ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভবিষ্যৎ স্বাধীনতা ঘিরে এক গুরুত্বপূর্ণ শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর লিসা কুক ও চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একজন ফেড গভর্নরকে আইনগতভাবে বরখাস্ত করতে পারেন কি না, সেই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে আদালতে দীর্ঘ বিতর্ক হয়। মামলার মূল বিষয় ছিল বরখাস্তের ক্ষেত্রে ‘যথার্থ কারণ’ কীভাবে ব্যাখ্যা করা হবে এবং এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা কতটা প্রভাবিত হবে।
ফেডের ভেতরের ঐক্যের বার্তা
শুনানিতে লিসা কুকের পাশে দাঁড়িয়ে জেরোম পাওয়েলের উপস্থিতি স্পষ্টভাবে দেখিয়েছে ফেডের ভেতরের সংহতি। ট্রাম্প প্রশাসনের একটি আলাদা তদন্তের লক্ষ্য হওয়া সত্ত্বেও পাওয়েল আদালতে হাজির হন, যা কুকের প্রতি সমর্থনের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির স্বাধীনতার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে আসে। একই সঙ্গে বর্তমান ও সাবেক শীর্ষ ফেড কর্মকর্তাদের উপস্থিতিও এই মামলার গুরুত্ব বাড়িয়ে দেয়।

বরখাস্তের অভিযোগ ও কুকের অবস্থান
ট্রাম্প গত বছর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিসা কুককে বরখাস্তের ঘোষণা দেন। অভিযোগ ছিল, তিনি মর্টগেজ সুবিধা পেতে দুইটি সম্পর্কে প্রধান বাসস্থান হিসেবে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছিলেন। কুক এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন, সব নথি তার ফেডে যোগদানের আগের এবং একটি সম্পত্তিকে তিনি ছুটির বাসা হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। শুনানি শেষে কুক জানান, এই মামলা কেবল ব্যক্তিগত নয়, বরং ফেড সুদহার নির্ধারণে রাজনৈতিক চাপমুক্ত থাকার প্রশ্নের সঙ্গে জড়িত।
আইনি প্রশ্নে বিচারপতিদের তর্ক
আদালতে বিচারপতিরা প্রশ্ন তোলেন, কোনো কর্মকর্তার দায়িত্ব নেওয়ার আগের আচরণ কি বরখাস্তের কারণ হতে পারে এবং অবহেলা কি ‘যথার্থ কারণ’ হিসেবে গণ্য হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগগুলোকে প্রতারণা বা গুরুতর অবহেলা বলা হয়। বিপরীতে কুকের আইনজীবী দাবি করেন, এটি সর্বোচ্চ অনিচ্ছাকৃত ভুল হতে পারে এবং এমন ক্ষেত্রে নোটিশ, শুনানি ও বিচারিক পর্যালোচনার সুযোগ থাকা উচিত।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিয়ে রাজনৈতিক চাপ
আদালতের বাইরে বিরোধী দলের আইনপ্রণেতারা ফেডের স্বাধীনতার পক্ষে সমাবেশ করেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, ট্রাম্প এমন একটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক চান যা সরাসরি তাঁর নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তাঁদের মতে, এই মামলা ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণের লড়াইয়ের প্রতিফলন, যার ফলাফল ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতিকে প্রভাবিত করতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















