দুই শতাধিক বছরের পথচলায় যুক্তরাষ্ট্র শুধু অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়নি, জন্ম দিয়েছে এমন সব প্রতিষ্ঠানকে, যারা বিশ্ব সংস্কৃতি ও সমাজের রূপ বদলে দিয়েছে। এই দীর্ঘ ব্যবসায়িক উত্তরাধিকারকে তুলে ধরতে একটি জাতীয় পর্যায়ের সমীক্ষার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রভাবশালী ২৫০টি কোম্পানির তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এই তালিকায় স্থান পেয়েছে এমন সব প্রতিষ্ঠান, যারা শুধু বাণিজ্যিকভাবে সফল নয়, বরং মানুষের জীবনযাপন, ভাবনা ও স্বপ্নের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।
আমেরিকার স্বপ্ন ও সৃজনশীলতার গল্প
মার্কিন বিপণন বিশেষজ্ঞ আমেরিকাস রিড মনে করেন, আমেরিকা বরাবরই নিজেকে একটি বিশেষ স্বপ্নের দেশ হিসেবে তুলে ধরেছে। নানা দেশ থেকে মেধাবী ও উদ্ভাবনী মানুষদের আহ্বান জানিয়ে এই দেশে এনে এক ধরনের সৃজনশীল ঘাঁটি তৈরি করা হয়েছে। এর ফলেই এখানে জন্ম নিয়েছে নতুন ধারণা, নতুন পণ্য ও নতুন সেবা, যা পরে বিশ্বজুড়ে প্রভাব বিস্তার করেছে। এই সৃজনশীলতা আজও দেশটির ব্র্যান্ড ও প্রতিষ্ঠানের ভেতরে গভীরভাবে প্রবাহিত।
শীর্ষে ফোর্ড, গণমানুষের চলাচলে বিপ্লব
তালিকার শীর্ষে থাকা ফোর্ড দীর্ঘদিন ধরেই আমেরিকান পরিচয়ের সঙ্গে নিজের ব্র্যান্ডকে যুক্ত করে রেখেছে। সাধারণ মানুষের জন্য গাড়িকে সহজলভ্য করে দিয়ে ফোর্ড উৎপাদন ব্যবস্থা ও পরিবহন খাতে বিপ্লব ঘটায়। এর প্রভাব পড়ে নগর উন্নয়ন ও মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। ফোর্ড পরিবারের বর্তমান নেতৃত্ব বলছে, তাদের পূর্বপুরুষ যেমন মানুষের চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছেন, তেমনি আধুনিক যুগেও তাদের লক্ষ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের জীবনকে আরও সহজ করা। ভবিষ্যতের পরিবহন ব্যবস্থাও তারা আমেরিকান শ্রমিকদের হাতেই গড়ে তুলতে চায়।
ম্যাকডোনাল্ডস ও বিশ্বজুড়ে আমেরিকান সংস্কৃতি
তালিকার প্রথম দিকেই থাকা ম্যাকডোনাল্ডস শুধু খাবারের চেইন নয়, বরং অনেক দেশের কাছে আমেরিকান সংস্কৃতির এক ধরনের দূত। দেশীয় বাজারে মানুষের জীবনযাত্রার চাহিদা বুঝে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করা এই ব্র্যান্ড বিদেশেও একই রকম ধারাবাহিকতা ও সহজলভ্যতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। একসময় এমন ঘটনাও ঘটেছে, যেখানে ইউরোপের একটি দেশে ম্যাকডোনাল্ডসের শাখা থেকেই মার্কিন কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়। বর্তমানে বিদেশের অনেক ম্যাকডোনাল্ডস শাখাই নিজস্ব আকর্ষণের কেন্দ্র।
ডিজনি, কল্পনা ও আনন্দের শতবর্ষ
গণমাধ্যম ও বিনোদনের দুনিয়ায় ডিজনি এক শতাব্দীর বেশি সময় ধরে আমেরিকান গল্পের অংশ। তাদের চরিত্র ও কাহিনি প্রজন্মের পর প্রজন্মকে আনন্দ, কল্পনা ও বিস্ময় উপহার দিয়েছে। ডিজনির নেতৃত্ব বলছে, প্রতিষ্ঠাতার সৃষ্টিশীল দৃষ্টিভঙ্গিই আজও তাদের অনুপ্রেরণা, যা নতুন গল্প বলার শক্তি জোগায়।
জন ডিয়ার ও দেশীয় উৎপাদনের গর্ব
তালিকার অন্যতম পুরোনো ব্র্যান্ড জন ডিয়ার এখনো যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেই তাদের উৎপাদন শক্ত অবস্থানে রেখেছে। কৃষক ও নির্মাণকর্মীদের সহায়তাই তাদের মূল লক্ষ্য। খাদ্য, জ্বালানি ও অবকাঠামো নির্মাণে যাদের ওপর দেশ নির্ভরশীল, তাদের পাশে থাকাই এই প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের অঙ্গীকার।
নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তি নেতৃত্ব
অভিবাসন ও রাজনীতিকে ঘিরে নানা টানাপোড়েনের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোক্তা মানসিকতা থেমে নেই। নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো জটিল প্রযুক্তিকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছে এবং ভবিষ্যতের নতুন উদ্ভাবনের পথে দ্রুত এগিয়ে চলেছে। এই ধারাবাহিকতাই প্রমাণ করে, আমেরিকার ব্যবসায়িক শক্তি এখনও প্রাণবন্ত।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















