পদ্মা সেতু নির্মাণের বিপুল ব্যয় মেটাতে গিয়ে দেশের চালের দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তাঁর দাবি, এই অর্থ সেতুর বদলে সেচ ব্যবস্থায় খরচ হলে চালের দাম অন্তত ৫ টাকা কম রাখা যেত।
পদ্মা সেতু ও চালের দামের যোগসূত্র
সোমবার সন্ধ্যায় নেত্রকোনার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গণভোট বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর দায় পরিশোধ করতে গিয়েই চালসহ নিত্যপণ্যের দামে বড় চাপ পড়েছে। অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষকেই বইতে হচ্ছে।

ব্যয়ের উদ্বৃত্ত না থাকলে নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত
তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় যদি ব্যয়ের উদ্বৃত্ত তৈরি না করা যায়, তাহলে সেটি ভবিষ্যতে বড় সমস্যার জন্ম দেয়। যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক, নাগরিকদের দাবি তোলার সময় দেখতে হবে রাষ্ট্রের ব্যয়ের সক্ষমতা আছে কি না। তা না হলে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বড় প্রকল্প নিয়ে তীব্র সমালোচনা
শেখ বশিরউদ্দীন অভিযোগ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অহেতুক বহু বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছিলেন। তাঁর মতে, অধিকাংশ স্থলবন্দর ও বড় প্রকল্পের বাস্তব কোনো প্রয়োজন ছিল না, কার্যকারিতাও ছিল সীমিত। হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও সেগুলোর মাধ্যমে আয় বাড়ানোর চিন্তা করা হয়নি। ব্যয় বাড়ানোই ছিল তখনকার সরকারের মূল লক্ষ্য বলে তিনি দাবি করেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের লক্ষ্য কী
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্য ব্যয় বাড়ানো নয়, বরং আয়ের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা। ব্যয় নয়, আয় বৃদ্ধির দিকেই বর্তমান সরকারের নজর রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের আহ্বান
গণভোট প্রসঙ্গে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, জনগণ যদি ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়, তাহলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরে আসবে এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথ তৈরি হবে। তখন যে দলের জনসমর্থন বেশি, সেই দলই নির্বাচিত হবে। অন্যথায় আগের মতো ক্ষমতাসীনরা পদে থেকে নির্বাচন পরিচালনা করবে, যেখানে ভোটার উপস্থিতি অর্থহীন হয়ে পড়বে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উঠান বৈঠকে অংশগ্রহণ
এর আগে বিকেলে তিনি সদর উপজেলার হিরণপুর গ্রামে এক উঠান বৈঠকে অংশ নেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করা এবং জনসচেতনতা বাড়াতেই জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















