ম্যারেজ মিডিয়ার মাধ্যমে ভুয়া বিয়ের ফাঁদ পেতে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী এক বাংলাদেশি নারীকে প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইনের অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ। প্রতারণার মাধ্যমে ওই নারীর কাছ থেকে দেড় কোটির বেশি টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
গ্রেপ্তার ও পরিচয়
গ্রেপ্তার যুবকের নাম মো. সালাউদ্দিন, বয়স ২৯ বছর। তিনি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বাসিন্দা। পুলিশের সাইবার পুলিশ সেন্টারের সাইবার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট টিম মঙ্গলবার চট্টগ্রামের লোহাগাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন খান।
তদন্তে উদ্ধার আলামত
সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধে ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন ও সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলো দিয়েই প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইনের কার্যক্রম চালানো হতো।

ফেসবুকে ভুয়া পরিচয় ও বিশ্বাস অর্জন
তদন্তে জানা গেছে, সালাউদ্দিন ফেসবুকে নিজেকে ‘নাদিম আহমেদ সুমন’ নামে পরিচয় দিতেন এবং কানাডাপ্রবাসী এক বিধবা পুরুষ হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করতেন। তিনি ‘বিসিসিবি ম্যাট্রিমোনিয়াল: হেভেনলি ম্যাচ’ নামের একটি ফেসবুক ম্যারেজ মিডিয়া পেজের মাধ্যমে ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন। বিশ্বাস অর্জনের জন্য ভিডিও কলে দুজনকে তার মা ও বোন হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন।
ফোনে তথাকথিত বিয়ে ও অর্থ আদায়
সিআইডির ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে ফোন কলের মাধ্যমে ভুক্তভোগীর সঙ্গে একটি তথাকথিত বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বারবার আর্থিক সহায়তা চান। এরই মধ্যে ভিডিও কলের সময় গোপনে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে তা অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে টাকা আদায় শুরু করেন।
দীর্ঘদিনের ব্ল্যাকমেইন ও অর্থ লেনদেন
দীর্ঘ সময় ধরে ব্ল্যাকমেইন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অভিযুক্ত প্রায় এক লাখ পঁচিশ হাজার মার্কিন ডলার আদায় করেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় এক কোটি চুয়ান্ন লাখ টাকা। এই অর্থ ব্যাংক ট্রান্সফার ও মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে বলে সিআইডির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
মামলা ও আইনি ব্যবস্থাঘটনার পর ভুক্তভোগী নারীর ভাই মিরপুর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দণ্ডবিধি এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২-এর আওতায় করা হয়েছে।
পূর্বেও একই ধরনের অপরাধ
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে আগেও একই ধরনের একাধিক মামলা রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন যে, একই কৌশলে ৮০ থেকে ৮৫ জন নারীকে প্রতারণার শিকার করেছেন।
আগের মামলায় জামিনের পর ফের অপরাধ
সিআইডি জানায়, মোহাম্মদপুর থানায় দায়ের করা একটি পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় এর আগে তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছিল। ওই মামলায় জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি আবারও একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়েন।
Sarakhon Report 


















