ভূগর্ভে জন্ম নেওয়া একধরনের ছত্রাক ট্রাফল, যা মানুষের কাছে দামী খাবার হিসেবে পরিচিত হলেও প্রকৃতিতে তার বিস্তার নির্ভর করে এক ভয়ংকর খাদ্যশৃঙ্খলের ওপর। বাতাসে ভেসে বীজ ছড়ানোর ক্ষমতা না থাকায় ট্রাফলকে বংশ বিস্তারের জন্য আশ্রয় নিতে হয় প্রাণীদের শরীরের ভেতর দিয়ে দীর্ঘ যাত্রার।
ট্রাফল কীভাবে ছড়ায়
ট্রাফল মূলত ছত্রাকের ফলধারী অংশ, যা মাটির নিচে জন্মায়। সাধারণ মাশরুমের মতো বাতাসে স্পোর ছড়াতে না পারায় এগুলো ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণীর দ্বারা খাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। ইঁদুর, ছুঁচো বা কাঠবিড়ালির মতো প্রাণী ট্রাফল খেলে এর স্পোর তাদের হজমতন্ত্র পেরিয়ে মলের সঙ্গে বাইরে বেরিয়ে আসে। কিন্তু এসব প্রাণীর চলাচলের এলাকা খুব সীমিত হওয়ায় স্পোর খুব দূরে ছড়াতে পারে না।

গবেষকদের প্রশ্ন ও সন্দেহ
এই সীমাবদ্ধতা লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের দুই গবেষক রায়ান স্টিফেন্স ও মাইকেল জয়সের মনে প্রশ্ন জাগে, প্রকৃত বিস্তারের কাজ কি তবে অন্য কেউ করছে। তাঁদের ধারণা ছিল, ছোট প্রাণী নয়, বরং তাদের শিকার করা বড় মাংসাশী প্রাণীরাই ট্রাফলের স্পোরকে দূরদূরান্তে পৌঁছে দিচ্ছে।
মাঠপর্যায়ের প্রমাণ
এই ধারণা যাচাই করতে মিনেসোটা ও উইসকনসিন অঞ্চলে ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী ধরে তাদের অন্ত্রে স্পোরের উপস্থিতি পরীক্ষা করা হয়। পাশাপাশি নেকড়ে, কায়োট, শিয়াল, বুনো বিড়াল ও ফিশার নামের একধরনের মাংসাশীর মল সংগ্রহ করা হয়। বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুই ক্ষেত্রেই একই ধরনের ছত্রাকের স্পোর রয়েছে।

কত দূরে যায় স্পোর
গবেষণায় জানা গেছে, একটি ফিশারের হজমতন্ত্রে খাবার চলাচলে সময় লাগে প্রায় নয় ঘণ্টা এবং নেকড়ের ক্ষেত্রে প্রায় সতেরো ঘণ্টা। এই সময়ের মধ্যে ফিশার গড়ে দুই কিলোমিটার এবং নেকড়ে সাড়ে তিন কিলোমিটার পর্যন্ত চলাচল করে। অর্থাৎ ছোট প্রাণীর শরীর পেরিয়ে স্পোর যখন মাংসাশীর পেটে যায়, তখন তার বিস্তারের পরিসর বহুগুণ বেড়ে যায়।
দুটি খাবারের গল্প
সব মিলিয়ে গবেষণাটি বলছে, ট্রাফলের বিস্তার ঘটে দুটি ধাপে। প্রথমে ট্রাফল খায় ছোট প্রাণী, এরপর সেই প্রাণী খায় বড় শিকারি। এই দ্বৈত খাদ্যপ্রক্রিয়াই ট্রাফলকে নতুন এলাকায় ছড়িয়ে দেয়। প্রকৃতির এই নির্মম কিন্তু কার্যকর কৌশলই নিশ্চিত করে ছত্রাকের টিকে থাকা ও বিস্তার।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















