একাধিক স্ট্রিমিং সেবার বাড়তে থাকা খরচে যখন দর্শকের পকেট ক্রমেই হালকা হয়ে আসছে, ঠিক সেই সময় নেটফ্লিক্স ও ওয়ার্নার ব্রাদার্সের সম্ভাব্য চুক্তি নতুন করে স্বস্তির আশা জাগাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক দর্শকের ধারণা, এই জোট বাস্তবায়িত হলে মাসিক বিল কমতে পারে এবং সাবস্ক্রিপশন ব্যবস্থাপনাও সহজ হবে।
স্ট্রিমিং ক্লান্তিতে নাকাল দর্শক
নিউইয়র্কের বাসিন্দা নিক লাফ্লুরের মতো বহু দর্শক এখন একসঙ্গে পাঁচটি পর্যন্ত স্ট্রিমিং সেবা ব্যবহার করছেন। নেটফ্লিক্স, ডিজনি প্লাস, অ্যাপল টিভি, এইচবিও ম্যাক্স ও প্যারামাউন্ট প্লাস মিলিয়ে মাসিক খরচ বেড়েই চলেছে। তার মতে, স্ট্রিমিংয়ের দাম যেভাবে বাড়ছে, একসময় এটি সাধারণ দর্শকের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়াবে। তিনি আশা করছেন, সম্ভাব্য এই একীভবনের ফলে আলাদা আলাদা বিল না দিয়ে কম খরচে বেশি কনটেন্ট পাওয়া যেতে পারে।

জরিপে উঠে আসা বাস্তব চিত্র
একটি সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, গড়ে একজন মার্কিন দর্শক প্রায় তিনটি স্ট্রিমিং সেবার জন্য অর্থ দিচ্ছেন। বছরে এই খরচ গিয়ে দাঁড়াচ্ছে প্রায় পাঁচশ ডলারের বেশি। বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, এইচবিও ম্যাক্সের প্রায় সব গ্রাহকই নেটফ্লিক্স ব্যবহার করেন। ফলে দুটি প্ল্যাটফর্ম এক হলে পুরোনো দিনের মতো এক ছাদের নিচে সব বিনোদনের ধারণা আবার ফিরতে পারে।
বান্ডেল সুবিধা নাকি নতুন জটিলতা
স্ট্রিমিং বান্ডেল তুলনামূলক সাশ্রয়ী হলেও অনেক দর্শক এতে বিভ্রান্ত বোধ করছেন। জরিপে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ মানুষ বলেছেন, বিকল্পের আধিক্য তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়াকে কঠিন করে তুলেছে। সাবস্ক্রিপশন সামলাতে কেউ কেউ আলাদা অ্যাপ পর্যন্ত ব্যবহার করছেন, আবার অনেকে খরচ কমাতে কিছু সেবা বাতিল করছেন।
নেটফ্লিক্স কেন কেন্দ্রবিন্দু
বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নেটফ্লিক্স এখন অনেক দর্শকের বিনোদন প্যাকেজের মূল ভিত্তি। গবেষণায় দেখা গেছে, নতুন বান্ডেল তৈরি করতে গেলে বেশিরভাগ গ্রাহক প্রথমেই নেটফ্লিক্সকে বেছে নেন। এই শক্ত অবস্থানই ওয়ার্নার ব্রাদার্সের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তিতে নেটফ্লিক্সকে এগিয়ে রেখেছে।
দাম কমার বদলে বাড়ার আশঙ্কা
তবে সব বিশ্লেষক আশাবাদী নন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের বড় জোট প্রতিযোগিতা কমিয়ে দিতে পারে। এতে নেটফ্লিক্সের দরকষাকষির ক্ষমতা বাড়বে এবং ভবিষ্যতে দাম আরও বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে এইচবিওর মানসম্মত কনটেন্টের সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
নিয়ন্ত্রক ও আইনপ্রণেতাদের সতর্কতা
আইনপ্রণেতারা ইতিমধ্যে সতর্ক করেছেন, এই একীভবন বাস্তবায়িত হলে বাজারে একটি প্রতিষ্ঠানের আধিপত্য বেড়ে যেতে পারে। এতে কনটেন্ট নির্মাতাদের বিনিয়োগ কমতে পারে এবং দর্শকের সামনে বিকল্পও সীমিত হয়ে যেতে পারে।
সব মিলিয়ে আশা ও শঙ্কার দোলাচল
নেটফ্লিক্স ও ওয়ার্নার ব্রাদার্সের সম্ভাব্য জোট একদিকে দর্শকের সাবস্ক্রিপশন ক্লান্তি কমানোর আশা দেখাচ্ছে, অন্যদিকে প্রতিযোগিতা ও কনটেন্ট মান নিয়ে তৈরি করছে নতুন প্রশ্ন। শেষ পর্যন্ত এই চুক্তি দর্শকের জন্য স্বস্তি আনবে, নাকি নতুন চাপ তৈরি করবে, তার উত্তর দেবে সময়ই।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















