সেই “বাসাতে” ক্যাপ্টেন চার্লস উডওয়ার্ড এবং ক্যাপ্টেন চার্লি কেলিসহ আরো ষোলোজন পাইলট থাকতেন…
জয়েন করার পরে, লয়েড আবিস্কার করেন যে তেজগাঁও ঘাঁটির সব কয়টি বিমানই “সি-১০৯” কার্গো বিমান। জ্বালানি ও অন্যান্য সাপ্লাই পরিবহণের জন্য “বি-২৪” বোমারু বিমানকে পরিবর্তিত করে “সি-১০৯” কার্গো বিমান তৈরি হয়েছিল। বাস্তবে, সেসময়ে কেবলমাত্র তেজগাঁও এবং ভারতের “চাবুয়া” বিমান ঘাঁটিতে “সি-১০৯” ব্যবহার হতো।
লয়েডের বক্তব্য অনুযায়ী, সেসময়ে মার্কিন ২০তম এয়ারফোর্সের পাইলটরা চীনে পার্ক করে রাখা “বি-২৯” বোমারু বিমানের জন্য “সি-১০৯” কার্গো বিমান ভর্তি জ্বালানি পরিবহণ করতেন। “বেঙ্গল উইং” সৃষ্টি হওয়ার পরে জ্বালানি পরিবহণের দায়িত্ব এয়ার ট্রান্সপোর্ট কমান্ডের অধীনে চলে আসে এবং এর পাইলটরা জ্বালানি পরিবহণের দায়িত্ব পালন করেন।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উইলিয়াম টানার, নিজের অফিসে।
“বি-২৯” বোমারু বিমান বহর ছিল “অপারেশন ম্যাটারহণ”-এর অংশ; এইসব বোমারু বিমান চীনে অবস্থিত ঘাঁটিগুলো থেকে বোমাবর্ষণ মিশনে যেতো- জাপানের অধিকৃত চীনা ভূ-খণ্ডে তো বটেই এমনকি জাপানের দক্ষিণতম দ্বীপগুলোও বাদ যেতো না। যেহেতু জাপানিরা তখন চীন অবরোধ করে রেখেছিল তাই “অপারেশন ম্যাটারহর্ণ”-এর প্রয়োজনীয় সব সাপ্লাই চীনে পাঠাতে হিমালয় পর্বতমালার “হাম্প” পেরোতে হতোই হতো, কারণ ভারতবর্ষ থেকে সাপ্লাই পাঠানো ছাড়া অন্য কোনো সম্ভাব্য উপায় ছিল না।
তেজগাঁও অবস্থানকালে লয়েড “বাসা নং ৯৬”-এ থাকতেন, একা নয়, সেই “বাসাতে” ক্যাপ্টেন চার্লস উডওয়ার্ড এবং ক্যাপ্টেন চার্লি কেলিসহ আরো ষোলোজন পাইলট থাকতেন। এই “বাসা” ছিল বাসাবাড়ির সুবিধাদিসহ আর সব বাসার মতো, সে সময়ে তেজগাঁও এবং অন্য সব সামরিক ঘাঁটিতে “বাসা”য় থাকার ব্যবস্থা ছিল।
“বাসা”র নির্মাণ পদ্ধতি ছিল এরকম: বাঁশের তৈরি ফ্রেম, পাতলা চিকন করে কাটা বাঁশ দিয়ে বোনা ‘চাটাই’-য়ের দেয়াল, ছাদ ছিল বৃষ্টি প্রতিরোধক শুকনো খড় দিয়ে ছাওয়া। ঘরের মেঝে ছিল আলগাভাবে ইট বসিয়ে। বিছানা বলতে ছিল- সাদামাটাভাবে সমান্তরালে আড়াআড়িভাবে হাতে তৈরি রশি দিয়ে তৈরি ‘খাটের’ মূল ফ্রেম, অনেকটা খাটিয়ার মতো। তুলার তোষক।
(চলবে)
নাঈম হক 


















