যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি ও শুল্ক ইস্যুতে আগের কড়া অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেওয়ার পরই বিশ্ববাজারে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরেছে। বৃহস্পতিবার এশিয়া ও ইউরোপের বাজারে শেয়ারদর বেড়েছে, বিপরীতে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা স্বর্ণের দাম কমেছে এবং ডলার শক্তিশালী হয়েছে।
গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থান
নেটো মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেন, তিনি গ্রিনল্যান্ড দখলের জন্য কোনো ধরনের শক্তি প্রয়োগ করবেন না। তাঁর এই মন্তব্য বাজারে বড় বার্তা হিসেবে ধরা হয়েছে। ট্রাম্পের ভাষায়, তিনি বলপ্রয়োগ চান না এবং করবেনও না। এই ঘোষণার পরই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা বাড়ে।

শেয়ারবাজারে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানো
ট্রাম্পের বক্তব্যের পর ওয়াল স্ট্রিটে শেয়ারবাজার উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে হলেও শেষ পর্যন্ত শক্ত অবস্থানে বন্ধ হয়। প্রধান সূচক দুই মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় উত্থান দেখায়। একই সঙ্গে এশিয়ার লেনদেনে ইউরোপীয় বাজারের ভবিষ্যৎ সূচকও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের শেয়ারবাজার প্রায় এক শতাংশ করে ওপরে উঠেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে ইতিহাস তৈরি হয়েছে, যেখানে প্রধান সূচক প্রথমবারের মতো পাঁচ হাজার পয়েন্ট ছাড়িয়েছে।
![]()
স্বর্ণ ও মুদ্রাবাজারের চিত্র
ডলার শক্তিশালী হওয়ায় ইউরোপীয় মুদ্রার দর আবার নেমে গেছে। স্বর্ণের দামও রেকর্ড উচ্চতা থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে যেসব বিনিয়োগ এই সপ্তাহে বাড়ছিল, তার একটি অংশ থেকে বিনিয়োগকারীরা সরে এসেছেন। তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আস্থায় পুরোপুরি ভাঙন আসেনি।

বিনিয়োগকারীদের সতর্ক মনোভাব
বাজারে স্বস্তি ফিরলেও বিনিয়োগকারীরা পুরোপুরি নিশ্চিন্ত নন। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের আশঙ্কা অনেকটাই কমেছে, কিন্তু রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। তাই আগের সব নিরাপদ বিনিয়োগ একেবারে তুলে নেওয়ার ঝুঁকি কেউই নিতে চাইছেন না।
বন্ড ও সুদের হার পরিস্থিতি
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডের চাহিদা কিছুটা বেড়েছে, ফলে ফলন সামান্য কমেছে। জাপানে সরকারি বন্ডের বাজারও তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। একই সময়ে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈঠক শুরু হয়েছে, যেখানে নীতিগত সুদহার অপরিবর্তিত থাকলেও ভবিষ্যতে কড়াকড়ির ইঙ্গিত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
![]()
এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার মুদ্রাবাজার
জাপানের মুদ্রা ডলারের বিপরীতে মোটামুটি স্থির থাকলেও অন্যান্য মুদ্রার তুলনায় চাপের মধ্যে রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার মুদ্রা শক্ত অবস্থানে পৌঁছেছে, দেশটির কর্মসংস্থান পরিস্থিতি প্রত্যাশার চেয়ে ভালো হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেড়েছে।

আগামীর দৃষ্টি কোথায়
বাজার এখন যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং বড় বড় কোম্পানির আয় প্রতিবেদনের দিকে তাকিয়ে আছে। বিনিয়োগকারীরা ধারণা করছেন, চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রে আরও দুই দফা সুদ কমতে পারে, যা বাজারের গতিপথে বড় প্রভাব ফেলবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















