০৯:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন: যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের একসময় নিষিদ্ধ ইসলামপন্থী দলের সঙ্গে ‘বন্ধুত্ব’ চায় শেয়ারবাজারে সপ্তাহের শেষ দিনে মিশ্র চিত্র; ডিএসইতে পতন, সিএসইতে উত্থান ঢাকা-১৫ আসনে নির্বাচনী প্রচার শুরু করলেন জামায়াতের আমির সিরাজগঞ্জে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে আহত ৯ ব্যাংকিং খাত সংস্কার রাতারাতি সম্ভব নয়: সালেহউদ্দিন বিএনপির মিডিয়া সেলের চেয়ে জামায়াতের বট আইডি কি বেশি সক্রিয় ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সাহসী সংগঠক জামায়াত আমির: নাহিদ ইসলাম ভারতে বসে শেখ হাসিনার বিবৃতি বাংলাদেশ প্রত্যাশা করে না- পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বাংলাদেশের স্থিতিশীলতার পক্ষে কার্যকর পদক্ষেপে মনোযোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান বেইজিংয়ের ইপিএসএমপি ২০২৫ বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রামে নাগরিক সমাজের প্রতিবাদ

শেভরনের দ্বিধা ও ভেনেজুয়েলার ঝুঁকি: ট্রাম্পের চাপেও বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে অনিচ্ছা

ভেনিজুয়েলার তেল খাত পুনরুজ্জীবনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র চাপ সত্ত্বেও বড় অঙ্কের বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে না শেভরন। দেশটিতে কার্যরত একমাত্র মার্কিন তেল কোম্পানি হলেও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, আইনি ঝুঁকি ও কম তেলের দামের বাস্তবতায় শেভরন এখনই বিলিয়ন ডলার ঢালতে প্রস্তুত নয়।

মাদুরো-পরবর্তী ভেনেজুয়েলা ও ট্রাম্পের প্রত্যাশা

এ মাসে নিকোলাস মাদুরোর নাটকীয় পতনের পর ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার জরাজীর্ণ তেলখাতে দ্রুত বিনিয়োগ চায়। ট্রাম্পের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের তেলের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় পঞ্চাশ ডলারে নামানো এবং সেই লক্ষ্য পূরণে তিনি মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোকে প্রায় একশ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে বাস্তবতা ভিন্ন। শেভরনের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন দ্রুত ও বিশাল বিনিয়োগ বাস্তবসম্মত নয়।

খোলাবাজারে ডলারের ফের চোখ রাঙানি

দামের অঙ্কে অর্থনীতির কঠিন হিসাব

শেভরনসহ তেলখাতের নির্বাহীরা মনে করছেন, লাভজনক বিনিয়োগের জন্য স্থিতিশীলতা ও উচ্চ তেলের দাম জরুরি। ট্রাম্পের কাঙ্ক্ষিত দামের কাঠামো অনুযায়ী ভেনেজুয়েলার ভারী তেলের মূল্য নেমে আসতে পারে ত্রিশ ডলারের শেষ ভাগে। সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা আমোস হকস্টেইনের ভাষায়, চল্লিশ ডলারের নিচে তেলের জন্য বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা বিশ্বের কোথাও টেকসই নয়।

লাইসেন্স, কূটনীতি ও শেয়ারহোল্ডারদের চাপ

ট্রাম্প প্রশাসন শেভরন ও অন্যান্য কোম্পানির সঙ্গে লাইসেন্স সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে এবং নতুন লাইসেন্সে আগ্রহী একাধিক উৎপাদকের কথাও বলছে। তবু শেভরনের জন্য বড় প্রশ্ন শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ। বর্তমান ঝুঁকিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পে নামা তাদের কাছে অতিরিক্ত বিপজ্জনক মনে হচ্ছে। অন্য দেশগুলোতে তুলনামূলক নিরাপদ ও লাভজনক খনন বিকল্প থাকায় ভেনেজুয়েলায় বড় ঝুঁকি নেওয়ার তাগিদ কম।

Chevron's Dilemma in Venezuela: Support Trump's Vision Without Losing Money  - WSJ

ট্রাম্প ও শেভরনের সূক্ষ্ম সমীকরণ

এই টানাপোড়েন শেভরনের প্রধান নির্বাহী মাইক ওয়ার্থের নেতৃত্বের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে উঠছে। হোয়াইট হাউস স্পষ্ট কোনো প্রণোদনা না দেওয়ায় তাকে একদিকে হঠকারী রাজনৈতিক চাপে, অন্যদিকে বিনিয়োগের বাস্তবতায় ভারসাম্য রাখতে হচ্ছে। মার-এ-লাগোতে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন আগের গৌরব ফিরিয়ে আনবে। এমনকি হোয়াইট হাউসে বৈঠকে শেভরনের ভাইস চেয়ারম্যান মার্ক নেলসন উৎপাদন বাড়ানোর আশ্বাস দিলেও অবকাঠামোতে বহু বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেননি।

বর্তমান উৎপাদন ও সীমিত সম্ভাবনা

ভেনেজুয়েলায় শেভরনের চারটি যৌথ উদ্যোগে প্রায় তিন হাজার কর্মী কাজ করেন এবং প্রতিদিন প্রায় দুই লাখ চল্লিশ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদিত হয়, যা দেশটির বর্তমান উৎপাদনের এক-তৃতীয়াংশ। নেলসনের দাবি অনুযায়ী, আগামী আঠারো থেকে চব্বিশ মাসে উৎপাদন প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ বাড়ানো সম্ভব, তবে সেটি বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করেই।

Trump ready to end Chevron's access to oil from Venezuela - Los Angeles  Times

আইনি অনিশ্চয়তা ও ভবিষ্যৎ ভাবনা

বড় বিনিয়োগের আগে তেল কোম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আর্থিক ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, চুক্তির আইনি সুরক্ষা এবং আইনশাসনের স্পষ্টতা চায়। নির্বাহীদের আশঙ্কা, রাজনৈতিক চাপের মুখে সই হওয়া চুক্তি ভবিষ্যতে আইনি জটিলতায় ফেলতে পারে। শেভরনের বক্তব্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে তারা নতুন করে মূল্যায়নে প্রস্তুত থাকবে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন: যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের একসময় নিষিদ্ধ ইসলামপন্থী দলের সঙ্গে ‘বন্ধুত্ব’ চায়

শেভরনের দ্বিধা ও ভেনেজুয়েলার ঝুঁকি: ট্রাম্পের চাপেও বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে অনিচ্ছা

০৭:৫৬:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

ভেনিজুয়েলার তেল খাত পুনরুজ্জীবনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র চাপ সত্ত্বেও বড় অঙ্কের বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে না শেভরন। দেশটিতে কার্যরত একমাত্র মার্কিন তেল কোম্পানি হলেও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, আইনি ঝুঁকি ও কম তেলের দামের বাস্তবতায় শেভরন এখনই বিলিয়ন ডলার ঢালতে প্রস্তুত নয়।

মাদুরো-পরবর্তী ভেনেজুয়েলা ও ট্রাম্পের প্রত্যাশা

এ মাসে নিকোলাস মাদুরোর নাটকীয় পতনের পর ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার জরাজীর্ণ তেলখাতে দ্রুত বিনিয়োগ চায়। ট্রাম্পের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের তেলের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় পঞ্চাশ ডলারে নামানো এবং সেই লক্ষ্য পূরণে তিনি মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোকে প্রায় একশ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে বাস্তবতা ভিন্ন। শেভরনের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন দ্রুত ও বিশাল বিনিয়োগ বাস্তবসম্মত নয়।

খোলাবাজারে ডলারের ফের চোখ রাঙানি

দামের অঙ্কে অর্থনীতির কঠিন হিসাব

শেভরনসহ তেলখাতের নির্বাহীরা মনে করছেন, লাভজনক বিনিয়োগের জন্য স্থিতিশীলতা ও উচ্চ তেলের দাম জরুরি। ট্রাম্পের কাঙ্ক্ষিত দামের কাঠামো অনুযায়ী ভেনেজুয়েলার ভারী তেলের মূল্য নেমে আসতে পারে ত্রিশ ডলারের শেষ ভাগে। সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা আমোস হকস্টেইনের ভাষায়, চল্লিশ ডলারের নিচে তেলের জন্য বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা বিশ্বের কোথাও টেকসই নয়।

লাইসেন্স, কূটনীতি ও শেয়ারহোল্ডারদের চাপ

ট্রাম্প প্রশাসন শেভরন ও অন্যান্য কোম্পানির সঙ্গে লাইসেন্স সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে এবং নতুন লাইসেন্সে আগ্রহী একাধিক উৎপাদকের কথাও বলছে। তবু শেভরনের জন্য বড় প্রশ্ন শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ। বর্তমান ঝুঁকিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পে নামা তাদের কাছে অতিরিক্ত বিপজ্জনক মনে হচ্ছে। অন্য দেশগুলোতে তুলনামূলক নিরাপদ ও লাভজনক খনন বিকল্প থাকায় ভেনেজুয়েলায় বড় ঝুঁকি নেওয়ার তাগিদ কম।

Chevron's Dilemma in Venezuela: Support Trump's Vision Without Losing Money  - WSJ

ট্রাম্প ও শেভরনের সূক্ষ্ম সমীকরণ

এই টানাপোড়েন শেভরনের প্রধান নির্বাহী মাইক ওয়ার্থের নেতৃত্বের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে উঠছে। হোয়াইট হাউস স্পষ্ট কোনো প্রণোদনা না দেওয়ায় তাকে একদিকে হঠকারী রাজনৈতিক চাপে, অন্যদিকে বিনিয়োগের বাস্তবতায় ভারসাম্য রাখতে হচ্ছে। মার-এ-লাগোতে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন আগের গৌরব ফিরিয়ে আনবে। এমনকি হোয়াইট হাউসে বৈঠকে শেভরনের ভাইস চেয়ারম্যান মার্ক নেলসন উৎপাদন বাড়ানোর আশ্বাস দিলেও অবকাঠামোতে বহু বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেননি।

বর্তমান উৎপাদন ও সীমিত সম্ভাবনা

ভেনেজুয়েলায় শেভরনের চারটি যৌথ উদ্যোগে প্রায় তিন হাজার কর্মী কাজ করেন এবং প্রতিদিন প্রায় দুই লাখ চল্লিশ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদিত হয়, যা দেশটির বর্তমান উৎপাদনের এক-তৃতীয়াংশ। নেলসনের দাবি অনুযায়ী, আগামী আঠারো থেকে চব্বিশ মাসে উৎপাদন প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ বাড়ানো সম্ভব, তবে সেটি বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করেই।

Trump ready to end Chevron's access to oil from Venezuela - Los Angeles  Times

আইনি অনিশ্চয়তা ও ভবিষ্যৎ ভাবনা

বড় বিনিয়োগের আগে তেল কোম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আর্থিক ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, চুক্তির আইনি সুরক্ষা এবং আইনশাসনের স্পষ্টতা চায়। নির্বাহীদের আশঙ্কা, রাজনৈতিক চাপের মুখে সই হওয়া চুক্তি ভবিষ্যতে আইনি জটিলতায় ফেলতে পারে। শেভরনের বক্তব্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে তারা নতুন করে মূল্যায়নে প্রস্তুত থাকবে।