দেশের ক্ষমতায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এলে রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাট চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে বলে অঙ্গীকার করেছেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, যারা দেশের টাকা আত্মসাৎ করেছে, তাদের কঠোরভাবে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে এবং লুট হওয়া অর্থ উদ্ধার করা হবে।
ঝিনাইদহের ওয়াজির আলী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে সোমবার সন্ধ্যায় আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঝিনাইদহ-২ আসনের জামায়াত প্রার্থী আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর।
রাজনৈতিক ঐক্য ও ভোটের অধিকার
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত বিভাজনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না, তারা চায় জাতীয় ঐক্য। তিনি আসন্ন ২৬তম জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিপ্লবের ডাক দেন এবং বলেন, ২০২৪ সালে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে মানুষের যে গণজাগরণ হয়েছিল, একইভাবে এবারও জনগণের শক্তিতে পরিবর্তন আসবে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে কেউ যদি মানুষের ভোটাধিকার হরণ করার চেষ্টা করে, তাহলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। এ দেশে আর কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া হবে না।

ঝিনাইদহে চাঁদাবাজি ও মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গ
জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, গত ৫ আগস্টের পর ঝিনাইদহে চাঁদাবাজির মাত্রা বেড়েছে। তিনি বলেন, চাঁদাবাজদের লজ্জা পাওয়া উচিত। মানুষ কষ্ট করে উপার্জন করে, আর সেই আয়ের ভাগ নেওয়া অন্যায়। চাঁদাবাজি হারাম, তবে ভিক্ষা হারাম নয়—এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি নৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেন।
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে বিভিন্ন সিন্ডিকেট কৃত্রিমভাবে দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে জনগণকে চরম কষ্টে ফেলেছিল। জনগণের ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদকে বিদায় করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেউ যদি আবার ফিরে আসার চেষ্টা করে, তবে তা রুখে দেওয়া হবে, কারণ বহু পরিবার ইতোমধ্যে অপূরণীয় ক্ষতির শিকার হয়েছে।
উন্নয়ন পরিকল্পনা ও ন্যায়ের অঙ্গীকার
ডা. শফিকুর রহমান জামায়াতের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শিক্ষিত যুবকদের জন্য দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে, ঝিনাইদহে একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে, স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করা হবে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে রেলপথ ও নদী খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তার ভাষায়, জামায়াত ক্ষমতায় এলে উন্নয়ন হবে বৈষম্যহীন এবং ন্যায়বিচার সব সময় জনগণের পক্ষে থাকবে।
শহীদদের জেলা ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহকে শহীদের জেলা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, সোহানসহ বহু তরুণের জীবন নির্মমভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এই অমানবিক নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোর পাশে তিনি সব সময় আছেন।
সমাবেশে ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন আসনের জামায়াত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। ঝিনাইদহ-১ আসনে আবু সালেহ মো. মতিউর রহমান, ঝিনাইদহ-২ আসনে আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর, ঝিনাইদহ-৩ আসনে মতিয়ার রহমান এবং ঝিনাইদহ-৪ আসনে আবু তালিবকে দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা তুলে দিয়ে ভোটারদের সমর্থন চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















