সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ধাফরা অঞ্চলে শুরু হয়েছে বই ও সংস্কৃতির এক বিশাল আয়োজন। মাদিনাত জায়েদ সিটি পার্কে সোমবার শুরু হওয়া আল ধাফরা বই উৎসব চলবে পঁচিশ জানুয়ারি পর্যন্ত। উৎসবটি আয়োজন করা হয়েছে আল ধাফরা অঞ্চলের শাসক প্রতিনিধিত্বকারী শেখ হামদান বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের পৃষ্ঠপোষকতায়। এবারের উৎসবের মূল ভাবনা আল ধাফরা, একটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উদযাপন।
সংস্কৃতি ও জ্ঞানের মেলবন্ধন
আবুধাবি আরবি ভাষা কেন্দ্রের উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসব সংস্কৃতিকে সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরছে। ঐতিহ্যের শিকড়ের সঙ্গে ভবিষ্যতের স্বপ্নকে যুক্ত করাই এই আয়োজনের লক্ষ্য। পাঠাভ্যাসকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তোলা এবং জ্ঞানভিত্তিক সক্রিয় সমাজ গঠনের যে জাতীয় লক্ষ্য, এই উৎসব তারই প্রতিফলন।

পরিবারের বছরে বিশেষ গুরুত্ব
দুই হাজার ছাব্বিশ সালকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পরিবার বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে এবারের আল ধাফরা বই উৎসবে পরিবারকে রাখা হয়েছে কেন্দ্রবিন্দুতে। সংস্কৃতি ও জ্ঞানের মাধ্যমে পারিবারিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করার উদ্দেশ্যে সাজানো হয়েছে বিস্তৃত কর্মসূচি, যেখানে সব বয়সের মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
ত্রিশ হাজার বইয়ের সমাহার
উৎসবে একশ দশটি প্রদর্শকের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে ত্রিশ হাজারের বেশি বই। আগের আসরের তুলনায় প্রকাশক অংশগ্রহণ বেড়েছে প্রায় দশ শতাংশ। এতে স্পষ্ট হচ্ছে, আল ধাফরা বই উৎসব ধীরে ধীরে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক গন্তব্যে পরিণত হচ্ছে।
শত শত আয়োজন, নানা অভিজ্ঞতা
এই উৎসবে রয়েছে তিন শত পঁচাত্তরটি সাংস্কৃতিক, শিক্ষামূলক ও বিনোদনমূলক আয়োজন। মূল ভেন্যুর পাশাপাশি পুরো আল ধাফরা অঞ্চলে চালু করা হয়েছে তিনটি ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগার, যা বইয়ের সহজ প্রাপ্যতা বাড়াচ্ছে এবং দৈনন্দিন জীবনে আরবি ভাষার ব্যবহারকে আরও শক্তিশালী করছে।

ঐতিহ্য, কবিতা ও পরিচয়ের গল্প
আবুধাবি আরবি ভাষা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান আলি বিন তামিম জানিয়েছেন, এই উৎসব ঐতিহ্য ও সামাজিক মূল্যবোধের ওপর দাঁড়িয়ে একটি আদর্শ সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্মে রূপ নিচ্ছে। এবারের আসরে পাঠকে পারিবারিক অভিজ্ঞতা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে সমসাময়িক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা, মৌখিক ঐতিহ্যকে ঘিরে কবিতার আসর এবং হাদিরাত বাইনুনাহর মতো উদ্যোগের মাধ্যমে আমিরাতের পরিচয়, ঐতিহ্য ও গল্প বলার সংস্কৃতি তুলে ধরা হচ্ছে।
শিশু ও তরুণদের জন্য আলাদা আকর্ষণ
উৎসবে শিশু ও তরুণদের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কর্মশালা, নাট্য পরিবেশনা ও শিক্ষামূলক নানা কার্যক্রমের মাধ্যমে সৃজনশীলতা, শেখার আনন্দ এবং আরবি ভাষা ও জাতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে তাদের সংযোগ আরও গভীর করার চেষ্টা করা হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















