বাংলাদেশে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থানে রয়েছে এবং বাংলাদেশসহ অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী।
দক্ষিণ এশিয়ায় চীনা প্রভাব নিয়ে অবস্থান
বুধবার অল্পসংখ্যক সাংবাদিকের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন জানান, দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে চীনের বিস্তৃত প্রভাব তাকে উদ্বিগ্ন করছে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র সরকার দীর্ঘদিন ধরেই এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং এ নিয়ে তাদের অবস্থান পরিষ্কার।
তিনি বলেন, কংগ্রেসে তার মনোনয়ন শুনানিতেও তিনি একই কথা বলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিভিন্ন বিকল্প রয়েছে, যার মাধ্যমে তারা অংশীদার দেশগুলোর সামরিক সক্ষমতা উন্নয়নে সহায়তা করতে পারে।
বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের অঙ্গীকার
রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন জানান, তিনি বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখবেন। অন্তর্বর্তী সরকার হোক বা ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকার, সব ক্ষেত্রেই তিনি স্পষ্টভাবে চীনের সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে জড়িত থাকার সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো তুলে ধরবেন, যদি বাংলাদেশ সে পথে অগ্রসর হতে চায়।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহযোগিতা
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক পর্যায়ের সহযোগিতা বর্তমানে শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং তা ক্রমেই আরও দৃঢ় হচ্ছে। নৌবাহিনীর সঙ্গে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সেনাবাহিনীর সঙ্গে প্রশিক্ষণ এবং বিমানবাহিনীর সঙ্গে বিভিন্ন মহড়া ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে একসঙ্গে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র।
রাষ্ট্রদূতের মতে, এই সহযোগিতা বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর আধুনিকায়ন পরিকল্পনা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
শান্তিরক্ষা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা প্রসঙ্গ
ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্য পূরণে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করছে। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশি সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে তারা কাজ করছে।
নিরাপত্তা বিষয়ে ব্যক্তিগত আগ্রহ
রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা ইস্যু তার ব্যক্তিগতভাবে গভীর আগ্রহের বিষয়। ওয়াশিংটনে তার পূর্বের দায়িত্ব এবং বাংলাদেশে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে এই বিষয়গুলো তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখেন।
মার্কিন সিনেটের শুনানিতে চীনা প্রসঙ্গ
রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনয়ন শুনানির সময় নেব্রাস্কার রিপাবলিকান সিনেটর পিট রিকেটস বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের বাড়তে থাকা সামরিক সহযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। সে সময় ক্রিস্টেনসেন জানান, তিনি দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব পেলে তিনি বাংলাদেশ সরকার ও সামরিক বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে চীনা তৎপরতা, সামুদ্রিক ক্ষেত্র ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে তাদের সম্পৃক্ততার ঝুঁকি স্পষ্টভাবে তুলে ধরবেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক অংশীদারত্বের সুযোগ ও সুবিধাগুলোর দিকেও আলোকপাত করবেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















