০৯:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
রামিসা হত্যা মামলায় প্রাণভিক্ষা চাইলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শূন্য পাতার ভয় কাটিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় গাইডেড জার্নালের উত্থান জাপানে সার সংকটের আশঙ্কা, বাড়ছে কৃষি ব্যয় স্ট্রিমিংয়ে রাজত্ব, কনসার্টে শূন্যতা? দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংগীত বাজারে ইন্দোনেশিয়ার নতুন ধাঁধা ইউরোপের নতুন বার্তা: যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এগোতে চায় মিত্ররা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে বৈদ্যুতিক গাড়ি: ভবিষ্যতের শক্তি নির্ধারণ করবে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তিতে ক্ষুব্ধ ইসরাইল, চাপে নেতানিয়াহু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে অগ্রগতি হলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে প্রস্তুত ইউরোপের চার দেশ তিন চাকার যানবাহন মহাসড়কে নয়, আসছে কঠোর নীতিমালা পাবনায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, যুবদল নেতা সিরাজগঞ্জে গ্রেফতার

ট্রাম্পের ‘শান্তি বোর্ড’ ঘিরে দোটানায় দিল্লি, অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণের কূটনীতি ভারতের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বমঞ্চে নতুন করে ‘শান্তি বোর্ড’ উন্মোচন করলেও তাতে এখনই যোগ দিচ্ছে না ভারত। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভারতের অনুপস্থিতি স্পষ্ট করে দিয়েছে দিল্লির কৌশলগত সতর্কতা। আমন্ত্রণ না প্রত্যাখ্যান করে, আবার গ্রহণও না করে আপাতত অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণের পথেই হাঁটছে নয়াদিল্লি।

কেন এখনই সিদ্ধান্ত নয়

দিল্লির কূটনৈতিক মহলের মতে, এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার আগে একাধিক বিষয় গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বোর্ডের সদস্য দেশগুলো কারা, এর গ্রহণযোগ্যতা ও ভবিষ্যৎ কতটা স্থায়ী, জাতিসংঘের কাঠামোর সঙ্গে এর সম্পর্ক কী হবে এবং ইসরায়েল–ফিলিস্তিন প্রশ্নে ভারতের দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের অবস্থানের সঙ্গে এটি কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ—সবকিছুই বিবেচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে বোর্ডে না যোগ দিলে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে, সেটিও ভাবনায় আছে।

সদস্য তালিকা নিয়ে প্রশ্ন

ট্রাম্পের ডাকে যেসব দেশ ইতিমধ্যে সাড়া দিয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, মিসর, ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক ও জর্ডানের মতো পশ্চিম এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র। তবে ইউরোপের বড় শক্তিগুলো মূলত দূরে রয়েছে। ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ইতালি বা সুইডেন কেউই এতে যোগ দেয়নি। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য রাশিয়া ও চীনও বাইরে। দিল্লির দৃষ্টিতে এতে বোর্ডের ওজন ও বৈধতা আপাতত সীমিত।

স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয়

এই উদ্যোগকে অনেকেই ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আগ্রহের প্রকল্প হিসেবে দেখছেন। ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হলে বোর্ডটি আদৌ কার্যকর থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দিল্লির আশঙ্কা, এমন একটি সময়সীমাবদ্ধ উদ্যোগে যুক্ত হয়ে পরে একা পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি আছে, বিশেষ করে আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে।

জাতিসংঘ ও বহুপাক্ষিক তার চ্যালেঞ্জ

ভারত দীর্ঘদিন ধরেই জাতিসংঘ ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিয়ে এসেছে। শান্তি বোর্ড যদি জাতিসংঘের বিকল্প বা সমান্তরাল কাঠামো হিসেবে দাঁড়ায়, তাহলে তা ভারতের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। ট্রাম্প বোর্ডে জাতিসংঘের ভূমিকার কথা বললেও এর সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি ও সীমা এখনো অস্পষ্ট।

গাজা ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে ভূমিকা

দিল্লির আরেকটি উদ্বেগ হলো, বোর্ডটি গাজার বাইরে অন্য সংঘাতেও জড়িয়ে পড়তে পারে। ট্রাম্প অতীতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে নিজস্ব কৃতিত্ব দাবি করতে আগ্রহী ছিলেন, যা ভারতের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী গাজার মধ্যেই বোর্ডের ভূমিকা সীমিত রাখার পক্ষে মত দিলেও ট্রাম্প একে বিশ্বব্যাপী উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।

পাকিস্তান ফ্যাক্টর

দাভোসের অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকায় ভারতের সিদ্ধান্ত আরও জটিল হয়েছে। দিল্লির একাংশের মতে, ভবিষ্যতে ভারত–পাকিস্তান সম্পর্কিত কোনো বিষয়ে বোর্ডে আলোচনা হলে বাইরে থাকলে ভারতের প্রভাব কমে যেতে পারে। আবার যোগ দিলে কৌশলগত ঝুঁকিও রয়েছে।

সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের ‘শান্তি বোর্ড’ নিয়ে ভারতের অবস্থান এখনো খোলা। দিল্লি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নয়, বরং সময় নিয়ে সব দিক বিচার করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রামিসা হত্যা মামলায় প্রাণভিক্ষা চাইলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি

ট্রাম্পের ‘শান্তি বোর্ড’ ঘিরে দোটানায় দিল্লি, অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণের কূটনীতি ভারতের

০১:০০:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বমঞ্চে নতুন করে ‘শান্তি বোর্ড’ উন্মোচন করলেও তাতে এখনই যোগ দিচ্ছে না ভারত। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভারতের অনুপস্থিতি স্পষ্ট করে দিয়েছে দিল্লির কৌশলগত সতর্কতা। আমন্ত্রণ না প্রত্যাখ্যান করে, আবার গ্রহণও না করে আপাতত অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণের পথেই হাঁটছে নয়াদিল্লি।

কেন এখনই সিদ্ধান্ত নয়

দিল্লির কূটনৈতিক মহলের মতে, এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার আগে একাধিক বিষয় গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বোর্ডের সদস্য দেশগুলো কারা, এর গ্রহণযোগ্যতা ও ভবিষ্যৎ কতটা স্থায়ী, জাতিসংঘের কাঠামোর সঙ্গে এর সম্পর্ক কী হবে এবং ইসরায়েল–ফিলিস্তিন প্রশ্নে ভারতের দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের অবস্থানের সঙ্গে এটি কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ—সবকিছুই বিবেচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে বোর্ডে না যোগ দিলে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে, সেটিও ভাবনায় আছে।

সদস্য তালিকা নিয়ে প্রশ্ন

ট্রাম্পের ডাকে যেসব দেশ ইতিমধ্যে সাড়া দিয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, মিসর, ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক ও জর্ডানের মতো পশ্চিম এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র। তবে ইউরোপের বড় শক্তিগুলো মূলত দূরে রয়েছে। ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ইতালি বা সুইডেন কেউই এতে যোগ দেয়নি। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য রাশিয়া ও চীনও বাইরে। দিল্লির দৃষ্টিতে এতে বোর্ডের ওজন ও বৈধতা আপাতত সীমিত।

স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয়

এই উদ্যোগকে অনেকেই ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আগ্রহের প্রকল্প হিসেবে দেখছেন। ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হলে বোর্ডটি আদৌ কার্যকর থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দিল্লির আশঙ্কা, এমন একটি সময়সীমাবদ্ধ উদ্যোগে যুক্ত হয়ে পরে একা পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি আছে, বিশেষ করে আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে।

জাতিসংঘ ও বহুপাক্ষিক তার চ্যালেঞ্জ

ভারত দীর্ঘদিন ধরেই জাতিসংঘ ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিয়ে এসেছে। শান্তি বোর্ড যদি জাতিসংঘের বিকল্প বা সমান্তরাল কাঠামো হিসেবে দাঁড়ায়, তাহলে তা ভারতের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। ট্রাম্প বোর্ডে জাতিসংঘের ভূমিকার কথা বললেও এর সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি ও সীমা এখনো অস্পষ্ট।

গাজা ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে ভূমিকা

দিল্লির আরেকটি উদ্বেগ হলো, বোর্ডটি গাজার বাইরে অন্য সংঘাতেও জড়িয়ে পড়তে পারে। ট্রাম্প অতীতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে নিজস্ব কৃতিত্ব দাবি করতে আগ্রহী ছিলেন, যা ভারতের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী গাজার মধ্যেই বোর্ডের ভূমিকা সীমিত রাখার পক্ষে মত দিলেও ট্রাম্প একে বিশ্বব্যাপী উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।

পাকিস্তান ফ্যাক্টর

দাভোসের অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকায় ভারতের সিদ্ধান্ত আরও জটিল হয়েছে। দিল্লির একাংশের মতে, ভবিষ্যতে ভারত–পাকিস্তান সম্পর্কিত কোনো বিষয়ে বোর্ডে আলোচনা হলে বাইরে থাকলে ভারতের প্রভাব কমে যেতে পারে। আবার যোগ দিলে কৌশলগত ঝুঁকিও রয়েছে।

সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের ‘শান্তি বোর্ড’ নিয়ে ভারতের অবস্থান এখনো খোলা। দিল্লি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নয়, বরং সময় নিয়ে সব দিক বিচার করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।