সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যাওয়ার মধ্যে ইসলামিক স্টেটের বন্দিদের স্থানান্তর কার্যক্রম শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সিরিয়া থেকে অন্তত দেড় শতাধিক আইএস বন্দিকে ইতোমধ্যে ইরাকে পাঠানো হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যতে প্রায় সাত হাজার বন্দিকে সিরিয়ার বাইরে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
কুর্দি বাহিনীর পতনে কারাগার নিয়ে শঙ্কা
উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর হঠাৎ ভেঙে পড়ার পর থেকেই সেখানে থাকা কারাগার ও আটক শিবিরগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। দীর্ঘদিন এসব স্থাপনার পাহারা দিচ্ছিল কুর্দি বাহিনী। তাদের নিয়ন্ত্রণ সরে যাওয়ায় আইএস বন্দিদের ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।
হাসাকাহ থেকে ইরাকে স্থানান্তর
মার্কিন সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে জানানো হয়, সিরিয়ার হাসাকাহ অঞ্চলের একটি আটক কেন্দ্র থেকে ১৫০ জন আইএস যোদ্ধাকে নিরাপদভাবে ইরাকে স্থানান্তর করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ধাপে ধাপে আরও হাজারো বন্দিকে ইরাক নিয়ন্ত্রিত স্থাপনায় নেওয়া হতে পারে।
আঞ্চলিক সমন্বয়ের কথা জানাল ওয়াশিংটন
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেছেন, আইএসকে স্থায়ীভাবে পরাজিত করতে আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় চালানো হচ্ছে। ইরাক সরকার এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সিরিয়ার নেতৃত্বকে অবহিত যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন সামরিক সূত্র জানায়, বন্দি স্থানান্তরের বিষয়টি সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারাকে সরাসরি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সিরিয়াসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে এমন কোনো পদক্ষেপ না নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে এই প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।
যুদ্ধবিরতি ও ক্ষমতার বড় পরিবর্তন
এরই মধ্যে সিরিয়া সরকার কুর্দি বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে এবং চার দিনের মধ্যে কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সাম্প্রতিক এই দ্রুত অগ্রগতি এবং কুর্দি বাহিনীর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন সরে যাওয়াকে দেশটিতে বড় ধরনের ক্ষমতার পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা বাশার আল আসাদ উৎখাতের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড়।
কারাগার ভাঙা ও পুনরুদ্ধারের ঘটনা
এক মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি শাদ্দাদি কারাগার থেকে প্রায় দুই শতাধিক নিম্নস্তরের আইএস সদস্য পালিয়ে যায়। তবে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী তাদের বড় একটি অংশকে আবার আটক করতে সক্ষম হয়। বর্তমানে সিরিয়ার বিভিন্ন কারাগারে দশ হাজারের বেশি আইএস সদস্য এবং তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বহু নারী ও শিশু আটক রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















