০৪:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
নিঃশব্দ যন্ত্রণার ভেতর ফ্যাশনের ঝলক, অ্যাঞ্জেলিনা জোলির নতুন ছবি ‘ক্যুচার’ কেন আলোচনায় অর্থোপেডিক সার্জনদের ৫ অভ্যাস: বয়স বাড়লেও কীভাবে থাকবেন শক্তিশালী ও সচল নতুন বিতর্কে রাবি রাকসু নেতা: জাহানারা ইমামকে কটাক্ষ, পদ স্থগিতের দাবি ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল আফগানিস্তান, কম্পন অনুভূত দিল্লি-কাশ্মীর-পাকিস্তানেও নতুন রহস্যময় পোস্টে মাহফুজ আলমের সতর্কবার্তা: ‘আমি প্রথম বলির পাঁঠা হতে পারি, কিন্তু শেষ নই’ নানা অঞ্চলে রেকর্ড বৃষ্টি, ভূমিকম্পের পর জাপানে দুই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বাড়ল ভূমিধসের শঙ্কা নদীতে সাত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর লাশ ভাসার গুজব, তথ্য ভিত্তিহীন বলছে পুলিশ পাগলা মসজিদের দানবাক্সে রেকর্ড: ১৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা গণনা, ছাড়িয়ে গেল আগের সব হিসাব ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা আবারও তীব্র, ড্রোন হামলার অভিযোগে উদ্বেগে উপসাগরীয় অঞ্চল নড়াইলে ঐচ্ছিক অনুদান বিতর্ক: তালিকায় দুইবার এমপি বাচ্চুর মেয়ের নাম, ব্যাখ্যায় পিএসকে দায়ী করলেন সংসদ সদস্য

মাংসাশীর পেটে ভর করে ছত্রাকের বিস্তার, ট্রাফলের বিস্ময়কর প্রাকৃতিক কৌশল

ভূগর্ভে জন্ম নেওয়া একধরনের ছত্রাক ট্রাফল, যা মানুষের কাছে দামী খাবার হিসেবে পরিচিত হলেও প্রকৃতিতে তার বিস্তার নির্ভর করে এক ভয়ংকর খাদ্যশৃঙ্খলের ওপর। বাতাসে ভেসে বীজ ছড়ানোর ক্ষমতা না থাকায় ট্রাফলকে বংশ বিস্তারের জন্য আশ্রয় নিতে হয় প্রাণীদের শরীরের ভেতর দিয়ে দীর্ঘ যাত্রার।

ট্রাফল কীভাবে ছড়ায়
ট্রাফল মূলত ছত্রাকের ফলধারী অংশ, যা মাটির নিচে জন্মায়। সাধারণ মাশরুমের মতো বাতাসে স্পোর ছড়াতে না পারায় এগুলো ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণীর দ্বারা খাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। ইঁদুর, ছুঁচো বা কাঠবিড়ালির মতো প্রাণী ট্রাফল খেলে এর স্পোর তাদের হজমতন্ত্র পেরিয়ে মলের সঙ্গে বাইরে বেরিয়ে আসে। কিন্তু এসব প্রাণীর চলাচলের এলাকা খুব সীমিত হওয়ায় স্পোর খুব দূরে ছড়াতে পারে না।

To disperse their spores, truffles rely on animals eating other animals

গবেষকদের প্রশ্ন ও সন্দেহ
এই সীমাবদ্ধতা লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের দুই গবেষক রায়ান স্টিফেন্স ও মাইকেল জয়সের মনে প্রশ্ন জাগে, প্রকৃত বিস্তারের কাজ কি তবে অন্য কেউ করছে। তাঁদের ধারণা ছিল, ছোট প্রাণী নয়, বরং তাদের শিকার করা বড় মাংসাশী প্রাণীরাই ট্রাফলের স্পোরকে দূরদূরান্তে পৌঁছে দিচ্ছে।

মাঠপর্যায়ের প্রমাণ
এই ধারণা যাচাই করতে মিনেসোটা ও উইসকনসিন অঞ্চলে ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী ধরে তাদের অন্ত্রে স্পোরের উপস্থিতি পরীক্ষা করা হয়। পাশাপাশি নেকড়ে, কায়োট, শিয়াল, বুনো বিড়াল ও ফিশার নামের একধরনের মাংসাশীর মল সংগ্রহ করা হয়। বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুই ক্ষেত্রেই একই ধরনের ছত্রাকের স্পোর রয়েছে।

To disperse their spores, truffles rely on animals eating other animals

কত দূরে যায় স্পোর
গবেষণায় জানা গেছে, একটি ফিশারের হজমতন্ত্রে খাবার চলাচলে সময় লাগে প্রায় নয় ঘণ্টা এবং নেকড়ের ক্ষেত্রে প্রায় সতেরো ঘণ্টা। এই সময়ের মধ্যে ফিশার গড়ে দুই কিলোমিটার এবং নেকড়ে সাড়ে তিন কিলোমিটার পর্যন্ত চলাচল করে। অর্থাৎ ছোট প্রাণীর শরীর পেরিয়ে স্পোর যখন মাংসাশীর পেটে যায়, তখন তার বিস্তারের পরিসর বহুগুণ বেড়ে যায়।

দুটি খাবারের গল্প
সব মিলিয়ে গবেষণাটি বলছে, ট্রাফলের বিস্তার ঘটে দুটি ধাপে। প্রথমে ট্রাফল খায় ছোট প্রাণী, এরপর সেই প্রাণী খায় বড় শিকারি। এই দ্বৈত খাদ্যপ্রক্রিয়াই ট্রাফলকে নতুন এলাকায় ছড়িয়ে দেয়। প্রকৃতির এই নির্মম কিন্তু কার্যকর কৌশলই নিশ্চিত করে ছত্রাকের টিকে থাকা ও বিস্তার।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিঃশব্দ যন্ত্রণার ভেতর ফ্যাশনের ঝলক, অ্যাঞ্জেলিনা জোলির নতুন ছবি ‘ক্যুচার’ কেন আলোচনায়

মাংসাশীর পেটে ভর করে ছত্রাকের বিস্তার, ট্রাফলের বিস্ময়কর প্রাকৃতিক কৌশল

০১:৪৫:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

ভূগর্ভে জন্ম নেওয়া একধরনের ছত্রাক ট্রাফল, যা মানুষের কাছে দামী খাবার হিসেবে পরিচিত হলেও প্রকৃতিতে তার বিস্তার নির্ভর করে এক ভয়ংকর খাদ্যশৃঙ্খলের ওপর। বাতাসে ভেসে বীজ ছড়ানোর ক্ষমতা না থাকায় ট্রাফলকে বংশ বিস্তারের জন্য আশ্রয় নিতে হয় প্রাণীদের শরীরের ভেতর দিয়ে দীর্ঘ যাত্রার।

ট্রাফল কীভাবে ছড়ায়
ট্রাফল মূলত ছত্রাকের ফলধারী অংশ, যা মাটির নিচে জন্মায়। সাধারণ মাশরুমের মতো বাতাসে স্পোর ছড়াতে না পারায় এগুলো ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণীর দ্বারা খাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। ইঁদুর, ছুঁচো বা কাঠবিড়ালির মতো প্রাণী ট্রাফল খেলে এর স্পোর তাদের হজমতন্ত্র পেরিয়ে মলের সঙ্গে বাইরে বেরিয়ে আসে। কিন্তু এসব প্রাণীর চলাচলের এলাকা খুব সীমিত হওয়ায় স্পোর খুব দূরে ছড়াতে পারে না।

To disperse their spores, truffles rely on animals eating other animals

গবেষকদের প্রশ্ন ও সন্দেহ
এই সীমাবদ্ধতা লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের দুই গবেষক রায়ান স্টিফেন্স ও মাইকেল জয়সের মনে প্রশ্ন জাগে, প্রকৃত বিস্তারের কাজ কি তবে অন্য কেউ করছে। তাঁদের ধারণা ছিল, ছোট প্রাণী নয়, বরং তাদের শিকার করা বড় মাংসাশী প্রাণীরাই ট্রাফলের স্পোরকে দূরদূরান্তে পৌঁছে দিচ্ছে।

মাঠপর্যায়ের প্রমাণ
এই ধারণা যাচাই করতে মিনেসোটা ও উইসকনসিন অঞ্চলে ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী ধরে তাদের অন্ত্রে স্পোরের উপস্থিতি পরীক্ষা করা হয়। পাশাপাশি নেকড়ে, কায়োট, শিয়াল, বুনো বিড়াল ও ফিশার নামের একধরনের মাংসাশীর মল সংগ্রহ করা হয়। বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুই ক্ষেত্রেই একই ধরনের ছত্রাকের স্পোর রয়েছে।

To disperse their spores, truffles rely on animals eating other animals

কত দূরে যায় স্পোর
গবেষণায় জানা গেছে, একটি ফিশারের হজমতন্ত্রে খাবার চলাচলে সময় লাগে প্রায় নয় ঘণ্টা এবং নেকড়ের ক্ষেত্রে প্রায় সতেরো ঘণ্টা। এই সময়ের মধ্যে ফিশার গড়ে দুই কিলোমিটার এবং নেকড়ে সাড়ে তিন কিলোমিটার পর্যন্ত চলাচল করে। অর্থাৎ ছোট প্রাণীর শরীর পেরিয়ে স্পোর যখন মাংসাশীর পেটে যায়, তখন তার বিস্তারের পরিসর বহুগুণ বেড়ে যায়।

দুটি খাবারের গল্প
সব মিলিয়ে গবেষণাটি বলছে, ট্রাফলের বিস্তার ঘটে দুটি ধাপে। প্রথমে ট্রাফল খায় ছোট প্রাণী, এরপর সেই প্রাণী খায় বড় শিকারি। এই দ্বৈত খাদ্যপ্রক্রিয়াই ট্রাফলকে নতুন এলাকায় ছড়িয়ে দেয়। প্রকৃতির এই নির্মম কিন্তু কার্যকর কৌশলই নিশ্চিত করে ছত্রাকের টিকে থাকা ও বিস্তার।