১১:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সবচেয়ে বড় উসকানি’, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণে ক্ষুব্ধ বেইজিং মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতির নতুন প্রতিযোগিতা: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার মধ্যস্থতাকারী কে? বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন শিথিলতা: বাণিজ্য অর্থায়নে বাড়ল ঋণসীমা কেরালার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন ভি ডি সতীশন, ১৮ মে শপথের সম্ভাবনা পাকিস্তানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ‘ফাতাহ-৪’ সফল পরীক্ষা, পাল্লা ও নিখুঁত আঘাতের সক্ষমতার দাবি বেইজিং বৈঠকে ইরান ইস্যু, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ বন্ধে ব্রিকসের জোরালো অবস্থান চাইল তেহরান মিয়ানমার নিয়ে বর্ণনার লড়াই: রাষ্ট্র, বৈধতা ও সংবাদমাধ্যমের দায় এল নিনোর শঙ্কায় ফের গম কেনায় ঝুঁকছে এশিয়া, বাড়ছে বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা চীনের সস্তা চিপের চাপে ভারতের সেমিকন্ডাক্টর স্বপ্ন, টাটার নতুন ফ্যাবের সামনে কঠিন লড়াই অভিনেত্রী নীনা ওয়াদিয়া: ‘আমাদের বাড়ির সব দেয়াল ছিল হলুদ, যেন একটা লেবু’

রব রেইনার: শোবিজে মানবিকতার এক উজ্জ্বল উত্তরাধিকার

জীবন খুব কম ক্ষেত্রেই পরিকল্পনা অনুযায়ী চলে—এই সত্যটিকে মৃদু হাসি আর গভীর মানবিকতায় পর্দায় তুলে ধরেছিলেন নির্মাতা ও অভিনেতা রব রেইনার। তাঁর সিনেমাগুলোর ভেতর দিয়ে বারবার ফিরে আসে সংযত মাধুর্য, ভাঙা মানুষদের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প, আর আশার প্রতি এক অবিচল বিশ্বাস। এই গুণই তাঁকে আলাদা করে চেনায় এবং রেখে যায় এক ঝকঝকে উত্তরাধিকার।

টাইম ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত চৌদ্দ ডিসেম্বর নিজ বাড়িতে স্ত্রী ও প্রযোজক মিশেল সিঙ্গার রেইনারের সঙ্গে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় রব রেইনারকে। শোবিজ জগত হারায় এমন একজন মানুষকে, যিনি শুধু নির্মাতা নন, দর্শকের আপনজনও ছিলেন।

অভিনয় থেকে নির্মাণ, সর্বত্র স্বাভাবিকতা
সত্তরের দশকের জনপ্রিয় টেলিভিশন ধারাবাহিকে উদারপন্থী মাইকেল স্টিভিক চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে নেন রেইনার। তাঁর সংলাপ বলার ভঙ্গি ছিল অনায়াস, অথচ নিখুঁত। এই স্বাভাবিকতাই তাঁকে মনে করিয়ে দিত পাশের বাড়ির পরিচিত মানুষটির কথা।

সিনেমায় নতুন ভাষার জন্ম
পরিচালক হিসেবে তাঁর প্রথম উল্লেখযোগ্য কাজ ছিল ব্যঙ্গধর্মী সংগীতচিত্র, যেখানে একটি কাল্পনিক ব্যান্ডকে ঘিরে তৈরি হয় এমন সব দৃশ্য, যা পরবর্তী প্রজন্মের সংস্কৃতিতেও প্রবাদে পরিণত হয়েছে। এরপর বন্ধুত্ব থেকে ভালোবাসায় পৌঁছানোর গল্পে রোমান্টিক কমেডির প্রচলিত ধারা ভেঙে দেন তিনি। জীবনের ধাক্কা খাওয়া দুই মানুষের সম্পর্ককে তিনি দেখান নরম, বাস্তব আর বিশ্বাসযোগ্যভাবে।

Rob Reiner Appreciation: A Really Good Man And A Great Director

রূপকথা, ভয় আর মূলধারার বিনোদন
একদিকে ছিল তাঁর রূপকথাময় কল্পনার জগৎ, যেখানে হাসি আর রোমাঞ্চ একসঙ্গে মিশে যায়। অন্যদিকে ভয়ের গল্পে তিনি তুলে ধরেন মানুষের মানসিক দুর্বলতা আর শক্তির দ্বন্দ্ব। মূলধারার বিনোদনকে তিনি কখনোই হালকা মনে করেননি; বরং দর্শকের আবেগকে সম্মান জানিয়ে তৈরি করেছেন স্মরণীয় সব ছবি।

প্রযোজনায় বিস্তৃত প্রভাব
আশির দশকের শেষ দিকে সহ প্রতিষ্ঠিত প্রযোজনা সংস্থার মাধ্যমে তিনি আরও অনেক নির্মাতার কাজ দর্শকের কাছে পৌঁছে দেন। এই প্রতিষ্ঠান থেকে বেরিয়ে আসে কারাগারের ভেতর মানবিকতার গল্প কিংবা জটিল নারী চরিত্র কে ঘিরে শক্তিশালী চলচ্চিত্র। পর্দার আড়াল থেকেও রেইনার গড়ে তুলেছেন গল্প বলার এক সমৃদ্ধ পরিসর।

শেষ কাজ ও সম্পূর্ণতা
পরিচালক হিসেবে তাঁর শেষ ছবি ছিল আগের জনপ্রিয় ব্যঙ্গচিত্রেরই ধারাবাহিক রূপ। সেটি হয়তো অট্টহাসিতে ভরপুর নয়, কিন্তু আত্মসমালোচনা আর মমতায় ভরা এক বিদায়বার্তা। যেন নিজের জীবনদর্শনই সেখানে রেখে গেছেন তিনি—যা কিছু করো, পুরো মন দিয়ে করো, আধা মাপে নয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সবচেয়ে বড় উসকানি’, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণে ক্ষুব্ধ বেইজিং

রব রেইনার: শোবিজে মানবিকতার এক উজ্জ্বল উত্তরাধিকার

১২:০২:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

জীবন খুব কম ক্ষেত্রেই পরিকল্পনা অনুযায়ী চলে—এই সত্যটিকে মৃদু হাসি আর গভীর মানবিকতায় পর্দায় তুলে ধরেছিলেন নির্মাতা ও অভিনেতা রব রেইনার। তাঁর সিনেমাগুলোর ভেতর দিয়ে বারবার ফিরে আসে সংযত মাধুর্য, ভাঙা মানুষদের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প, আর আশার প্রতি এক অবিচল বিশ্বাস। এই গুণই তাঁকে আলাদা করে চেনায় এবং রেখে যায় এক ঝকঝকে উত্তরাধিকার।

টাইম ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত চৌদ্দ ডিসেম্বর নিজ বাড়িতে স্ত্রী ও প্রযোজক মিশেল সিঙ্গার রেইনারের সঙ্গে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় রব রেইনারকে। শোবিজ জগত হারায় এমন একজন মানুষকে, যিনি শুধু নির্মাতা নন, দর্শকের আপনজনও ছিলেন।

অভিনয় থেকে নির্মাণ, সর্বত্র স্বাভাবিকতা
সত্তরের দশকের জনপ্রিয় টেলিভিশন ধারাবাহিকে উদারপন্থী মাইকেল স্টিভিক চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে নেন রেইনার। তাঁর সংলাপ বলার ভঙ্গি ছিল অনায়াস, অথচ নিখুঁত। এই স্বাভাবিকতাই তাঁকে মনে করিয়ে দিত পাশের বাড়ির পরিচিত মানুষটির কথা।

সিনেমায় নতুন ভাষার জন্ম
পরিচালক হিসেবে তাঁর প্রথম উল্লেখযোগ্য কাজ ছিল ব্যঙ্গধর্মী সংগীতচিত্র, যেখানে একটি কাল্পনিক ব্যান্ডকে ঘিরে তৈরি হয় এমন সব দৃশ্য, যা পরবর্তী প্রজন্মের সংস্কৃতিতেও প্রবাদে পরিণত হয়েছে। এরপর বন্ধুত্ব থেকে ভালোবাসায় পৌঁছানোর গল্পে রোমান্টিক কমেডির প্রচলিত ধারা ভেঙে দেন তিনি। জীবনের ধাক্কা খাওয়া দুই মানুষের সম্পর্ককে তিনি দেখান নরম, বাস্তব আর বিশ্বাসযোগ্যভাবে।

Rob Reiner Appreciation: A Really Good Man And A Great Director

রূপকথা, ভয় আর মূলধারার বিনোদন
একদিকে ছিল তাঁর রূপকথাময় কল্পনার জগৎ, যেখানে হাসি আর রোমাঞ্চ একসঙ্গে মিশে যায়। অন্যদিকে ভয়ের গল্পে তিনি তুলে ধরেন মানুষের মানসিক দুর্বলতা আর শক্তির দ্বন্দ্ব। মূলধারার বিনোদনকে তিনি কখনোই হালকা মনে করেননি; বরং দর্শকের আবেগকে সম্মান জানিয়ে তৈরি করেছেন স্মরণীয় সব ছবি।

প্রযোজনায় বিস্তৃত প্রভাব
আশির দশকের শেষ দিকে সহ প্রতিষ্ঠিত প্রযোজনা সংস্থার মাধ্যমে তিনি আরও অনেক নির্মাতার কাজ দর্শকের কাছে পৌঁছে দেন। এই প্রতিষ্ঠান থেকে বেরিয়ে আসে কারাগারের ভেতর মানবিকতার গল্প কিংবা জটিল নারী চরিত্র কে ঘিরে শক্তিশালী চলচ্চিত্র। পর্দার আড়াল থেকেও রেইনার গড়ে তুলেছেন গল্প বলার এক সমৃদ্ধ পরিসর।

শেষ কাজ ও সম্পূর্ণতা
পরিচালক হিসেবে তাঁর শেষ ছবি ছিল আগের জনপ্রিয় ব্যঙ্গচিত্রেরই ধারাবাহিক রূপ। সেটি হয়তো অট্টহাসিতে ভরপুর নয়, কিন্তু আত্মসমালোচনা আর মমতায় ভরা এক বিদায়বার্তা। যেন নিজের জীবনদর্শনই সেখানে রেখে গেছেন তিনি—যা কিছু করো, পুরো মন দিয়ে করো, আধা মাপে নয়।