০২:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬
ওডিশায় খ্রিস্টানদের ওপর হামলা বাড়ছে, উদ্বেগ মানবাধিকারকর্মীদের ইয়েন সংকটে সতর্ক টোকিও, ‘ফোন অন রাখুন’ বার্তা মুদ্রা ব্যবসায়ীদের দুবাই মেরিনায় নির্মাণাধীন ভবনে আগুন, হতাহতের খবর নেই বিজেপির সমর্থন নয়, শর্ত দিয়ে বিজয়ের টিভিকেকে পাশে দাঁড়াতে চায় কংগ্রেস কেরলে মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে কংগ্রেসে জল্পনা, দৌড়ে সাথীসন-ভেনুগোপাল-চেন্নিথলা আসাম বিধানসভায় বিরোধীদলীয় নেতা নাও থাকতে পারে বিজয়ের ১৫ বছরের মাঠ প্রস্তুতি, তারপরই টিভিকে’র রাজনৈতিক উত্থান বিজেপির জয়ের পর পশ্চিমবঙ্গে সহিংসতা, তৃণমূল কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ রাহুলের অভিযোগ, ‘বাংলা-আসামে জনগণের রায় চুরি করেছে বিজেপি’ মমতার নতুন লক্ষ্য ইন্ডিয়া জোট, পরাজয়ের পরই বিরোধী ঐক্য জোরদারের বার্তা

গ্রিনল্যান্ড বিরোধের প্রেক্ষাপটে যৌথ ইউরোপীয় সেনাবাহিনীর আহ্বান স্পেনের

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে ঘিরে ইউরোপে যে নতুন কৌশলগত উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য একটি যৌথ সেনাবাহিনী গঠনের আহ্বান জানিয়েছে স্পেন। ইউরোপকে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে দুর্বল হতে দেওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস।

যৌথ প্রতিরক্ষা গঠনের পক্ষে স্পেন
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বৈঠকের ফাঁকে রয়টার্সকে দেওয়া মন্তব্যে স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচিত এখনই একটি যৌথ সেনাবাহিনীর দিকে এগোনো। তার মতে, এটি শুধু প্রতিরোধমূলক শক্তি হিসেবেই নয়, বরং ইউরোপের কৌশলগত স্বনির্ভরতার জন্যও জরুরি। আলবারেস বলেন, প্রথম ধাপে ইউরোপের প্রতিরক্ষা শিল্পকে সমন্বিত করতে হবে এবং বাস্তব সামরিক সক্ষমতাগুলো একত্র করতে হবে। এরপর আগ্রহী দেশগুলো নিয়ে একটি কার্যকর জোট গড়ে তোলা যেতে পারে।

La Moncloa. José Manuel Albares Bueno

জাতীয় সেনাবাহিনীর সীমাবদ্ধতা
ইউরোপের নাগরিকরা একত্রে সামরিকভাবে সংগঠিত হতে কতটা প্রস্তুত, তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও আলবারেসের মতে, আলাদা আলাদা ২৭টি জাতীয় সেনাবাহিনীর তুলনায় একটি যৌথ কাঠামো অনেক বেশি কার্যকর হতে পারে। তিনি বলেন, একক দেশ হিসেবে প্রয়োজনীয় শক্তি জোগাড় করা কঠিন হলেও একটি ব্লক হিসেবে ইউরোপের পক্ষে সেই সক্ষমতা অর্জন সহজ।

গ্রিনল্যান্ড ইস্যু ও জরুরি বৈঠক
এই বক্তব্য এসেছে এমন এক সময়, যখন গ্রিনল্যান্ড কিনে নেওয়া বা সংযুক্ত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকিকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় নেতারা ব্রাসেলসে জরুরি বৈঠকে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যদিও ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেছেন, ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে একটি সমঝোতার কাঠামো তৈরি হয়েছে, তবুও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা নিশ্চিত করা হয়েছে।

Key takeaways from Europe’s emergency summit on Ukraine

ন্যাটোকে বাদ দেওয়ার প্রশ্ন নয়
আলবারেস স্পষ্ট করে বলেন, প্রস্তাবিত যৌথ ইউরোপীয় সেনাবাহিনী ন্যাটোর বিকল্প নয়। বরং ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক জোটের গুরুত্ব ইউরোপ সবসময়ই স্বীকার করে। তবে একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইউরোপকে এমন অবস্থান নিতে হবে, যাতে কোনো দেশ সামরিক বা অর্থনৈতিক চাপ দিয়ে তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে।

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ – শুদ্ধস্বর ডটকম

ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তনেও স্পেন অনড়
ন্যাটোর কাঠামোর ভেতরে সংলাপের পথ খোলা থাকায় স্পেন সন্তুষ্ট হলেও, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অবস্থান পরিবর্তন স্পেনের অবস্থান বদলায়নি। স্পেন মনে করে, কৌশলগত দিক থেকে ইউরোপকে আরও সংগঠিত ও শক্তিশালী হতে হবে।

পুরোনো ধারণা, নতুন বাস্তবতা
ইউরোপীয় যৌথ প্রতিরক্ষার ধারণা নতুন নয়। ১৯৫১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের মোকাবিলায় এবং জার্মান পুনরায় অস্ত্রধারণ যেন প্রতিবেশীদের জন্য হুমকি না হয়, সে লক্ষ্যেই প্রথম এই প্রস্তাব উঠেছিল। তবে ১৯৫৪ সালে ফ্রান্সের পার্লামেন্ট সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। আলবারেস বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্মলগ্ন থেকেই যৌথ প্রতিরক্ষার ধারণা ছিল। তার ভাষায়, এই অসমাপ্ত কাজ শেষ করা বর্তমান প্রজন্মের দায়িত্ব।

জনপ্রিয় সংবাদ

ওডিশায় খ্রিস্টানদের ওপর হামলা বাড়ছে, উদ্বেগ মানবাধিকারকর্মীদের

গ্রিনল্যান্ড বিরোধের প্রেক্ষাপটে যৌথ ইউরোপীয় সেনাবাহিনীর আহ্বান স্পেনের

০২:১৯:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে ঘিরে ইউরোপে যে নতুন কৌশলগত উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য একটি যৌথ সেনাবাহিনী গঠনের আহ্বান জানিয়েছে স্পেন। ইউরোপকে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে দুর্বল হতে দেওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস।

যৌথ প্রতিরক্ষা গঠনের পক্ষে স্পেন
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বৈঠকের ফাঁকে রয়টার্সকে দেওয়া মন্তব্যে স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচিত এখনই একটি যৌথ সেনাবাহিনীর দিকে এগোনো। তার মতে, এটি শুধু প্রতিরোধমূলক শক্তি হিসেবেই নয়, বরং ইউরোপের কৌশলগত স্বনির্ভরতার জন্যও জরুরি। আলবারেস বলেন, প্রথম ধাপে ইউরোপের প্রতিরক্ষা শিল্পকে সমন্বিত করতে হবে এবং বাস্তব সামরিক সক্ষমতাগুলো একত্র করতে হবে। এরপর আগ্রহী দেশগুলো নিয়ে একটি কার্যকর জোট গড়ে তোলা যেতে পারে।

La Moncloa. José Manuel Albares Bueno

জাতীয় সেনাবাহিনীর সীমাবদ্ধতা
ইউরোপের নাগরিকরা একত্রে সামরিকভাবে সংগঠিত হতে কতটা প্রস্তুত, তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও আলবারেসের মতে, আলাদা আলাদা ২৭টি জাতীয় সেনাবাহিনীর তুলনায় একটি যৌথ কাঠামো অনেক বেশি কার্যকর হতে পারে। তিনি বলেন, একক দেশ হিসেবে প্রয়োজনীয় শক্তি জোগাড় করা কঠিন হলেও একটি ব্লক হিসেবে ইউরোপের পক্ষে সেই সক্ষমতা অর্জন সহজ।

গ্রিনল্যান্ড ইস্যু ও জরুরি বৈঠক
এই বক্তব্য এসেছে এমন এক সময়, যখন গ্রিনল্যান্ড কিনে নেওয়া বা সংযুক্ত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকিকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় নেতারা ব্রাসেলসে জরুরি বৈঠকে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যদিও ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেছেন, ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে একটি সমঝোতার কাঠামো তৈরি হয়েছে, তবুও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা নিশ্চিত করা হয়েছে।

Key takeaways from Europe’s emergency summit on Ukraine

ন্যাটোকে বাদ দেওয়ার প্রশ্ন নয়
আলবারেস স্পষ্ট করে বলেন, প্রস্তাবিত যৌথ ইউরোপীয় সেনাবাহিনী ন্যাটোর বিকল্প নয়। বরং ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক জোটের গুরুত্ব ইউরোপ সবসময়ই স্বীকার করে। তবে একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইউরোপকে এমন অবস্থান নিতে হবে, যাতে কোনো দেশ সামরিক বা অর্থনৈতিক চাপ দিয়ে তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে।

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ – শুদ্ধস্বর ডটকম

ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তনেও স্পেন অনড়
ন্যাটোর কাঠামোর ভেতরে সংলাপের পথ খোলা থাকায় স্পেন সন্তুষ্ট হলেও, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অবস্থান পরিবর্তন স্পেনের অবস্থান বদলায়নি। স্পেন মনে করে, কৌশলগত দিক থেকে ইউরোপকে আরও সংগঠিত ও শক্তিশালী হতে হবে।

পুরোনো ধারণা, নতুন বাস্তবতা
ইউরোপীয় যৌথ প্রতিরক্ষার ধারণা নতুন নয়। ১৯৫১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের মোকাবিলায় এবং জার্মান পুনরায় অস্ত্রধারণ যেন প্রতিবেশীদের জন্য হুমকি না হয়, সে লক্ষ্যেই প্রথম এই প্রস্তাব উঠেছিল। তবে ১৯৫৪ সালে ফ্রান্সের পার্লামেন্ট সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। আলবারেস বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্মলগ্ন থেকেই যৌথ প্রতিরক্ষার ধারণা ছিল। তার ভাষায়, এই অসমাপ্ত কাজ শেষ করা বর্তমান প্রজন্মের দায়িত্ব।