০৩:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
ভারতের কফি বিপ্লব: বিশেষায়িত কফির উত্থানে বদলে যাচ্ছে চাষিদের ভবিষ্যৎ ট্রাম্প কি মধ্যবর্তী নির্বাচন জিততে চান, নাকি রিপাবলিকান পার্টির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণই তাঁর আসল লক্ষ্য? ইরান যুদ্ধের প্রভাবে এশিয়ার পর্যটন খাতে নতুন সংকট, ভ্রমণ ব্যয় বাড়ায় কমছে পর্যটক মার্সিয়া লুকাস আর নেই: ‘স্টার ওয়ার্স’-এর সাফল্যের নেপথ্যের কিংবদন্তি সম্পাদক মারা গেলেন ৮০ বছর বয়সে ২০৩৫ সালের যুদ্ধবিমান প্রকল্পে চাপের মুখে যুক্তরাজ্য, উদ্বিগ্ন জাপান ও ইতালি ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: ধীরগতির ইরান আলোচনা, প্রয়োজনে ‘ভিন্ন পথে’ সমাধানের ইঙ্গিত দীর্ঘ সময় চার্জে রাখা ফোনের ঝুঁকি কতটা? মানিকগঞ্জে পারিবারিক বিরোধে ভাশুরের হামলা, নিহত ভাবি ও দেড় বছরের শিশু দিল্লিতে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শোনা যাচ্ছে আর্তচিৎকার উড়োজাহাজ ভাড়ার সংকট: জ্বালানি নয়, আসল সমস্যা বাজারের কাঠামো

ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় ২০২৫ সালে ২১৯ জনের প্রাণহানি, আহত পাঁচ শতাধিক

২০২৫ সালে রাজধানী ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংগঠন রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বছরজুড়ে ঢাকায় ৪০৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ২১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ২৫ জন নারী এবং ১৮ জন শিশু রয়েছে। একই সময়ে আহত হয়েছেন আরও ৫১১ জন।

বুধবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের বড় একটি অংশই ছিলেন পথচারী। মোট প্রাণহানির প্রায় ৪৭ শতাংশ পথচারী। এর পাশাপাশি মোটরসাইকেল আরোহীদের মৃত্যুর হারও উদ্বেগজনক, যা প্রায় ৪৩ শতাংশ। বাকি প্রায় ১০ শতাংশ নিহত হয়েছেন রিকশা, বাস এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক ও যাত্রীদের মধ্যে।

২০২৫ সালে ঢাকার সড়কে ৪০৯ দুর্ঘটনা, প্রাণহানি ২১৯

দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের ধরন
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের মধ্যে ভারী যানবাহনের অংশগ্রহণ সবচেয়ে বেশি। ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, পিকআপ, ট্যাংকার ও ময়লা বহনকারী গাড়ি মিলিয়ে প্রায় ৩৫ শতাংশ দুর্ঘটনায় এসব যান জড়িত ছিল। বাসের অংশগ্রহণ ছিল প্রায় ২৫ শতাংশ এবং মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে এই হার ছিল প্রায় ২২ শতাংশ। এছাড়া মাইক্রোবাস, ব্যক্তিগত গাড়ি ও জিপের অংশগ্রহণ ছিল প্রায় ৪ শতাংশের মতো। তিন চাকার যান ও মানবাহনের অংশ ছিল প্রায় ১২ শতাংশ এবং রিকশার অংশগ্রহণ ছিল আড়াই শতাংশের কম।

২০২৫ সালে ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় ২১৯ জনের মৃত্যু

দুর্ঘটনার পেছনের কারণ
প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে একাধিক কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ত্রুটিপূর্ণ ও অযোগ্য যানবাহন চলাচল, বেপরোয়া ও অসতর্ক চালনা, সড়কের নাজুক অবস্থা এবং চালকদের অবহেলা। পাশাপাশি ফুটপাত দখল করে হকারদের বসানো, ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করা, পর্যাপ্ত ও স্পষ্ট সাইনবোর্ডের অভাব এবং সড়ক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতনতার ঘাটতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি ও নানা ধরনের অনিয়মও দুর্ঘটনা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

সমাধানে সংগঠনের সুপারিশ
সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বেশ কিছু সুপারিশ দিয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীতে রুট রেশনালাইজেশনের মাধ্যমে আধুনিক কোম্পানিভিত্তিক বাস সার্ভিস চালুর কথা বলা হয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ ও অযোগ্য যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বাসের জন্য আলাদা লেন চালু করা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ বাস সার্ভিস চালু এবং সার্বিকভাবে বাসসেবার মান উন্নয়নের সুপারিশ করা হয়েছে।

এছাড়া ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারে জনসচেতনতা বাড়ানো ও প্রয়োজনীয় স্থানে নতুন ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ, ফুটপাত দখলমুক্ত করা, বিআরটিএ ও ডিটিসিএর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা এবং হাইড্রোলিক বহুতল পার্কিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। রেলক্রসিংয়ে ওভারপাস বা আন্ডারপাস নির্মাণ, বাইপাস সড়ক তৈরি এবং নিয়মিত জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানোর কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৫ সালে তিন পথে ঝরেছে ৯৭৫৪ প্রাণ, মৃত্যু বেড়েছে সড়কে

সার্বিকভাবে, এই পরিসংখ্যান ও বিশ্লেষণ রাজধানীর সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগের বার্তা দিচ্ছে এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের কফি বিপ্লব: বিশেষায়িত কফির উত্থানে বদলে যাচ্ছে চাষিদের ভবিষ্যৎ

ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় ২০২৫ সালে ২১৯ জনের প্রাণহানি, আহত পাঁচ শতাধিক

১২:৩৬:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

২০২৫ সালে রাজধানী ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংগঠন রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বছরজুড়ে ঢাকায় ৪০৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ২১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ২৫ জন নারী এবং ১৮ জন শিশু রয়েছে। একই সময়ে আহত হয়েছেন আরও ৫১১ জন।

বুধবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের বড় একটি অংশই ছিলেন পথচারী। মোট প্রাণহানির প্রায় ৪৭ শতাংশ পথচারী। এর পাশাপাশি মোটরসাইকেল আরোহীদের মৃত্যুর হারও উদ্বেগজনক, যা প্রায় ৪৩ শতাংশ। বাকি প্রায় ১০ শতাংশ নিহত হয়েছেন রিকশা, বাস এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক ও যাত্রীদের মধ্যে।

২০২৫ সালে ঢাকার সড়কে ৪০৯ দুর্ঘটনা, প্রাণহানি ২১৯

দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের ধরন
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের মধ্যে ভারী যানবাহনের অংশগ্রহণ সবচেয়ে বেশি। ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, পিকআপ, ট্যাংকার ও ময়লা বহনকারী গাড়ি মিলিয়ে প্রায় ৩৫ শতাংশ দুর্ঘটনায় এসব যান জড়িত ছিল। বাসের অংশগ্রহণ ছিল প্রায় ২৫ শতাংশ এবং মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে এই হার ছিল প্রায় ২২ শতাংশ। এছাড়া মাইক্রোবাস, ব্যক্তিগত গাড়ি ও জিপের অংশগ্রহণ ছিল প্রায় ৪ শতাংশের মতো। তিন চাকার যান ও মানবাহনের অংশ ছিল প্রায় ১২ শতাংশ এবং রিকশার অংশগ্রহণ ছিল আড়াই শতাংশের কম।

২০২৫ সালে ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় ২১৯ জনের মৃত্যু

দুর্ঘটনার পেছনের কারণ
প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে একাধিক কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ত্রুটিপূর্ণ ও অযোগ্য যানবাহন চলাচল, বেপরোয়া ও অসতর্ক চালনা, সড়কের নাজুক অবস্থা এবং চালকদের অবহেলা। পাশাপাশি ফুটপাত দখল করে হকারদের বসানো, ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করা, পর্যাপ্ত ও স্পষ্ট সাইনবোর্ডের অভাব এবং সড়ক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতনতার ঘাটতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি ও নানা ধরনের অনিয়মও দুর্ঘটনা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

সমাধানে সংগঠনের সুপারিশ
সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বেশ কিছু সুপারিশ দিয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীতে রুট রেশনালাইজেশনের মাধ্যমে আধুনিক কোম্পানিভিত্তিক বাস সার্ভিস চালুর কথা বলা হয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ ও অযোগ্য যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বাসের জন্য আলাদা লেন চালু করা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ বাস সার্ভিস চালু এবং সার্বিকভাবে বাসসেবার মান উন্নয়নের সুপারিশ করা হয়েছে।

এছাড়া ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারে জনসচেতনতা বাড়ানো ও প্রয়োজনীয় স্থানে নতুন ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ, ফুটপাত দখলমুক্ত করা, বিআরটিএ ও ডিটিসিএর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা এবং হাইড্রোলিক বহুতল পার্কিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। রেলক্রসিংয়ে ওভারপাস বা আন্ডারপাস নির্মাণ, বাইপাস সড়ক তৈরি এবং নিয়মিত জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানোর কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৫ সালে তিন পথে ঝরেছে ৯৭৫৪ প্রাণ, মৃত্যু বেড়েছে সড়কে

সার্বিকভাবে, এই পরিসংখ্যান ও বিশ্লেষণ রাজধানীর সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগের বার্তা দিচ্ছে এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।