০৩:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
ভ্যালেন্তিনোর বিদায়: ফ্যাশনের ঊর্ধ্বে উঠে যিনি গড়েছিলেন চিরন্তন সৌন্দর্যের সাম্রাজ্য দ্রুত ডেলিভারির আড়ালে মানবিক মূল্য রূপচর্চার উত্থান বদলে দিচ্ছে বিশ্ববাজারের মুখ শিক্ষা জীবনে অর্থ যোগ করুক ডেরা ইসমাইল খানে বিয়ের আসরে আত্মঘাতী হামলা, প্রাণ গেল সাতজনের বয়কট গুঞ্জনের মধ্যেই টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করল পাকিস্তান চরম তাপের নাটক পেরিয়ে সিনারের প্রত্যাবর্তন, জোকোভিচের চারশো জয়ের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় বাংলাদেশের বদলে স্কটল্যান্ড, আইসিসির সিদ্ধান্তে ক্ষোভ আফ্রিদি ও গিলেস্পির গণভোটে ‘না’ বললেই স্বৈরাচারের দোসর, আর ‘হ্যাঁ’ প্রচার মানেই নাৎসিবাদের সঙ্গী: জিএম কাদের বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার উসকানি, নয়াদিল্লীতে শেখ হাসিনার বক্তব্যে বিস্ময় ও ক্ষোভ ঢাকা জুড়ে

দ্রুত ডেলিভারির আড়ালে মানবিক মূল্য

দ্রুত ডেলিভারির প্রতিযোগিতায় ক্রমেই বেড়ে চলেছে গিগ কর্মীদের ঝুঁকি। কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে দ্রুত বাণিজ্য ও খাবার সরবরাহকারী প্ল্যাটফর্মগুলোকে দশ মিনিটে ডেলিভারির ধারণা বাতিল করতে বলা হলেও বাস্তবে চাপ কমেনি। গিগ কর্মীদের মতে, এই সিদ্ধান্ত সমস্যার সামান্য অংশ ছুঁয়েছে মাত্র, আসল সংকট রয়ে গেছে অদৃশ্যই।

দুর্ঘটনার আতঙ্কে প্রতিদিনের কাজ
২০২৫ সালের এক গভীর রাতে বিশাখাপত্তনমের কাঁচারাপালেম এলাকায় দ্রুত ডেলিভারি দিতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন পঁচিশ বছরের খাবার সরবরাহকর্মী এম তেজেশ্বর। সময়ের চাপ, গ্রাহকের রেটিংয়ের ভয় এবং একাধিক অর্ডার একসঙ্গে পৌঁছে দেওয়ার তাড়া তাকে অজান্তেই বিপদের মুখে ঠেলে দেয়। রাস্তার ডিভাইডারে ধাক্কা লেগে গুরুতরভাবে আহত হন তিনি। পায়ে বড় ধরনের ভাঙন হওয়ায় প্রায় তিন মাস কাজ করতে পারেননি, কোনো বেতনও পাননি। তবু তিনি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন, কারণ এই পেশায় তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে প্রাণ হারানো নতুন কিছু নয়।

ডেলিভারি কর্মীদের অবসর মুহূর্তের আলোচনায় প্রায়ই উঠে আসে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা, ভাঙা হাড় আর অল্পের জন্য বেঁচে যাওয়ার গল্প। আনন্তপুরে চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে এক ডেলিভারি কর্মীর মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে নতুন করে গিগ কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

সহজে কাজ, টিকে থাকা কঠিন
বিশাখাপত্তনম শহরে প্রায় সতেরো হাজার সক্রিয় গিগ কর্মী খাবার, বাজারসামগ্রী, ওষুধ ও পার্সেল পৌঁছে দিচ্ছেন, পাশাপাশি বাইক ট্যাক্সির মতো পরিষেবাও দিচ্ছেন। শুধু তরুণ নয়, অনেক বয়স্ক মানুষও জীবিকার প্রধান বা অতিরিক্ত উৎস হিসেবে এই কাজে যুক্ত হচ্ছেন। এই খাতে ঢোকা সহজ হলেও টিকে থাকা কঠিন। চাকরির নিশ্চয়তা নেই, আয় কম, শারীরিক চাপ বেশি এবং কর্মক্ষেত্রে অবমাননার অভিজ্ঞতা বহু মানুষকে হঠাৎই কাজ ছাড়তে বাধ্য করছে।

দ্রুত ডেলিভারির প্রতি অন্ধ মোহ
একাধিক দ্রুত বাণিজ্য সংস্থার তীব্র প্রতিযোগিতায় দ্রুত ডেলিভারি হয়ে উঠেছে সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। জানুয়ারির তেরো তারিখে কেন্দ্রীয় সরকার দশ মিনিটের ডেলিভারি বাতিলের আহ্বান জানালেও বাস্তবে গতি কমেনি। কর্মীদের অভিযোগ, সংস্থাগুলো এখনো দ্রুততার চাপ দেয় এবং গ্রাহকরাও একই প্রত্যাশা রাখেন। সামান্য দেরিতেই গ্রাহক পরিষেবায় অভিযোগ যায়, আসে নেতিবাচক রেটিং। তেজেশ্বর জানান, যানজটপূর্ণ জগদম্বা ও নাড জংশনের মতো এলাকায় ডেলিভারি দিতে গিয়ে দেরি হলে এক তারকা রেটিং নেমে আসে, যা সরাসরি আয়ে প্রভাব ফেলে।

শারীরিক ক্ষয় আর পরিবেশ দূষণের চাপ
দীর্ঘ সময় রোদে ও দূষণে কাজ করতে গিয়ে বহু ডেলিভারি কর্মী শ্বাসকষ্ট, ত্বকের সমস্যা, মাথাব্যথা ও শরীরব্যথায় ভুগছেন। অনেক ক্ষেত্রেই বহুতল ভবনের ওপরের তলায় দরজায় গিয়ে পণ্য পৌঁছে দিতে হয়। এই শারীরিক চাপ সহ্য করতে না পেরে অনেকেই কাজ ছেড়ে দিচ্ছেন।

কম পারিশ্রমিকের বাস্তবতা
গিগ কর্মীদের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমছে প্রণোদনা। আয় নির্ভর করছে অর্ডারের সংখ্যা ও দূরত্বের ওপর। সাত থেকে আট কিলোমিটার দূরত্বে ডেলিভারির জন্য প্রণোদনা মিললেও কাছাকাছি এলাকায় তা খুবই কম। বিশাখাপত্তনমে দিনে পাঁচশ টাকা আয় করাই কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান ডেলিভারি কর্মী শ্রীনিবাস। জ্বালানি, খাবার, পানি ও যানবাহনের মেরামতের খরচ নিজেদের পকেট থেকেই বহন করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে অর্ডার থাকুক বা না থাকুক, বারো থেকে ষোল ঘণ্টা লগইন করে থাকতে হয়।

কর্মক্ষেত্রে অবমাননা ও সহিংসতা
২০২৫ সালের মার্চে শহরে এক খাবার সরবরাহকর্মী গ্রাহকের হাতে নিগৃহীত হওয়ার ঘটনা ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়। তবে অল ইন্ডিয়া গিগ ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশনের জেলা সভাপতি বি জগনের দাবি, এমন বহু ঘটনা আড়ালেই থেকে যায়। দুর্ঘটনা বা হামলার পর অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংস্থাগুলো চিকিৎসা খরচ বা ক্ষতিপূরণ দেয় না। তিনি জানান, ২০২৫ সালে এক বিয়াল্লিশ বছর বয়সী ডেলিভারি কর্মী দুর্ঘটনায় মারা যান এবং আরও অন্তত বারোজন আহত হন।

বিস্তৃত হলেও অনিশ্চিত খাত
দেশজুড়ে গিগ অর্থনীতি দ্রুত বাড়ছে। সরকারি ভাবনাচিন্তা সংস্থা নীতি আয়োগের মতে, আগামী কয়েক বছরে এই খাতে কর্মীর সংখ্যা কোটি ছাড়াবে। কারও কাছে এটি খণ্ডকালীন আয়, আবার অনেকের কাছে একমাত্র জীবিকা। বাইশ বছরের আইটিআই পাস যুবক বি ভেঙ্কট রমণ ছয় মাস ধরে বাজারসামগ্রী ডেলিভারি করে মাসে বারো থেকে পনেরো হাজার টাকা আয় করছেন। কম আয় হলেও পরিবার চালাতে এই কাজই ভরসা বলে জানান তিনি।

অনিশ্চিত মজুরি ও প্রতিবাদের পথ
বি জগনের অভিযোগ, প্রতি কিলোমিটারে আয়ের কোনো স্থির হার নেই। কখনো দশ কিলোমিটারে সত্তর টাকা, কখনো আশি বা একশ টাকা। ন্যূনতম মজুরির দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন হলেও ফল মেলেনি। আগে কাজের সময় উপস্থিত থাকলেই ছয়শ থেকে আটশ টাকা ন্যূনতম মজুরি মিলত, এখন আট থেকে বারো ঘণ্টা লগইন করেও সেই নিশ্চয়তা নেই। প্রশ্ন তুললে অনেক সময় কর্মীর পরিচয় নম্বর বন্ধ করে দেওয়া হয়, ফলে কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

গিগ কর্মীদের মতে, এখনই প্রয়োজন তাদের অধিকার রক্ষায় একটি কার্যকর সরকারি সংস্থা। নিরাপত্তা, কল্যাণ এবং দুর্ঘটনায় নিহত বা আহতদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত না হলে দ্রুত ডেলিভারির এই ব্যবস্থার মানবিক মূল্য আরও বাড়তেই থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভ্যালেন্তিনোর বিদায়: ফ্যাশনের ঊর্ধ্বে উঠে যিনি গড়েছিলেন চিরন্তন সৌন্দর্যের সাম্রাজ্য

দ্রুত ডেলিভারির আড়ালে মানবিক মূল্য

০২:০০:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

দ্রুত ডেলিভারির প্রতিযোগিতায় ক্রমেই বেড়ে চলেছে গিগ কর্মীদের ঝুঁকি। কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে দ্রুত বাণিজ্য ও খাবার সরবরাহকারী প্ল্যাটফর্মগুলোকে দশ মিনিটে ডেলিভারির ধারণা বাতিল করতে বলা হলেও বাস্তবে চাপ কমেনি। গিগ কর্মীদের মতে, এই সিদ্ধান্ত সমস্যার সামান্য অংশ ছুঁয়েছে মাত্র, আসল সংকট রয়ে গেছে অদৃশ্যই।

দুর্ঘটনার আতঙ্কে প্রতিদিনের কাজ
২০২৫ সালের এক গভীর রাতে বিশাখাপত্তনমের কাঁচারাপালেম এলাকায় দ্রুত ডেলিভারি দিতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন পঁচিশ বছরের খাবার সরবরাহকর্মী এম তেজেশ্বর। সময়ের চাপ, গ্রাহকের রেটিংয়ের ভয় এবং একাধিক অর্ডার একসঙ্গে পৌঁছে দেওয়ার তাড়া তাকে অজান্তেই বিপদের মুখে ঠেলে দেয়। রাস্তার ডিভাইডারে ধাক্কা লেগে গুরুতরভাবে আহত হন তিনি। পায়ে বড় ধরনের ভাঙন হওয়ায় প্রায় তিন মাস কাজ করতে পারেননি, কোনো বেতনও পাননি। তবু তিনি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন, কারণ এই পেশায় তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে প্রাণ হারানো নতুন কিছু নয়।

ডেলিভারি কর্মীদের অবসর মুহূর্তের আলোচনায় প্রায়ই উঠে আসে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা, ভাঙা হাড় আর অল্পের জন্য বেঁচে যাওয়ার গল্প। আনন্তপুরে চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে এক ডেলিভারি কর্মীর মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে নতুন করে গিগ কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

সহজে কাজ, টিকে থাকা কঠিন
বিশাখাপত্তনম শহরে প্রায় সতেরো হাজার সক্রিয় গিগ কর্মী খাবার, বাজারসামগ্রী, ওষুধ ও পার্সেল পৌঁছে দিচ্ছেন, পাশাপাশি বাইক ট্যাক্সির মতো পরিষেবাও দিচ্ছেন। শুধু তরুণ নয়, অনেক বয়স্ক মানুষও জীবিকার প্রধান বা অতিরিক্ত উৎস হিসেবে এই কাজে যুক্ত হচ্ছেন। এই খাতে ঢোকা সহজ হলেও টিকে থাকা কঠিন। চাকরির নিশ্চয়তা নেই, আয় কম, শারীরিক চাপ বেশি এবং কর্মক্ষেত্রে অবমাননার অভিজ্ঞতা বহু মানুষকে হঠাৎই কাজ ছাড়তে বাধ্য করছে।

দ্রুত ডেলিভারির প্রতি অন্ধ মোহ
একাধিক দ্রুত বাণিজ্য সংস্থার তীব্র প্রতিযোগিতায় দ্রুত ডেলিভারি হয়ে উঠেছে সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। জানুয়ারির তেরো তারিখে কেন্দ্রীয় সরকার দশ মিনিটের ডেলিভারি বাতিলের আহ্বান জানালেও বাস্তবে গতি কমেনি। কর্মীদের অভিযোগ, সংস্থাগুলো এখনো দ্রুততার চাপ দেয় এবং গ্রাহকরাও একই প্রত্যাশা রাখেন। সামান্য দেরিতেই গ্রাহক পরিষেবায় অভিযোগ যায়, আসে নেতিবাচক রেটিং। তেজেশ্বর জানান, যানজটপূর্ণ জগদম্বা ও নাড জংশনের মতো এলাকায় ডেলিভারি দিতে গিয়ে দেরি হলে এক তারকা রেটিং নেমে আসে, যা সরাসরি আয়ে প্রভাব ফেলে।

শারীরিক ক্ষয় আর পরিবেশ দূষণের চাপ
দীর্ঘ সময় রোদে ও দূষণে কাজ করতে গিয়ে বহু ডেলিভারি কর্মী শ্বাসকষ্ট, ত্বকের সমস্যা, মাথাব্যথা ও শরীরব্যথায় ভুগছেন। অনেক ক্ষেত্রেই বহুতল ভবনের ওপরের তলায় দরজায় গিয়ে পণ্য পৌঁছে দিতে হয়। এই শারীরিক চাপ সহ্য করতে না পেরে অনেকেই কাজ ছেড়ে দিচ্ছেন।

কম পারিশ্রমিকের বাস্তবতা
গিগ কর্মীদের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমছে প্রণোদনা। আয় নির্ভর করছে অর্ডারের সংখ্যা ও দূরত্বের ওপর। সাত থেকে আট কিলোমিটার দূরত্বে ডেলিভারির জন্য প্রণোদনা মিললেও কাছাকাছি এলাকায় তা খুবই কম। বিশাখাপত্তনমে দিনে পাঁচশ টাকা আয় করাই কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান ডেলিভারি কর্মী শ্রীনিবাস। জ্বালানি, খাবার, পানি ও যানবাহনের মেরামতের খরচ নিজেদের পকেট থেকেই বহন করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে অর্ডার থাকুক বা না থাকুক, বারো থেকে ষোল ঘণ্টা লগইন করে থাকতে হয়।

কর্মক্ষেত্রে অবমাননা ও সহিংসতা
২০২৫ সালের মার্চে শহরে এক খাবার সরবরাহকর্মী গ্রাহকের হাতে নিগৃহীত হওয়ার ঘটনা ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়। তবে অল ইন্ডিয়া গিগ ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশনের জেলা সভাপতি বি জগনের দাবি, এমন বহু ঘটনা আড়ালেই থেকে যায়। দুর্ঘটনা বা হামলার পর অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংস্থাগুলো চিকিৎসা খরচ বা ক্ষতিপূরণ দেয় না। তিনি জানান, ২০২৫ সালে এক বিয়াল্লিশ বছর বয়সী ডেলিভারি কর্মী দুর্ঘটনায় মারা যান এবং আরও অন্তত বারোজন আহত হন।

বিস্তৃত হলেও অনিশ্চিত খাত
দেশজুড়ে গিগ অর্থনীতি দ্রুত বাড়ছে। সরকারি ভাবনাচিন্তা সংস্থা নীতি আয়োগের মতে, আগামী কয়েক বছরে এই খাতে কর্মীর সংখ্যা কোটি ছাড়াবে। কারও কাছে এটি খণ্ডকালীন আয়, আবার অনেকের কাছে একমাত্র জীবিকা। বাইশ বছরের আইটিআই পাস যুবক বি ভেঙ্কট রমণ ছয় মাস ধরে বাজারসামগ্রী ডেলিভারি করে মাসে বারো থেকে পনেরো হাজার টাকা আয় করছেন। কম আয় হলেও পরিবার চালাতে এই কাজই ভরসা বলে জানান তিনি।

অনিশ্চিত মজুরি ও প্রতিবাদের পথ
বি জগনের অভিযোগ, প্রতি কিলোমিটারে আয়ের কোনো স্থির হার নেই। কখনো দশ কিলোমিটারে সত্তর টাকা, কখনো আশি বা একশ টাকা। ন্যূনতম মজুরির দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন হলেও ফল মেলেনি। আগে কাজের সময় উপস্থিত থাকলেই ছয়শ থেকে আটশ টাকা ন্যূনতম মজুরি মিলত, এখন আট থেকে বারো ঘণ্টা লগইন করেও সেই নিশ্চয়তা নেই। প্রশ্ন তুললে অনেক সময় কর্মীর পরিচয় নম্বর বন্ধ করে দেওয়া হয়, ফলে কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

গিগ কর্মীদের মতে, এখনই প্রয়োজন তাদের অধিকার রক্ষায় একটি কার্যকর সরকারি সংস্থা। নিরাপত্তা, কল্যাণ এবং দুর্ঘটনায় নিহত বা আহতদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত না হলে দ্রুত ডেলিভারির এই ব্যবস্থার মানবিক মূল্য আরও বাড়তেই থাকবে।