বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমানের আয়ের উৎস, ব্যক্তিগত ব্যয় এবং নির্বাচনি প্রচারণার অর্থায়ন নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। সোমবার রাতের দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া একটি দীর্ঘ ভিডিও বক্তব্যে তিনি এসব বিষয় তুলে ধরেন।
তারেক রহমানের অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন
ভিডিও বার্তায় হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর তারেক রহমান দেশে ফিরেছেন। এই সময়ে তিনি কীভাবে জীবনযাপন করছেন, তার বিশাল শোডাউন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বিপুল অর্থ কোথা থেকে আসছে—এসব জানার অধিকার জনগণের রয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো মহল থেকেই প্রশ্ন তোলা হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নিরাপত্তা ও শোডাউন প্রসঙ্গে দ্বৈত মানদণ্ডের অভিযোগ
হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন, অতীতে ছাত্রনেতাদের নিরাপত্তা নিয়ে টকশো ও আলোচনায় একতরফা সমালোচনা দেখা গেছে। অথচ এখন তারেক রহমানের বড় গাড়িবহর, জ্বালানি ও নিরাপত্তা ব্যয়ের উৎস নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠছে না। এই নীরবতাকে তিনি প্রশ্নবিদ্ধ বলে উল্লেখ করেন।
নির্বাচনি মিডিয়া কমিটিতে সাংবাদিক অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বিতর্ক
ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের নির্বাচনি মিডিয়া কমিটিতে ৪৯ জন পেশাদার সাংবাদিককে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিও কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের ব্যানারে সাংবাদিকদের নাম অন্তর্ভুক্ত হলে তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠে। ওই সাংবাদিকরা বিএনপির কর্মী হিসেবে কাজ করবেন নাকি নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকের ভূমিকায় থাকবেন, সেটি স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, ওই সাংবাদিকরা নির্বাচন কমিশনের কার্ড ব্যবহার করবেন নাকি বিএনপির পরিচয়পত্র নিয়ে কাজ করবেন—এই বিষয়টি পরিষ্কার করা জরুরি। তার মতে, এটি সাংবাদিকতার জন্য একটি নেতিবাচক দৃষ্টান্ত।

গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বিগত সরকারের সময়ে যেসব সংবাদমাধ্যম তারেক রহমানকে ‘ভারতের চর’ বা ‘পলাতক ষড়যন্ত্রকারী’ হিসেবে উপস্থাপন করেছিল, তারাই এখন আবার তার ঘনিষ্ঠ হওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। তিনি এটিকে নীতিগত অবস্থানহীনতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবের কর্মীদের বিরুদ্ধে যারা আগে চরিত্রহননের চেষ্টা চালিয়েছিল, তারাই এখন নতুন করে সাংবাদিকতার কার্ড তৈরির উদ্যোগ নিচ্ছে, যা গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার আহ্বান
ভিডিও বার্তার শেষাংশে সাংবাদিকদের উদ্দেশে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, গত দেড় বছরে যেভাবে তাদের বিরুদ্ধে নানা প্রশ্ন তোলা হয়েছে, ঠিক একইভাবে তারেক রহমানের আয়ের উৎস ও ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন তোলা উচিত। প্রশ্ন তোলার ক্ষেত্রে যদি বাছাই বা পক্ষপাত থাকে, তাহলে নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা নিজেই প্রশ্নের মুখে পড়বে বলে তিনি সতর্ক করেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















