১০:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
আমেরিকার ২৫০ বছরের ব্যবসায়িক শক্তি যেভাবে বিশ্ব সংস্কৃতি গড়েছে মিত্রতা থেকে মুখ ফেরাল ওয়াশিংটন, কুর্দিদের ছেড়ে নতুন সিরিয়ার পাশে যুক্তরাষ্ট্র সরকারপ্রধান ও প্রেস সচিবের বক্তব্যে সন্দেহ অনিবার্য: গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট বাগেরহাটে কারাবন্দি ছাত্রলীগ নেতার স্ত্রী ও শিশুপুত্রের মরদেহ উদ্ধার সেগার রূপকার ডেভিড রোজেন ভিডিও গেম শিল্পের নীরব স্থপতির বিদায় দ্য প্রিন্টকে দেয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা : নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করা স্বৈরতন্ত্র, গণতন্ত্র নয় ধর্ষণের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত ব্যর্থ আশ্রয়প্রার্থীকে ফেরত পাঠানোর পথে যুক্তরাজ্য মাদ্রিদে ভেনেজুয়েলার নির্বাচিতদের অপেক্ষা, মাদুরো ধরা পড়লেও ক্ষমতা এখনো তার ঘনিষ্ঠদের হাতে ট্রাম্প নীতির দীর্ঘ ছায়া, আজ স্থিতিশীল দেখালেও ভবিষ্যতে চাপে পড়তে পারে মার্কিন অর্থনীতি নবজাতক হত্যা মামলায় লুসি লেটবি: নতুন তথ্যচিত্রে কান্না, অস্বীকার আর তদন্তের অন্ধকার অধ্যায়

মিত্রতা থেকে মুখ ফেরাল ওয়াশিংটন, কুর্দিদের ছেড়ে নতুন সিরিয়ার পাশে যুক্তরাষ্ট্র

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে যে কুর্দি যোদ্ধারা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মিত্র হিসেবে সিরিয়ায় যুদ্ধ করেছে, আজ তাদের দিকেই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে ওয়াশিংটন। আন্তর্জাতিক রাজনীতির নতুন সমীকরণে যুক্তরাষ্ট্র এবার সমর্থন দিচ্ছে সিরিয়ার নতুন সরকারের হাতে, যার ফলে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।

আইএস বিরোধী লড়াইয়ে দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছে সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস। মার্কিন ঘাঁটি পাহারা দেওয়া থেকে শুরু করে হাজার হাজার জঙ্গি ও তাদের পরিবারকে আটক রাখার দায়িত্ব ছিল এই বাহিনীর ওপর। কিন্তু সেই ঘনিষ্ঠ জোট এখন ভেঙে পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অবস্থানের ফলে প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারার নেতৃত্বাধীন সিরিয়ার সরকার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সেনা মোতায়েন শুরু করেছে এবং কুর্দি নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলো দখল নিচ্ছে।

US-Kurdish Relations | The Kurdish Project

ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন

এই পরিবর্তন সিরিয়ার রাজনৈতিক রূপান্তরের ক্ষেত্রে এক বড় মোড়। সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের পতনের পর দেশকে একত্রিত করতে হিমশিম খাচ্ছিলেন আহমেদ আল শারা। যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত মোড় ঘোরানো তার জন্য বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি তুরস্কেরও কূটনৈতিক জয়, যারা দীর্ঘদিন ধরেই কুর্দি বাহিনীকে সমর্থন দেওয়ার বিরোধিতা করে আসছিল।

অন্যদিকে কুর্দি শিবিরে এই সিদ্ধান্তকে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বহু মার্কিন কর্মকর্তা, যারা সরাসরি এই বাহিনীর সঙ্গে কাজ করেছেন, তারা এই অবস্থানে অস্বস্তি প্রকাশ করছেন। তাদের যুক্তি, হাজার হাজার যোদ্ধার প্রাণের বিনিময়ে গড়ে ওঠা এই জোটকে এভাবে ছেড়ে দেওয়া নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

কুর্দি বাহিনীর উত্থান ও বিতর্ক

আইএসের উত্থানের ভয়াবহ সময়ে কুর্দি মিলিশিয়াদের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলে যুক্তরাষ্ট্র। কোবানি শহর রক্ষায় অস্ত্র সহায়তা থেকে শুরু করে আর্থিক ও সামরিক সমর্থনের মাধ্যমে এই বাহিনী ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়। পরে আরব যোদ্ধাদের যুক্ত করে তারা নিজেদের নাম দেয় সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস।

এই বাহিনীর নেতৃত্বে আইএসের তথাকথিত খেলাফতের পতন ঘটে। কিন্তু তাদের কুর্দি আধিপত্য আর তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্কিত বিদ্রোহী গোষ্ঠীর যোগসূত্র নিয়ে বরাবরই বিতর্ক ছিল। তুরস্ক তাদের সরাসরি কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির সম্প্রসারণ হিসেবে দেখে এসেছে।

Eight Times the U.S. Has Betrayed the Kurds

নতুন সরকারের সঙ্গে ব্যর্থ সমঝোতা

আসাদ সরকারের পতনের পর যুক্তরাষ্ট্র চেষ্টা করেছিল কুর্দি বাহিনী ও নতুন সিরিয়ান সরকারের মধ্যে সমঝোতা করাতে। মার্কিন দূত থমাস ব্যারাকের মধ্যস্থতায় একটি চুক্তি ও হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কুর্দি বাহিনী তাদের অস্ত্র ও প্রশাসন দামেস্কের নিয়ন্ত্রণে দিতে ব্যর্থ হয়।

এরপর ধৈর্য হারিয়ে সামরিক পদক্ষেপ নেয় নতুন সরকার। আলেপ্পোর কুর্দি অধ্যুষিত এলাকা থেকে শুরু করে রাক্কা ও দেইর আল জোর পর্যন্ত দ্রুত অগ্রসর হয় সরকারি বাহিনী। বিশ্লেষকদের মতে, এই অগ্রযাত্রার পেছনে তুরস্ক, সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন বড় ভূমিকা রেখেছে।

If US troops leave Syria, what happens to America's Kurdish partners in the  fight?

ওয়াশিংটনের বার্তা ও উদ্বেগ

মার্কিন দূতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া মন্তব্য, যেখানে কুর্দি বাহিনীর ভূমিকা শেষ হয়ে গেছে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়, কুর্দিদের মধ্যে আরও হতাশা তৈরি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও একদিকে নতুন সিরিয়ান সরকারের প্রশংসা করলেও অন্যদিকে কুর্দিদের সুরক্ষার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে কুর্দিরা নিজেদের স্বার্থেই লড়েছে।

এই অবস্থার মধ্যে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র। ইতিমধ্যে হাসাকাহ থেকে শতাধিক আইএস বন্দিকে ইরাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, নতুন বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্র নিজেও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন।

জনপ্রিয় সংবাদ

আমেরিকার ২৫০ বছরের ব্যবসায়িক শক্তি যেভাবে বিশ্ব সংস্কৃতি গড়েছে

মিত্রতা থেকে মুখ ফেরাল ওয়াশিংটন, কুর্দিদের ছেড়ে নতুন সিরিয়ার পাশে যুক্তরাষ্ট্র

০৮:৩৪:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে যে কুর্দি যোদ্ধারা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মিত্র হিসেবে সিরিয়ায় যুদ্ধ করেছে, আজ তাদের দিকেই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে ওয়াশিংটন। আন্তর্জাতিক রাজনীতির নতুন সমীকরণে যুক্তরাষ্ট্র এবার সমর্থন দিচ্ছে সিরিয়ার নতুন সরকারের হাতে, যার ফলে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।

আইএস বিরোধী লড়াইয়ে দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছে সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস। মার্কিন ঘাঁটি পাহারা দেওয়া থেকে শুরু করে হাজার হাজার জঙ্গি ও তাদের পরিবারকে আটক রাখার দায়িত্ব ছিল এই বাহিনীর ওপর। কিন্তু সেই ঘনিষ্ঠ জোট এখন ভেঙে পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অবস্থানের ফলে প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারার নেতৃত্বাধীন সিরিয়ার সরকার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সেনা মোতায়েন শুরু করেছে এবং কুর্দি নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলো দখল নিচ্ছে।

US-Kurdish Relations | The Kurdish Project

ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন

এই পরিবর্তন সিরিয়ার রাজনৈতিক রূপান্তরের ক্ষেত্রে এক বড় মোড়। সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের পতনের পর দেশকে একত্রিত করতে হিমশিম খাচ্ছিলেন আহমেদ আল শারা। যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত মোড় ঘোরানো তার জন্য বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি তুরস্কেরও কূটনৈতিক জয়, যারা দীর্ঘদিন ধরেই কুর্দি বাহিনীকে সমর্থন দেওয়ার বিরোধিতা করে আসছিল।

অন্যদিকে কুর্দি শিবিরে এই সিদ্ধান্তকে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বহু মার্কিন কর্মকর্তা, যারা সরাসরি এই বাহিনীর সঙ্গে কাজ করেছেন, তারা এই অবস্থানে অস্বস্তি প্রকাশ করছেন। তাদের যুক্তি, হাজার হাজার যোদ্ধার প্রাণের বিনিময়ে গড়ে ওঠা এই জোটকে এভাবে ছেড়ে দেওয়া নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

কুর্দি বাহিনীর উত্থান ও বিতর্ক

আইএসের উত্থানের ভয়াবহ সময়ে কুর্দি মিলিশিয়াদের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলে যুক্তরাষ্ট্র। কোবানি শহর রক্ষায় অস্ত্র সহায়তা থেকে শুরু করে আর্থিক ও সামরিক সমর্থনের মাধ্যমে এই বাহিনী ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়। পরে আরব যোদ্ধাদের যুক্ত করে তারা নিজেদের নাম দেয় সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস।

এই বাহিনীর নেতৃত্বে আইএসের তথাকথিত খেলাফতের পতন ঘটে। কিন্তু তাদের কুর্দি আধিপত্য আর তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্কিত বিদ্রোহী গোষ্ঠীর যোগসূত্র নিয়ে বরাবরই বিতর্ক ছিল। তুরস্ক তাদের সরাসরি কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির সম্প্রসারণ হিসেবে দেখে এসেছে।

Eight Times the U.S. Has Betrayed the Kurds

নতুন সরকারের সঙ্গে ব্যর্থ সমঝোতা

আসাদ সরকারের পতনের পর যুক্তরাষ্ট্র চেষ্টা করেছিল কুর্দি বাহিনী ও নতুন সিরিয়ান সরকারের মধ্যে সমঝোতা করাতে। মার্কিন দূত থমাস ব্যারাকের মধ্যস্থতায় একটি চুক্তি ও হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কুর্দি বাহিনী তাদের অস্ত্র ও প্রশাসন দামেস্কের নিয়ন্ত্রণে দিতে ব্যর্থ হয়।

এরপর ধৈর্য হারিয়ে সামরিক পদক্ষেপ নেয় নতুন সরকার। আলেপ্পোর কুর্দি অধ্যুষিত এলাকা থেকে শুরু করে রাক্কা ও দেইর আল জোর পর্যন্ত দ্রুত অগ্রসর হয় সরকারি বাহিনী। বিশ্লেষকদের মতে, এই অগ্রযাত্রার পেছনে তুরস্ক, সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন বড় ভূমিকা রেখেছে।

If US troops leave Syria, what happens to America's Kurdish partners in the  fight?

ওয়াশিংটনের বার্তা ও উদ্বেগ

মার্কিন দূতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া মন্তব্য, যেখানে কুর্দি বাহিনীর ভূমিকা শেষ হয়ে গেছে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়, কুর্দিদের মধ্যে আরও হতাশা তৈরি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও একদিকে নতুন সিরিয়ান সরকারের প্রশংসা করলেও অন্যদিকে কুর্দিদের সুরক্ষার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে কুর্দিরা নিজেদের স্বার্থেই লড়েছে।

এই অবস্থার মধ্যে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র। ইতিমধ্যে হাসাকাহ থেকে শতাধিক আইএস বন্দিকে ইরাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, নতুন বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্র নিজেও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন।