০১:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
ট্রাম্পের ‘শান্তি বোর্ড’ ঘিরে দোটানায় দিল্লি, অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণের কূটনীতি ভারতের রব রেইনার: শোবিজে মানবিকতার এক উজ্জ্বল উত্তরাধিকার ডোনাল্ড ট্রাম্প যা চান, বিশ্বকূটনীতির রাশ তাঁর হাতেই আমেরিকার ২৫০ বছরের ব্যবসায়িক শক্তি যেভাবে বিশ্ব সংস্কৃতি গড়েছে মিত্রতা থেকে মুখ ফেরাল ওয়াশিংটন, কুর্দিদের ছেড়ে নতুন সিরিয়ার পাশে যুক্তরাষ্ট্র সরকারপ্রধান ও প্রেস সচিবের বক্তব্যে সন্দেহ অনিবার্য: গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট বাগেরহাটে কারাবন্দি ছাত্রলীগ নেতার স্ত্রী ও শিশুপুত্রের মরদেহ উদ্ধার সেগার রূপকার ডেভিড রোজেন ভিডিও গেম শিল্পের নীরব স্থপতির বিদায় দ্য প্রিন্টকে দেয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা : নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করা স্বৈরতন্ত্র, গণতন্ত্র নয় ধর্ষণের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত ব্যর্থ আশ্রয়প্রার্থীকে ফেরত পাঠানোর পথে যুক্তরাজ্য

ডোনাল্ড ট্রাম্প যা চান, বিশ্বকূটনীতির রাশ তাঁর হাতেই

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার আগেই ডোনাল্ড ট্রাম্প বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁর পররাষ্ট্রনীতি হবে ব্যক্তিকেন্দ্রিক, কঠোর এবং শাস্তিমূলক। শপথ নেওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগেই পানামা খাল ফিরিয়ে নেওয়ার হুমকি দিয়ে তিনি বিশ্ব রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন তুলেছিলেন। দীর্ঘ পঁচিশ বছর ধরে স্থিতিশীল থাকা একটি সম্পর্ক মুহূর্তেই টালমাটাল হয়ে ওঠে। ট্রাম্প অভিযোগ তোলেন, পানামা মার্কিন জাহাজ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে এবং খালের ব্যবস্থাপনায় চীনের প্রভাব বিপজ্জনকভাবে বেড়েছে।

এই ঘোষণাই ছিল দ্বিতীয় ট্রাম্প যুগের প্রথম ইঙ্গিত। হুমকির ভাষা এতটাই কঠোর ছিল যে অভিষেকের কয়েক দিনের মধ্যেই সামরিক পরিকল্পনাকারীরা পানামা খাল দখলের সম্ভাব্য কৌশল নিয়ে কাজ শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত সামরিক অভিযান প্রয়োজন হয়নি। পানামার প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মলিনো নীরবে বেশ কিছু ছাড় দিতে রাজি হন, যার মধ্যে চীনা বিনিয়োগ পুনর্বিবেচনার বিষয়টিও ছিল।

ভেনেজুয়েলা ও শক্তি প্রদর্শনের রাজনীতি
পানামার ক্ষেত্রে হুমকি ছিল কৌশল, কিন্তু ভেনেজুয়েলায় তা বাস্তব রূপ নেয়। নিকোলাস মাদুরোর সরকারের ওপর দীর্ঘ চাপের পর জানুয়ারির শুরুতে ট্রাম্প একটি দুঃসাহসিক সামরিক অভিযানের অনুমোদন দেন। লক্ষ্য ছিল ভেনেজুয়েলার শক্তিশালী নেতাকে আটক করা। ট্রাম্প এই পদক্ষেপকে একদিকে মাদকবিরোধী লড়াই, অন্যদিকে তেলের বিশাল ভাণ্ডারের দখল হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। পশ্চিম গোলার্ধে এটি ছিল কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক হস্তক্ষেপ, যা দেখিয়ে দেয় জোট গড়ার দীর্ঘ প্রক্রিয়া ছাড়াই একক সিদ্ধান্তে এগোতে কতটা প্রস্তুত তিনি।

প্রথম বছরেই বিস্ফোরক কর্মকাণ্ড
হোয়াইট হাউসে ফেরার প্রথম বছরেই ট্রাম্প একের পর এক চমক দেন। ইয়েমেনে জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলা, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা বর্ষণ, গাজায় ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি, ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর চাপ, চীনের কাছ থেকে বাণিজ্যিক ও কৌশলগত প্রতিশ্রুতি আদায়, প্রায় সব বড় বাণিজ্য অংশীদারের বিরুদ্ধে শুল্কের হুমকি—সব মিলিয়ে তাঁর কার্যক্রম আধুনিক ইতিহাসে নজিরবিহীন।

এই বিস্তৃত কর্মকাণ্ডই ট্রাম্প নীতির মূল। এখানে মার্কিন শক্তি কোনো প্রতিষ্ঠানের হাতে নয়, কেন্দ্রীভূত প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিত্বে। সিদ্ধান্ত বদলাতে সময় লাগে না, নিয়মের বাঁধনও কম।

কূটনীতিতে স্থিতিশীলতার ভাঙন
কূটনীতির জগতে যেখানে ধৈর্য ও স্থিতিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে ট্রাম্পের সংকীর্ণ উপদেষ্টা বৃত্ত এবং আনুগত্য ভিত্তিক নিয়োগ বড় পরিবর্তন এনেছে। অভিজ্ঞ কূটনীতিকদের মতে, এতে বৈশ্বিক সম্পর্ক আরও অস্থির হয়েছে। ইউরোপে ডানপন্থী আন্দোলন কে প্রকাশ্যে উৎসাহ দেওয়া এবং বৈদেশিক সাহায্যে আকস্মিক কাটছাঁট উন্নয়নশীল বিশ্বে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে।

Donald Trump Wants to Dismantle the Education Department. Here’s What That  Could Look Like.

অনিশ্চয়তার মধ্যেই প্রভাব
গাজায় যুদ্ধবিরতি সংঘাত কমালেও স্থায়ী সমাধান আনতে পারেনি। ইউক্রেনে শান্তির উদ্যোগকে অনেকে রাশিয়ার পক্ষে সহায়ক বলে সমালোচনা করছেন। তবু ট্রাম্পের অনিশ্চয়তাই তাঁর সবচেয়ে বড় অস্ত্র। বিশ্বনেতারা তাঁর রাগ এড়াতে নিজেদের আচরণ বদলাতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে দীর্ঘস্থায়ী জোট না গড়লেও অচলাবস্থা ভাঙছে বলে কেউ কেউ স্বীকার করেন।

নোবেল ও আবেগের কূটনীতি
ভেনিজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার পরও জটিলতায় পড়েন। ট্রাম্প নিজেই এই পুরস্কারের জন্য প্রকাশ্যে আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। ফোন করে পুরস্কারটি ট্রাম্পকে উৎসর্গ করার কথা বললেও শেষ পর্যন্ত তাঁর অসন্তোষ দূর হয়নি। এই ঘটনা দেখিয়ে দেয়, বিশ্বনেতাদের কাছে ট্রাম্পের আবেগ সামলানো এখন কৌশলগত অগ্রাধিকার।

লেনদেন ভিত্তিক বিশ্বদৃষ্টি
শুল্ক, সামরিক সহায়তা কিংবা নিরাপত্তা—সবই ট্রাম্পের কাছে লেনদেনের বিষয়। ইউক্রেনের কাছ থেকে খনিজ, ইউরোপের কাছ থেকে অস্ত্র কেনার প্রতিশ্রুতি, চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক দরকষাকষি—সব সিদ্ধান্তেই ‘আমেরিকা প্রথম’ ভাবনা স্পষ্ট। হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিটি পদক্ষেপের লক্ষ্য মার্কিন জনগণের প্রত্যক্ষ লাভ।

মিত্রদের সংশয় ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি
এই নীতিতে ট্রাম্পের নিজ দলের ভেতরে ও দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। ইউরোপে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর শর্তে নিরাপত্তা দেওয়ার ধারণা বহু মিত্রকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, স্পষ্ট লক্ষ্য না থাকলে এই কৌশল দীর্ঘমেয়াদে দুর্বলতা তৈরি করতে পারে।

দ্বিতীয় বছরের বড় পরীক্ষা
দ্বিতীয় বছরে ট্রাম্প গাজায় স্থায়ী শান্তি, ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান এবং চীনের কাছ থেকে বড় ছাড় আদায়ের লক্ষ্য নিয়েছেন। ভেনেজুয়েলাকে পুরোপুরি মার্কিন প্রভাব বলয়ে রাখার অঙ্গীকার করেছেন, যাকে তিনি নতুন নামে ডাকছেন। এসবের সামান্য অংশও বাস্তবায়িত হলে বিশ্বব্যবস্থা বদলে যাবে। প্রশ্ন একটাই, এই কঠোর ব্যক্তিকেন্দ্রিক কূটনীতি কি টেকসই সাফল্য আনবে, নাকি আরও গভীর বৈশ্বিক অস্থিরতার বীজ বুনবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের ‘শান্তি বোর্ড’ ঘিরে দোটানায় দিল্লি, অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণের কূটনীতি ভারতের

ডোনাল্ড ট্রাম্প যা চান, বিশ্বকূটনীতির রাশ তাঁর হাতেই

১১:০০:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার আগেই ডোনাল্ড ট্রাম্প বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁর পররাষ্ট্রনীতি হবে ব্যক্তিকেন্দ্রিক, কঠোর এবং শাস্তিমূলক। শপথ নেওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগেই পানামা খাল ফিরিয়ে নেওয়ার হুমকি দিয়ে তিনি বিশ্ব রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন তুলেছিলেন। দীর্ঘ পঁচিশ বছর ধরে স্থিতিশীল থাকা একটি সম্পর্ক মুহূর্তেই টালমাটাল হয়ে ওঠে। ট্রাম্প অভিযোগ তোলেন, পানামা মার্কিন জাহাজ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে এবং খালের ব্যবস্থাপনায় চীনের প্রভাব বিপজ্জনকভাবে বেড়েছে।

এই ঘোষণাই ছিল দ্বিতীয় ট্রাম্প যুগের প্রথম ইঙ্গিত। হুমকির ভাষা এতটাই কঠোর ছিল যে অভিষেকের কয়েক দিনের মধ্যেই সামরিক পরিকল্পনাকারীরা পানামা খাল দখলের সম্ভাব্য কৌশল নিয়ে কাজ শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত সামরিক অভিযান প্রয়োজন হয়নি। পানামার প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মলিনো নীরবে বেশ কিছু ছাড় দিতে রাজি হন, যার মধ্যে চীনা বিনিয়োগ পুনর্বিবেচনার বিষয়টিও ছিল।

ভেনেজুয়েলা ও শক্তি প্রদর্শনের রাজনীতি
পানামার ক্ষেত্রে হুমকি ছিল কৌশল, কিন্তু ভেনেজুয়েলায় তা বাস্তব রূপ নেয়। নিকোলাস মাদুরোর সরকারের ওপর দীর্ঘ চাপের পর জানুয়ারির শুরুতে ট্রাম্প একটি দুঃসাহসিক সামরিক অভিযানের অনুমোদন দেন। লক্ষ্য ছিল ভেনেজুয়েলার শক্তিশালী নেতাকে আটক করা। ট্রাম্প এই পদক্ষেপকে একদিকে মাদকবিরোধী লড়াই, অন্যদিকে তেলের বিশাল ভাণ্ডারের দখল হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। পশ্চিম গোলার্ধে এটি ছিল কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক হস্তক্ষেপ, যা দেখিয়ে দেয় জোট গড়ার দীর্ঘ প্রক্রিয়া ছাড়াই একক সিদ্ধান্তে এগোতে কতটা প্রস্তুত তিনি।

প্রথম বছরেই বিস্ফোরক কর্মকাণ্ড
হোয়াইট হাউসে ফেরার প্রথম বছরেই ট্রাম্প একের পর এক চমক দেন। ইয়েমেনে জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলা, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা বর্ষণ, গাজায় ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি, ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর চাপ, চীনের কাছ থেকে বাণিজ্যিক ও কৌশলগত প্রতিশ্রুতি আদায়, প্রায় সব বড় বাণিজ্য অংশীদারের বিরুদ্ধে শুল্কের হুমকি—সব মিলিয়ে তাঁর কার্যক্রম আধুনিক ইতিহাসে নজিরবিহীন।

এই বিস্তৃত কর্মকাণ্ডই ট্রাম্প নীতির মূল। এখানে মার্কিন শক্তি কোনো প্রতিষ্ঠানের হাতে নয়, কেন্দ্রীভূত প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিত্বে। সিদ্ধান্ত বদলাতে সময় লাগে না, নিয়মের বাঁধনও কম।

কূটনীতিতে স্থিতিশীলতার ভাঙন
কূটনীতির জগতে যেখানে ধৈর্য ও স্থিতিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে ট্রাম্পের সংকীর্ণ উপদেষ্টা বৃত্ত এবং আনুগত্য ভিত্তিক নিয়োগ বড় পরিবর্তন এনেছে। অভিজ্ঞ কূটনীতিকদের মতে, এতে বৈশ্বিক সম্পর্ক আরও অস্থির হয়েছে। ইউরোপে ডানপন্থী আন্দোলন কে প্রকাশ্যে উৎসাহ দেওয়া এবং বৈদেশিক সাহায্যে আকস্মিক কাটছাঁট উন্নয়নশীল বিশ্বে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে।

Donald Trump Wants to Dismantle the Education Department. Here’s What That  Could Look Like.

অনিশ্চয়তার মধ্যেই প্রভাব
গাজায় যুদ্ধবিরতি সংঘাত কমালেও স্থায়ী সমাধান আনতে পারেনি। ইউক্রেনে শান্তির উদ্যোগকে অনেকে রাশিয়ার পক্ষে সহায়ক বলে সমালোচনা করছেন। তবু ট্রাম্পের অনিশ্চয়তাই তাঁর সবচেয়ে বড় অস্ত্র। বিশ্বনেতারা তাঁর রাগ এড়াতে নিজেদের আচরণ বদলাতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে দীর্ঘস্থায়ী জোট না গড়লেও অচলাবস্থা ভাঙছে বলে কেউ কেউ স্বীকার করেন।

নোবেল ও আবেগের কূটনীতি
ভেনিজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার পরও জটিলতায় পড়েন। ট্রাম্প নিজেই এই পুরস্কারের জন্য প্রকাশ্যে আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। ফোন করে পুরস্কারটি ট্রাম্পকে উৎসর্গ করার কথা বললেও শেষ পর্যন্ত তাঁর অসন্তোষ দূর হয়নি। এই ঘটনা দেখিয়ে দেয়, বিশ্বনেতাদের কাছে ট্রাম্পের আবেগ সামলানো এখন কৌশলগত অগ্রাধিকার।

লেনদেন ভিত্তিক বিশ্বদৃষ্টি
শুল্ক, সামরিক সহায়তা কিংবা নিরাপত্তা—সবই ট্রাম্পের কাছে লেনদেনের বিষয়। ইউক্রেনের কাছ থেকে খনিজ, ইউরোপের কাছ থেকে অস্ত্র কেনার প্রতিশ্রুতি, চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক দরকষাকষি—সব সিদ্ধান্তেই ‘আমেরিকা প্রথম’ ভাবনা স্পষ্ট। হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিটি পদক্ষেপের লক্ষ্য মার্কিন জনগণের প্রত্যক্ষ লাভ।

মিত্রদের সংশয় ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি
এই নীতিতে ট্রাম্পের নিজ দলের ভেতরে ও দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। ইউরোপে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর শর্তে নিরাপত্তা দেওয়ার ধারণা বহু মিত্রকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, স্পষ্ট লক্ষ্য না থাকলে এই কৌশল দীর্ঘমেয়াদে দুর্বলতা তৈরি করতে পারে।

দ্বিতীয় বছরের বড় পরীক্ষা
দ্বিতীয় বছরে ট্রাম্প গাজায় স্থায়ী শান্তি, ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান এবং চীনের কাছ থেকে বড় ছাড় আদায়ের লক্ষ্য নিয়েছেন। ভেনেজুয়েলাকে পুরোপুরি মার্কিন প্রভাব বলয়ে রাখার অঙ্গীকার করেছেন, যাকে তিনি নতুন নামে ডাকছেন। এসবের সামান্য অংশও বাস্তবায়িত হলে বিশ্বব্যবস্থা বদলে যাবে। প্রশ্ন একটাই, এই কঠোর ব্যক্তিকেন্দ্রিক কূটনীতি কি টেকসই সাফল্য আনবে, নাকি আরও গভীর বৈশ্বিক অস্থিরতার বীজ বুনবে।