গাজা উপত্যকার সঙ্গে মিসরের একমাত্র স্থল সীমান্ত রাফাহ ক্রসিং আবার খুলতে যাচ্ছে। কিন্তু এই খোলার পেছনে নতুন এক পরিকল্পনা সামনে এনেছে ইসরায়েল। তাদের লক্ষ্য, রাফাহ দিয়ে যত ফিলিস্তিনি গাজায় প্রবেশ করবেন, তার চেয়ে বেশি মানুষ যেন গাজা ছাড়তে বাধ্য হন। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই কৌশল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
রাফাহ সীমান্ত খোলার প্রস্তুতি
মার্কিন সমর্থিত একটি অন্তর্বর্তী ফিলিস্তিনি কমিটির প্রধান আলি শাআত জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহেই রাফাহ সীমান্ত খুলে দেওয়া হতে পারে। গাজায় বসবাসরত প্রায় বিশ লাখ মানুষের জন্য এই সীমান্তই বাইরের বিশ্বের সঙ্গে একমাত্র কার্যকর যোগাযোগের পথ। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সীমান্ত খোলার খবরে মানুষের মধ্যে আশার পাশাপাশি নতুন উদ্বেগও তৈরি হয়েছে।
যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি ও বাস্তব নিয়ন্ত্রণ
ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপেই রাফাহ সীমান্ত খোলার কথা ছিল। পরে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, পুরো পরিকল্পনা এখন দ্বিতীয় ধাপে ঢুকেছে। এই ধাপে গাজা থেকে আরও সেনা প্রত্যাহার এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তরের কথা থাকলেও বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন। ২০২৪ সাল থেকেই সীমান্তের গাজা অংশ ইসরায়েলি সেনাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সেই নিয়ন্ত্রণ এখনো বহাল।
ইসরায়েলের লক্ষ্য নিয়ে প্রশ্ন
সূত্রগুলো জানায়, ইসরায়েল এখনো স্পষ্ট করে জানায়নি কীভাবে গাজায় প্রবেশ সীমিত করা হবে কিংবা কতজন বেরোলে কতজন ঢুকতে পারবেন। অতীতে ইসরায়েল গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের অন্যত্র চলে যেতে উৎসাহ দেওয়ার কথা বললেও জোরপূর্বক স্থানান্তরের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে গাজার মানুষের আশঙ্কা, একবার সীমান্ত পেরিয়ে বেরিয়ে গেলে অনেককেই আর ফিরে আসতে দেওয়া নাও হতে পারে।

নিরাপত্তা চেকপোস্টের নতুন পরিকল্পনা
রাফাহ সীমান্তের কাছেই গাজার ভেতরে একটি সামরিক চেকপোস্ট বসানোর পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল। গাজায় ঢোকা বা বেরোনোর সময় সব ফিলিস্তিনিকেই এই চেকপোস্টে ইসরায়েলি নিরাপত্তা যাচাইয়ের মুখোমুখি হতে হবে। এতে যাতায়াত আরও কঠোর ও সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সীমান্ত পরিচালনায় কারা থাকবেন
প্রস্তাব অনুযায়ী, সীমান্ত পরিচালনায় রামাল্লাহভিত্তিক ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি ইউরোপীয় পর্যবেক্ষকেরা নজরদারির ভূমিকা রাখবেন। এর আগের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির সময়ও একই ধরনের ব্যবস্থা দেখা গিয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নীরবতা
এই পরিকল্পনা নিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কোনো মন্তব্য করেনি। সেনাবাহিনীও বিষয়টি পুরোপুরি সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিয়েছে। এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকারের অনুমোদন ছাড়া কেউ গাজায় ঢুকতে বা বেরোতে পারবে না। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও এই কৌশল নিয়ে সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি।
গাজার বর্তমান বাস্তবতা
যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে ইসরায়েল কিছু সেনা সরালেও মিসর সীমান্তসহ গাজার বড় একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ তারা ধরে রেখেছে। অধিকাংশ মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া ঘরবাড়ি কিংবা অস্থায়ী তাঁবুতে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। রাফাহ সীমান্ত খোলার খবরে স্বস্তির আশা থাকলেও নতুন শর্তে সেই স্বস্তি কতটা বাস্তব হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















