যুক্তরাজ্যে আশ্রয় আবেদন নাকচ হওয়ার পর ধর্ষণের দায়ে সাত বছরের কারাদণ্ড পাওয়া এক বিদেশি নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। গোপনে ধারণ করা অডিও প্রমাণের ভিত্তিতে আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়া এই ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে বিদেশি অপরাধীদের দ্রুত বহিষ্কার নীতি।
ঘটনার বিবরণ
আটাশ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে একটি অভিবাসী হোটেলে থাকতেন। এক রাতে মদ্যপ অবস্থায় তিনি এক নারীর বাসায় হাজির হয়ে ঘনিষ্ঠতার দাবি জানান। নারীটি স্পষ্টভাবে অস্বীকৃতি জানালেও তিনি জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। ভয়াবহ মুহূর্তেও ভুক্তভোগী নারী মোবাইল ফোনে ঘটনার বড় অংশ রেকর্ড করে রাখেন, যা পরবর্তীতে আদালতে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
রায়ে বিচারক বলেন, জুরি সদস্যদের সামনে বাজানো রেকর্ডিং ছিল অত্যন্ত মর্মান্তিক। বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও অভিযুক্ত নিজের শরীরের ওজন ব্যবহার করে নারীকে দমিয়ে রাখেন এবং অবমাননাকর ভাষায় কথা বলেন। বিচারকের ভাষায়, এই আচরণ ছিল বিকৃত অধিকারবোধের বহিঃপ্রকাশ। সাজা ঘোষণার সময় আদালত জানায়, অভিবাসন অবস্থার কারণে দণ্ডের অবশিষ্ট অংশ নিজ দেশে ভোগ করতে হতে পারে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্বরাষ্ট্র দপ্তরের।

জুরি ও রায়
আসামি দাবি করেছিলেন যে নারীটি ঘটনা সাজিয়েছেন। তবে আদালতে উপস্থাপিত অডিও প্রমাণ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে জুরি তাকে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে। ঘটনার সময় তিনি ডরসেট অঞ্চলের একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন এবং তার যুক্তরাজ্যে থাকার আবেদন তখন বিচারাধীন ছিল।
ভুক্তভোগীর বক্তব্য
রায়ের সময় আদালতে দাঁড়িয়ে ভুক্তভোগী নারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তিনি বিশ্বাস করেছিলেন যে তিনি নিরাপদ, কিন্তু সেই বিশ্বাস ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সেই রাতের পর থেকে তার জীবনে স্থায়ী পরিবর্তন এসেছে। ঘন ঘন আতঙ্ক, ভয় ও নিজের ঘরে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তাকে প্রতিদিন তাড়া করে বেড়াচ্ছে।
বহিষ্কারের প্রক্রিয়া
সাজাপ্রাপ্ত এই ব্যক্তি বর্তমানে সরকারের আগাম প্রত্যাবাসন ব্যবস্থার আওতায় পড়ছেন। এই ব্যবস্থায় যুক্তরাজ্যে দণ্ডপ্রাপ্ত বিদেশি নাগরিকদের সাজা শেষ হওয়ার আগেই নিজ দেশে ফেরত পাঠানো যায়। তার আশ্রয় আবেদন ইতোমধ্যে প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় বহিষ্কারের পথ আরও স্পষ্ট হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















