সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সুস্থ জীবনধারা গড়ে তুলতে ঘরে তৈরি খাবারের ওপর নতুন কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। স্থূলতা ও দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি কমানো, পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ও শিক্ষাগত সক্ষমতা বাড়াতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীরা বাড়ি থেকে কিছু নির্দিষ্ট ধরনের খাবার স্কুলে আনতে পারবে না। স্কুল প্রশাসনের মতে, অতিরিক্ত চর্বি, লবণ ও চিনি সমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত গ্রহণ শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

কোন খাবারগুলো নিষিদ্ধ
স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রক্রিয়াজাত মাংসজাত খাবার যেমন সসেজ, মর্টাডেলা, লাঞ্চন মিট ও বার্গার শিক্ষার্থীদের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এসব খাবারে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও সোডিয়ামের মাত্রা বেশি থাকায় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। তাৎক্ষণিক নুডলসও নিষিদ্ধ তালিকায় রয়েছে, কারণ এতে অতিরিক্ত লবণ ও শিল্পজাত চর্বি থাকে।
মিষ্টিজাত খাবারের ক্ষেত্রেও কঠোরতা দেখানো হয়েছে। ললিপপ, চিনিযুক্ত ক্যান্ডি, তৈরি মিষ্টান্ন এবং চকলেট স্প্রেড স্কুলে আনা যাবে না। এসব খাবারে অতিরিক্ত চিনি ও চর্বি থাকায় শিশুদের জন্য ক্ষতিকর বলে মনে করা হচ্ছে।
অ্যালার্জি ও পানীয় সংক্রান্ত সতর্কতা

অ্যালার্জির ঝুঁকি এড়াতে বাদাম বা চিনাবাদামযুক্ত চকলেট বার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কার্বনেটেড পানীয়, এনার্জি ড্রিংক ও প্রক্রিয়াজাত জুসও শিক্ষার্থীদের জন্য অনুমোদিত নয়। ভাজা আলু, আলুর চিপস ও ভুট্টার তৈরি ঝাল খাবারও নিষিদ্ধ তালিকায় রাখা হয়েছে।
ক্যান্টিনে মিলছে স্বাস্থ্যকর বিকল্প
আবুধাবির স্কুল ক্যান্টিনগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত ও বৈচিত্র্যময় খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এখানে পনির বা জাটার দেওয়া বেক করা পেস্ট্রি, মানাকিশ ও সবজি পেস্ট্রি পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি গ্রিল করা মুরগি বা পনিরের স্যান্ডউইচ, তাজা ফল যেমন আপেল ও কলা, শসা ও গাজরের স্টিকও রয়েছে। কম চর্বিযুক্ত দুধজাত খাবার এবং শতভাগ প্রাকৃতিক চিনি ছাড়া ফলের রসও শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা হচ্ছে।

অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান
সরকারি ও বেসরকারি স্কুল প্রশাসন অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেন। ঘরে তৈরি স্বাস্থ্যকর স্যান্ডউইচ, তাজা ফল ও প্রাকৃতিক পানীয় শিশুদের স্কুলে পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের মতে, এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের ক্লাসে মনোযোগ বাড়াবে এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ জীবনধারা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















