১০:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
মমতা ব্যানার্জীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন কোন পথে? জাপানের কূটনীতির গতি আছে, কৌশল কি আছে? স্টারমারের পতন শুধু এক নেতার নয়, ব্রিটিশ মধ্যপন্থী রাজনীতিরও সংকেত আসিয়ান জ্বালানি সংকটে তড়িঘড়ি তেল ভাগাভাগি চুক্তির পথে, হরমুজ ইস্যুতে বাড়ছে উদ্বেগ রেস্তোরাঁ খাত বাঁচাতে কর কমানো ও গ্যাস সংযোগ চালুর দাবি হাওরে ভেজা ধান নিয়ে কৃষকের কান্না, মিলছে না ক্রেতা বা সরকারি সহায়তা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের আসল সংকট সীমান্তে, না অবিশ্বাসে? জ্বালানি সংকটে সংযমের আহ্বান মোদির, আমদানি নির্ভরতা কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জোর বিজয়ের উত্থান, কংগ্রেসের সংকট এবং ভারতের বিরোধী রাজনীতির নতুন সমীকরণ জাহানারা ইমাম: এক মায়ের শোক থেকে জাতির বিবেক হয়ে ওঠার গল্প

এক বছরে চতুর্থ থেকে ১১তম স্থানে যুক্তরাষ্ট্র, আমেরিকায় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা কমেছে

আমেরিকা মহাদেশজুড়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একটি নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর এই অঞ্চলে মতপ্রকাশ ও সাংবাদিকতার স্বাধীনতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বড় পতন লক্ষ্য করা গেছে।

ইন্টার আমেরিকান প্রেস অ্যাসোসিয়েশন (আইএপিএ) তাদের সর্বশেষ সংবাদমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে জানিয়েছে, ২০২০ সালে সূচকটি চালু হওয়ার পর গত বছরই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সবচেয়ে নিচের পর্যায়ে নেমে এসেছে।

অঞ্চলজুড়ে স্বাধীনতার অবনতি
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমেরিকা অঞ্চলে অবাধ মতপ্রকাশের পরিবেশে গুরুতর অবনতি ঘটেছে। সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হত্যা, নির্বিচারে গ্রেপ্তার, নির্বাসনে যেতে বাধ্য হওয়া এবং অপরাধীদের শাস্তিহীনতার ঘটনা অনেক দেশে বেড়েছে।

মেক্সিকো, হন্ডুরাস, ইকুয়েডর, নিকারাগুয়া, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, কলম্বিয়া, কিউবা এবং ভেনেজুয়েলার মতো দেশগুলোতে সাংবাদিকদের জন্য পরিস্থিতি বিশেষভাবে কঠিন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটি আরও বলছে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর চাপ কেবল একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের দেশে সীমাবদ্ধ নয়। ডানপন্থী কিংবা বামপন্থী—উভয় ধরনের সরকার পরিচালিত দেশেই বিভিন্নভাবে সংবাদমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হয়েছে।

CONCLUSIONS of the 81st General Assembly of the IAPA

 

যুক্তরাষ্ট্রে উদ্বেগজনক পতন
প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রকে বিশেষভাবে উদ্বেগজনক পতনের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আমেরিকা মহাদেশের ২৩টি দেশের মধ্যে করা এই সূচকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এক বছরে চতুর্থ স্থান থেকে নেমে ১১তম স্থানে চলে গেছে। এতে বোঝা যায়, দেশটিতে সাংবাদিকদের কাজের পরিবেশ আগের তুলনায় বেশি সীমাবদ্ধ হয়ে উঠছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের প্রভাব
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর ক্ষমতায় ফিরে আসা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময়কার কিছু নীতি ও সিদ্ধান্ত এই পতনের একটি বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যদিও যুক্তরাষ্ট্রে সংবিধান ও আইনের মাধ্যমে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা এখনও সুরক্ষিত রয়েছে, তবুও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই সুরক্ষার কিছু ভিত্তিকে দুর্বল করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষ করে সমালোচনামূলক সাংবাদিকতাকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা বা কলঙ্কিত করার প্রবণতা বাড়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত গণমাধ্যমের বাজেট কমানো এবং সরকার অর্থায়িত সম্প্রচারমাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকা বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাকেও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য ক্ষতিকর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প: এক নজরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী - BBC News  বাংলা

সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে সাংবাদিকদের ওপর মোট ১৭০টি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

এর মধ্যে ফেডারেল অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাংবাদিকদের সংঘাত বা উত্তেজনাকেও উদ্বেগজনক প্রবণতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মোটের ওপর বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা মহাদেশে সাংবাদিকদের কাজের পরিবেশ ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে, যা গণতন্ত্র ও তথ্যপ্রবাহের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা।

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতা ব্যানার্জীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন কোন পথে?

এক বছরে চতুর্থ থেকে ১১তম স্থানে যুক্তরাষ্ট্র, আমেরিকায় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা কমেছে

১১:৪২:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

আমেরিকা মহাদেশজুড়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একটি নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর এই অঞ্চলে মতপ্রকাশ ও সাংবাদিকতার স্বাধীনতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বড় পতন লক্ষ্য করা গেছে।

ইন্টার আমেরিকান প্রেস অ্যাসোসিয়েশন (আইএপিএ) তাদের সর্বশেষ সংবাদমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে জানিয়েছে, ২০২০ সালে সূচকটি চালু হওয়ার পর গত বছরই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সবচেয়ে নিচের পর্যায়ে নেমে এসেছে।

অঞ্চলজুড়ে স্বাধীনতার অবনতি
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমেরিকা অঞ্চলে অবাধ মতপ্রকাশের পরিবেশে গুরুতর অবনতি ঘটেছে। সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হত্যা, নির্বিচারে গ্রেপ্তার, নির্বাসনে যেতে বাধ্য হওয়া এবং অপরাধীদের শাস্তিহীনতার ঘটনা অনেক দেশে বেড়েছে।

মেক্সিকো, হন্ডুরাস, ইকুয়েডর, নিকারাগুয়া, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, কলম্বিয়া, কিউবা এবং ভেনেজুয়েলার মতো দেশগুলোতে সাংবাদিকদের জন্য পরিস্থিতি বিশেষভাবে কঠিন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটি আরও বলছে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর চাপ কেবল একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের দেশে সীমাবদ্ধ নয়। ডানপন্থী কিংবা বামপন্থী—উভয় ধরনের সরকার পরিচালিত দেশেই বিভিন্নভাবে সংবাদমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হয়েছে।

CONCLUSIONS of the 81st General Assembly of the IAPA

 

যুক্তরাষ্ট্রে উদ্বেগজনক পতন
প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রকে বিশেষভাবে উদ্বেগজনক পতনের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আমেরিকা মহাদেশের ২৩টি দেশের মধ্যে করা এই সূচকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এক বছরে চতুর্থ স্থান থেকে নেমে ১১তম স্থানে চলে গেছে। এতে বোঝা যায়, দেশটিতে সাংবাদিকদের কাজের পরিবেশ আগের তুলনায় বেশি সীমাবদ্ধ হয়ে উঠছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের প্রভাব
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর ক্ষমতায় ফিরে আসা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময়কার কিছু নীতি ও সিদ্ধান্ত এই পতনের একটি বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যদিও যুক্তরাষ্ট্রে সংবিধান ও আইনের মাধ্যমে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা এখনও সুরক্ষিত রয়েছে, তবুও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই সুরক্ষার কিছু ভিত্তিকে দুর্বল করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষ করে সমালোচনামূলক সাংবাদিকতাকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা বা কলঙ্কিত করার প্রবণতা বাড়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত গণমাধ্যমের বাজেট কমানো এবং সরকার অর্থায়িত সম্প্রচারমাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকা বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাকেও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য ক্ষতিকর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প: এক নজরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী - BBC News  বাংলা

সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে সাংবাদিকদের ওপর মোট ১৭০টি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

এর মধ্যে ফেডারেল অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাংবাদিকদের সংঘাত বা উত্তেজনাকেও উদ্বেগজনক প্রবণতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মোটের ওপর বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা মহাদেশে সাংবাদিকদের কাজের পরিবেশ ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে, যা গণতন্ত্র ও তথ্যপ্রবাহের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা।