক কম্পিউটিং আসতে পারে; যদি না পছন্দ করেন, তবে এসব পণ্য কেবল উৎসুক ব্যবহারকারীদের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে। রোকিড মনে করছে দীর্ঘ ব্যাটারি লাইফ, বড় ভিডিও রেকর্ডিং ও বহু এআই ইঞ্জিন তাদের বাজারে এগিয়ে রাখবে। প্রযুক্তি পর্যবেক্ষকদের ধারণা, সফটওয়্যার‑হার্ডওয়্যার সমন্বয় করে অদৃশ্যভাবে এআই ব্যবহার করার প্রবণতা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। স্টাইল এই প্রবণতার একটি উদাহরণ—যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সর্বত্র কিন্তু চশমাটি দৃষ্টিগোচর।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















