জীবন খুব কম ক্ষেত্রেই পরিকল্পনা অনুযায়ী চলে—এই সত্যটিকে মৃদু হাসি আর গভীর মানবিকতায় পর্দায় তুলে ধরেছিলেন নির্মাতা ও অভিনেতা রব রেইনার। তাঁর সিনেমাগুলোর ভেতর দিয়ে বারবার ফিরে আসে সংযত মাধুর্য, ভাঙা মানুষদের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প, আর আশার প্রতি এক অবিচল বিশ্বাস। এই গুণই তাঁকে আলাদা করে চেনায় এবং রেখে যায় এক ঝকঝকে উত্তরাধিকার।
টাইম ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত চৌদ্দ ডিসেম্বর নিজ বাড়িতে স্ত্রী ও প্রযোজক মিশেল সিঙ্গার রেইনারের সঙ্গে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় রব রেইনারকে। শোবিজ জগত হারায় এমন একজন মানুষকে, যিনি শুধু নির্মাতা নন, দর্শকের আপনজনও ছিলেন।
অভিনয় থেকে নির্মাণ, সর্বত্র স্বাভাবিকতা
সত্তরের দশকের জনপ্রিয় টেলিভিশন ধারাবাহিকে উদারপন্থী মাইকেল স্টিভিক চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে নেন রেইনার। তাঁর সংলাপ বলার ভঙ্গি ছিল অনায়াস, অথচ নিখুঁত। এই স্বাভাবিকতাই তাঁকে মনে করিয়ে দিত পাশের বাড়ির পরিচিত মানুষটির কথা।
সিনেমায় নতুন ভাষার জন্ম
পরিচালক হিসেবে তাঁর প্রথম উল্লেখযোগ্য কাজ ছিল ব্যঙ্গধর্মী সংগীতচিত্র, যেখানে একটি কাল্পনিক ব্যান্ডকে ঘিরে তৈরি হয় এমন সব দৃশ্য, যা পরবর্তী প্রজন্মের সংস্কৃতিতেও প্রবাদে পরিণত হয়েছে। এরপর বন্ধুত্ব থেকে ভালোবাসায় পৌঁছানোর গল্পে রোমান্টিক কমেডির প্রচলিত ধারা ভেঙে দেন তিনি। জীবনের ধাক্কা খাওয়া দুই মানুষের সম্পর্ককে তিনি দেখান নরম, বাস্তব আর বিশ্বাসযোগ্যভাবে।

রূপকথা, ভয় আর মূলধারার বিনোদন
একদিকে ছিল তাঁর রূপকথাময় কল্পনার জগৎ, যেখানে হাসি আর রোমাঞ্চ একসঙ্গে মিশে যায়। অন্যদিকে ভয়ের গল্পে তিনি তুলে ধরেন মানুষের মানসিক দুর্বলতা আর শক্তির দ্বন্দ্ব। মূলধারার বিনোদনকে তিনি কখনোই হালকা মনে করেননি; বরং দর্শকের আবেগকে সম্মান জানিয়ে তৈরি করেছেন স্মরণীয় সব ছবি।
প্রযোজনায় বিস্তৃত প্রভাব
আশির দশকের শেষ দিকে সহ প্রতিষ্ঠিত প্রযোজনা সংস্থার মাধ্যমে তিনি আরও অনেক নির্মাতার কাজ দর্শকের কাছে পৌঁছে দেন। এই প্রতিষ্ঠান থেকে বেরিয়ে আসে কারাগারের ভেতর মানবিকতার গল্প কিংবা জটিল নারী চরিত্র কে ঘিরে শক্তিশালী চলচ্চিত্র। পর্দার আড়াল থেকেও রেইনার গড়ে তুলেছেন গল্প বলার এক সমৃদ্ধ পরিসর।
শেষ কাজ ও সম্পূর্ণতা
পরিচালক হিসেবে তাঁর শেষ ছবি ছিল আগের জনপ্রিয় ব্যঙ্গচিত্রেরই ধারাবাহিক রূপ। সেটি হয়তো অট্টহাসিতে ভরপুর নয়, কিন্তু আত্মসমালোচনা আর মমতায় ভরা এক বিদায়বার্তা। যেন নিজের জীবনদর্শনই সেখানে রেখে গেছেন তিনি—যা কিছু করো, পুরো মন দিয়ে করো, আধা মাপে নয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















