সংযুক্তির পথে পরিবারকে কেন্দ্র করে নতুন বছরের সূচনা করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ২০২৬ সালকে ‘পরিবারের বছর’ ঘোষণা করে দেশটি জানিয়ে দিয়েছে, সামাজিক অগ্রগতির কেন্দ্রবিন্দুতে এবার পরিবার। ‘ঐক্যে বেড়ে ওঠা’ শিরোনামে এই জাতীয় উদ্যোগের লক্ষ্য হলো পারিবারিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করা, পারস্পরিক যত্ন ও উপস্থিতির মধ্য দিয়ে আত্মবিশ্বাসী প্রজন্ম গড়ে তোলা।
পরিবারের জন্য জাতীয় অঙ্গীকার
সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ সালের ‘পরিবারের বছর’ কর্মসূচি উদ্বোধন করে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার। এটি ‘উদ্যোগের বছর’ কাঠামোর অধীনে নেওয়া একটি জাতীয় প্রয়াস, যার উদ্দেশ্য দেশটিতে বসবাসকারী সবার জন্য সম্মিলিত উদ্যোগকে উৎসাহিত করা। রাষ্ট্রপতি শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান-এর নির্দেশনায় এই কর্মসূচি পরিবারকে স্থিতিশীলতা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
ঘরের ভেতরের ছোট গল্প, বড় পরিচয়
এই উদ্যোগে বলা হয়েছে, প্রতিটি ঘরেই থাকে পরিচয়ের ছোট ছোট চিহ্ন। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসা একটি গহনা, পুরোনো পোশাকের কাপড়ের টুকরো কিংবা দাদির বসে থাকা একটি চেয়ার। এসব সাধারণ জিনিসের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে অতীতের কণ্ঠস্বর। পরিবারকে আবারও মনে করিয়ে দেওয়াই এই বছরের মূল ভাবনা—আমাদের কী একত্র করে রাখে।
টেকসই অগ্রগতির পথে পরিবার
রাষ্ট্রপতি জোর দিয়ে বলেছেন, দেশে বসবাসকারী সবার জন্য দীর্ঘমেয়াদি অগ্রগতি নিশ্চিত করতে নীতিনির্ধারণ ও কর্মসূচিতে বিনিয়োগ অব্যাহত থাকবে। ‘পরিবারের বছর’ উপলক্ষে সরকার তিনটি কৌশলগত অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছে, যেখানে পরিবারকে বাস্তব সহায়তা ও স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট মুহূর্তই যে পারিবারিক কল্যাণ গড়ে তোলে, সেটিই সামনে আনা হয়েছে এই উদ্যোগে।

পুনঃসংযোগের আহ্বান
উদ্যোগের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, পরিবার যত্ন, সংযোগ ও নিয়মিত উপস্থিতির মধ্য দিয়েই বেড়ে ওঠে। এই বছর মানুষকে থামতে, আবার সম্পর্কের দিকে ফিরতে এবং ঘর ও সমাজকে গড়ে তোলা সম্পর্কগুলোর যত্ন নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে শুধু পরিবার নয়, পুরো সমাজের ভবিষ্যৎ শক্তিশালী হয়।
অভিভাবকদের বাস্তব চ্যালেঞ্জ
এই কর্মসূচিতে আজকের অভিভাবকদের চাপের কথাও স্বীকার করা হয়েছে। দ্রুতগতির জীবন, সামাজিক প্রত্যাশা আর সবকিছু নিখুঁত করার চেষ্টা পরিবারে চাপ তৈরি করে। উদ্যোগটি মনে করিয়ে দেয়, নিখুঁত হওয়াই লক্ষ্য নয়। ভুল, শেখা আর খোলা মনে একে অপরের কথা শোনার মধ্য দিয়েই পরিবার বিকশিত হয়। এই পরিবেশই ভবিষ্যতের আত্মবিশ্বাসী ও সক্ষম প্রজন্মের ভিত্তি তৈরি করে।
আজকের যত্ন, আগামীর শক্তি
‘পরিবারের বছর’ বার্তা দিচ্ছে, আজ পরিবারে যে যত্ন, সংযোগ ও একসঙ্গে থাকার চর্চা গড়ে ওঠে, সেটিই আগামী দিনে শক্তিশালী সমাজ ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র নির্মাণ করে। শিশুদের মধ্যে যে অভ্যাস ও মূল্যবোধ তৈরি হয়, তা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই পারিবারিক উন্নয়নের ভিত্তি হয়ে ওঠে।
দীর্ঘ ধারাবাহিক উদ্যোগ
২০১৫ সাল থেকে ‘উদ্যোগের বছর’ কর্মসূচির মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত বিভিন্ন জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে সমাজকে যুক্ত করে আসছে। উদ্ভাবন, পাঠ, দান, সহনশীলতা, প্রস্তুতি, টেকসই উন্নয়ন ও সম্প্রদায়—এই ধারাবাহিকতার সর্বশেষ সংযোজন হলো ‘পরিবারের বছর’ ২০২৬। কর্মসূচিটির তত্ত্বাবধানে রয়েছেন শেখ মনসুর বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ও শেখা মরিয়ম বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান।
Sarakhon Report 


















