০৩:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
নগরকান্দায় যৌথবাহিনীর অভিযানে অস্ত্র-মাদকসহ আটক ১৮ জিমেইলের নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি সত্যিই অগোছালো ইনবক্সের ত্রাণকর্তা ইউক্রেনে যুদ্ধের সবচেয়ে নিষ্ঠুর শীত, বিদ্যুৎ ও তাপ ব্যবস্থায় রুশ হামলায় বিপর্যস্ত কিয়েভ গ্রিনল্যান্ড ঘিরে শুল্ক হুমকি: বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন ধরনের যুদ্ধের ছায়া পূর্ব জেরুজালেমে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিতে ইসরায়েলের অভিযান স্পেনের ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: তদন্তে নতুন মোড়, পাওয়া ধাতব অংশটি কি নিখোঁজ বগি নেটফ্লিক্স ও ওয়ার্নার ব্রাদার্সের সম্ভাব্য জোটে সাবস্ক্রিপশন ক্লান্তি থেকে স্বস্তির আশা দর্শকদের শাবিপ্রবির ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ, মেধাতালিকায় ৪০ হাজারের বেশি গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে সুর নরম করলেন ট্রাম্প, ইউরোপের ওপর শুল্ক হুমকি প্রত্যাহার, বাজারে স্বস্তির র‌্যালি গ্রিনল্যান্ড বিরোধের প্রেক্ষাপটে যৌথ ইউরোপীয় সেনাবাহিনীর আহ্বান স্পেনের

সুনামগঞ্জে ‘গাইল্লার হাওর’-এর ফসলি জমি হুমকির মুখে

সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত ‘গাইল্লার হাওর’-এর উর্বর ফসলি জমি বর্তমানে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। প্রভাবশালী একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে টপসয়েল বা উপরিভাগের উর্বর মাটি তুলে নেওয়ায় কৃষি উৎপাদন ও গ্রামীণ অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের আলমপুর গ্রামে ফসলি জমির সবচেয়ে উর্বর স্তর নির্বিচারে এক্সকাভেটর দিয়ে কেটে নেওয়া হচ্ছে। এই মাটি ব্যক্তিগত বসতভিটা ও সড়ক ভরাটে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এর ফলে একদিকে যেমন কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে এলাকাবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

হুমকির মুখে জলাভূমি – বাংলাদেশের হারিয়ে যাওয়া হাওর ও বিল রক্ষার উদ্যোগ

সম্প্রতি এলাকাটি পরিদর্শনে গিয়ে এই প্রতিবেদক দেখতে পান, বিস্তীর্ণ ফসলি জমি জুড়ে গভীর গর্ত খুঁড়ে মাটি তোলা হচ্ছে। দিনরাত চলা এই কার্যক্রমে সারি সারি ভারী ডাম্প ট্রাকে করে মাটি বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এসব ট্রাকের অবিরাম চলাচলে নতুন নির্মিত গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে, যা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলছে।

স্থানীয়দের দাবি, সাবেক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি সাইদুল ইসলাম ও কালাম মিয়ার সরাসরি নেতৃত্বে এই অবৈধ মাটি উত্তোলন চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করলে প্রতিশোধের আশঙ্কা রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কৃষক বলেন, ফসলি জমির সবচেয়ে উর্বর অংশের টপসয়েল তুলে নেওয়ায় জমির উৎপাদনক্ষমতা স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত গভীর খননের কারণে পাশের জমি ধসে পড়ার ঝুঁকিও বেড়েছে।

এক কৃষক জামালউদ্দিন বলেন, এভাবে যদি হাওর কেটে নেওয়া হয়, ভবিষ্যতে চাষাবাদের জন্য কোনো জমিই অবশিষ্ট থাকবে না।

সুনামগঞ্জের হাওরে ১৪৫ কোটি টাকার ফসল রক্ষা বাঁধ নিয়ে উদ্বিগ্ন কৃষক | দৈনিক  নয়া দিগন্ত

তাঁরা দ্রুত ও কঠোর প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

মাটি ও বালু ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী কৃষিজমি থেকে বাণিজ্যিক বা ব্যক্তিগত কাজে মাটি উত্তোলন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনিক নজরদারি এড়িয়ে বা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ওই চক্রটি নির্বিঘ্নে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

কৃষি ক্ষতির পাশাপাশি গ্রামীণ সড়কেরও ব্যাপক অবনতি ঘটেছে। ভারী ট্রাক চলাচলের ফলে একাধিক স্থানে রাস্তা ধসে পড়ছে, ফলে গ্রামবাসীর দৈনন্দিন চলাচল কঠিন হয়ে উঠছে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে শান্তিগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাতেমা তুজ-জোহরা বলেন, প্রশাসন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। তিনি বলেন, ফসলি জমি থেকে টপসয়েল কাটা সম্পূর্ণ অবৈধ। আলমপুর গ্রামে মাটি উত্তোলনের বিষয়ে আমরা তথ্য পেয়েছি। শিগগিরই সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

তিনি আরও জানান, এই কাজে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অবৈধ কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি জব্দসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে সুশীল সমাজের বিশেষজ্ঞরা হাওরের নাজুক পরিবেশ রক্ষায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, দোষীদের কারাদণ্ড ও এক্সকাভেটর জব্দের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সরকার যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তবে শান্তিগঞ্জের কৃষিনির্ভর অর্থনীতি ও পরিবেশগত ভারসাম্য অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নগরকান্দায় যৌথবাহিনীর অভিযানে অস্ত্র-মাদকসহ আটক ১৮

সুনামগঞ্জে ‘গাইল্লার হাওর’-এর ফসলি জমি হুমকির মুখে

০১:৫৮:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত ‘গাইল্লার হাওর’-এর উর্বর ফসলি জমি বর্তমানে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। প্রভাবশালী একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে টপসয়েল বা উপরিভাগের উর্বর মাটি তুলে নেওয়ায় কৃষি উৎপাদন ও গ্রামীণ অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের আলমপুর গ্রামে ফসলি জমির সবচেয়ে উর্বর স্তর নির্বিচারে এক্সকাভেটর দিয়ে কেটে নেওয়া হচ্ছে। এই মাটি ব্যক্তিগত বসতভিটা ও সড়ক ভরাটে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এর ফলে একদিকে যেমন কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে এলাকাবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

হুমকির মুখে জলাভূমি – বাংলাদেশের হারিয়ে যাওয়া হাওর ও বিল রক্ষার উদ্যোগ

সম্প্রতি এলাকাটি পরিদর্শনে গিয়ে এই প্রতিবেদক দেখতে পান, বিস্তীর্ণ ফসলি জমি জুড়ে গভীর গর্ত খুঁড়ে মাটি তোলা হচ্ছে। দিনরাত চলা এই কার্যক্রমে সারি সারি ভারী ডাম্প ট্রাকে করে মাটি বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এসব ট্রাকের অবিরাম চলাচলে নতুন নির্মিত গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে, যা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলছে।

স্থানীয়দের দাবি, সাবেক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি সাইদুল ইসলাম ও কালাম মিয়ার সরাসরি নেতৃত্বে এই অবৈধ মাটি উত্তোলন চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করলে প্রতিশোধের আশঙ্কা রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কৃষক বলেন, ফসলি জমির সবচেয়ে উর্বর অংশের টপসয়েল তুলে নেওয়ায় জমির উৎপাদনক্ষমতা স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত গভীর খননের কারণে পাশের জমি ধসে পড়ার ঝুঁকিও বেড়েছে।

এক কৃষক জামালউদ্দিন বলেন, এভাবে যদি হাওর কেটে নেওয়া হয়, ভবিষ্যতে চাষাবাদের জন্য কোনো জমিই অবশিষ্ট থাকবে না।

সুনামগঞ্জের হাওরে ১৪৫ কোটি টাকার ফসল রক্ষা বাঁধ নিয়ে উদ্বিগ্ন কৃষক | দৈনিক  নয়া দিগন্ত

তাঁরা দ্রুত ও কঠোর প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

মাটি ও বালু ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী কৃষিজমি থেকে বাণিজ্যিক বা ব্যক্তিগত কাজে মাটি উত্তোলন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনিক নজরদারি এড়িয়ে বা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ওই চক্রটি নির্বিঘ্নে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

কৃষি ক্ষতির পাশাপাশি গ্রামীণ সড়কেরও ব্যাপক অবনতি ঘটেছে। ভারী ট্রাক চলাচলের ফলে একাধিক স্থানে রাস্তা ধসে পড়ছে, ফলে গ্রামবাসীর দৈনন্দিন চলাচল কঠিন হয়ে উঠছে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে শান্তিগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাতেমা তুজ-জোহরা বলেন, প্রশাসন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। তিনি বলেন, ফসলি জমি থেকে টপসয়েল কাটা সম্পূর্ণ অবৈধ। আলমপুর গ্রামে মাটি উত্তোলনের বিষয়ে আমরা তথ্য পেয়েছি। শিগগিরই সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

তিনি আরও জানান, এই কাজে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অবৈধ কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি জব্দসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে সুশীল সমাজের বিশেষজ্ঞরা হাওরের নাজুক পরিবেশ রক্ষায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, দোষীদের কারাদণ্ড ও এক্সকাভেটর জব্দের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সরকার যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তবে শান্তিগঞ্জের কৃষিনির্ভর অর্থনীতি ও পরিবেশগত ভারসাম্য অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।