ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় এক ইন্টার্ন চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে রোগীর স্বজনদের বিরুদ্ধে। ঘটনার প্রতিবাদে জরুরি বিভাগ বন্ধ করে দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা, ফলে সাময়িকভাবে ব্যাহত হয় চিকিৎসাসেবা।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাজমা বেগম নামের এক নারী রোগীর মৃত্যু হয়। তিনি ঢাকার কামরাঙ্গীচর এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসক ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই ওই রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনাকে চিকিৎসকের অবহেলা বলে দাবি করেন স্বজনরা।

চিকিৎসককে মারধর ও উত্তেজনা
রোগীর মৃত্যুর খবর জানার পর ক্ষুব্ধ স্বজনরা ইন্টার্ন চিকিৎসক সাকিব আহমেদের ওপর চড়াও হন এবং তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠে। ঘটনাটি বুধবার দিবাগত রাতে হাসপাতালের নতুন ভবনের মেডিসিন বিভাগের সাত তলায় ঘটে।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের প্রতিবাদ
সহকর্মীর ওপর হামলার প্রতিবাদে হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জরুরি বিভাগের প্রধান গেট বন্ধ করে দেন। একই সঙ্গে তারা চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম বন্ধ রাখেন। এতে জরুরি চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত হন। তারা হাসপাতাল এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেন এবং উত্তেজনা প্রশমনে কাজ করেন।

পুলিশের বক্তব্য
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক ফারুক জানান, মৃত রোগীর মরদেহ নতুন ভবন থেকে নিচে নামিয়ে আনা হয়েছে এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অবগত রয়েছে। তিনি আরও জানান, পরে তিনি জানতে পারেন জরুরি বিভাগের প্রধান গেট ইন্টার্ন চিকিৎসকরা বন্ধ করে রেখেছেন।
পরবর্তী পদক্ষেপ
ঘটনার পর রোগীর কয়েকজন স্বজনকে থানায় নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরবর্তী ব্যবস্থা নিচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















