পূর্ব জেরুজালেমে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সহায়তা সংস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ভাঙার কাজ শুরু করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার ভোরে ভারী যন্ত্রপাতি ও নিরাপত্তা বাহিনী নিয়ে ওই এলাকায় প্রবেশ করা হয়। আন্তর্জাতিক মহলে এই ঘটনাকে জাতিসংঘের একটি বড় মানবিক সংস্থার বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান দ্বন্দ্বের সবচেয়ে কঠোর ও প্রকাশ্য পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভোরের অভিযানে উত্তেজনা
স্থানীয় সময় সকাল সাতটার দিকে নিরাপত্তা বাহিনী সংস্থাটির চত্বরে ঢুকে পড়ে। সেখানে থাকা নিরাপত্তাকর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার পর বুলডোজার ও অন্যান্য যন্ত্র দিয়ে স্থাপনার অংশবিশেষ ভাঙা শুরু হয়। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, কোনো ধরনের পূর্বানুমতি ছাড়া এভাবে প্রবেশ ও ভাঙচুর আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকা কার্যালয়
এই কার্যালয়টি প্রায় এক বছর ধরেই কার্যত বন্ধ ছিল। ইসরাইলের নতুন আইন কার্যকর হওয়ার পর সংস্থাটির কাজ সীমিত হয়ে পড়ে। ওই আইনে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় সংস্থার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়, সরকারি যোগাযোগ বন্ধ করা হয় এবং কূটনৈতিক মর্যাদাও প্রশ্নের মুখে পড়ে। ইসরায়েলের দাবি, পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত এই জমির মালিকানা তাদের।
মালিকানা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিরোধ
জাতিসংঘ জানিয়েছে, উনিশ শতকের পঞ্চাশের দশক থেকে জর্ডানের কাছ থেকে ইজারা নিয়ে এই জমি ব্যবহার করা হচ্ছে। তখন পূর্ব জেরুজালেম ছিল জর্ডানের নিয়ন্ত্রণে। উনিশশো সাতষট্টির যুদ্ধে ইসরায়েল এলাকা দখল করে পরে সার্বভৌমত্ব ঘোষণা করলেও জাতিসংঘসহ বিশ্বের বড় অংশ সেই দাবি স্বীকৃতি দেয় না। সংস্থার বক্তব্য, জাতিসংঘের স্থাপনা আন্তর্জাতিক আইনে সুরক্ষিত এবং সেখানে ভাঙচুর গুরুতর লঙ্ঘন।

ইসরাইলের কঠোর অবস্থান
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কূটনৈতিক সুরক্ষার দাবি মানতে নারাজ। তাদের ভাষ্য, দেশের আইন মেনেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ডানপন্থী রাজনীতিকরাও প্রকাশ্যে অভিযানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক এক মন্ত্রী ঘটনাস্থলে গিয়ে বলেন, এই দিনটিকে তারা ঐতিহাসিক হিসেবে দেখছেন এবং সংস্থাটিকে পুরোপুরি সরিয়ে দেওয়াই তাদের লক্ষ্য।
নির্বাচনী বছরে বাড়তি চাপ
এই অভিযান এমন এক সময়ে হলো, যখন ইসরায়েলে নির্বাচনী বছরের সূচনা হয়েছে। গাজা যুদ্ধের পর থেকেই ডানপন্থী আইনপ্রণেতারা সংস্থাটির বিরুদ্ধে একের পর এক আইন প্রস্তাব তুলেছিলেন। তাদের দাবি, এই সংস্থার আর ইসরায়েলে কাজ করার কোনো সুযোগ নেই।

অভিযোগ ও পাল্টা অস্বীকার
ইসরায়েলের অভিযোগ, সংস্থাটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা উপেক্ষা করেছে এবং গাজায় তাদের স্থাপনা ব্যবহার করে সুড়ঙ্গ ও সামরিক ঘাঁটি তৈরি হয়েছে। তবে সংস্থাটি এসব অভিযোগ বরাবরের মতোই অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, তারা কেবল মানবিক সহায়তার কাজ করে এবং কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক নেই।
ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা
ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তারা আগে জানিয়েছিলেন, এই সংস্থার কাজের বিকল্প হিসেবে পানি, স্বাস্থ্য, আশ্রয় ও খাদ্য সহায়তায় একাধিক প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তবে বাস্তবে সেই ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। সর্বশেষ এই ভাঙচুর পূর্ব জেরুজালেমে উত্তেজনা আরও বাড়াবে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















