০৪:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
পুরোনো বিশ্বব্যবস্থায় ট্রাম্পের আঘাত, লাভবান চীন মিনেসোটায় উত্তেজনা কমানোর ইঙ্গিত, ফোনালাপে সমঝোতার সুরে ট্রাম্প ও গভর্নর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে প্রাণঘাতী তুষারঝড়, তীব্র শীতে বিপর্যস্ত কোটি মানুষ গ্রিনল্যান্ড ঘিরে ট্রাম্পের চাপের রাজনীতি, ন্যাটোতে ফাটল আর আমেরিকার বিশ্বাসযোগ্যতার ক্ষয় মৃত্যুতেও অপমান, ইরানে নিহত বিক্ষোভকারীদের দেহ নিয়ে ভয়াবহ অভিযোগ আলাস্কার মহামারির শেষ জীবিত সাক্ষী জির্ডেস উইন্টার ব্যাক্সটারের বিদায় ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি: কেন একে ‘সব চুক্তির জননী’ বলা হচ্ছে শুধু ‘হ্যাঁ’ ভোটেই পরিবর্তন এ দাবি বিভ্রান্তিকর ও অসৎ আসিফ সালেহ ২০ ফেব্রুয়ারি থেকেই শুরু অমর একুশে বইমেলা, স্টল ভাড়ায় ২৫ শতাংশ ছাড় জামিনে বেরিয়ে নিহত রূপলালের পরিবারকে মামলা তুলে নিতে হুমকি, থানায় অভিযোগ

শুধু ‘হ্যাঁ’ ভোটেই পরিবর্তন এ দাবি বিভ্রান্তিকর ও অসৎ আসিফ সালেহ

গণভোটের প্রশ্নবিন্যাসে ‘চালাকি’র অভিযোগ
আসন্ন গণভোটে একটি মাত্র প্রশ্নের মাধ্যমে ৮৪টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের পক্ষে জনগণের সম্মতি নেওয়ার উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ। তাঁর মতে, এত বড় ও বহুমাত্রিক সংস্কারকে এক প্রশ্নে বেঁধে দেওয়া ভোটারদের বিভ্রান্ত করছে এবং এটি একটি অসৎ প্রক্রিয়ার ইঙ্গিত দেয়।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সরকারের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারের প্রেক্ষাপটে গণভোটের কাঠামো ও স্বচ্ছতা নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন।

গণভোট: ব্যালটে থাকা চারটি প্রস্তাবের খসড়া চূড়ান্ত | চ্যানেল আই অনলাইন

ভোটারদের অজানা বিষয় ও বিভ্রান্তি
আসিফ সালেহ লিখেছেন, অনেক ভোটারই জানেন না যে এই গণভোটের মাধ্যমে কুমিল্লা ও ফরিদপুরকে আলাদা বিভাগ করার মতো বিষয়েও তারা মত দিচ্ছেন। তাঁর ভাষায়, এই গণভোট নিয়ে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শিক্ষিত মহল পর্যন্ত সবাই বিভ্রান্ত। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, প্রশ্নের ভেতরে কী কী বিষয় অন্তর্ভুক্ত আছে, তা পরিষ্কারভাবে জানানো হচ্ছে না।

এক প্রশ্নে ৮৪ সংস্কার
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। আলাদা ব্যালটে ভোটারদের সামনে খুব সংক্ষেপে চারটি বিষয় লেখা থাকবে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সমর্থন আছে কি না—এই একটি প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিতে হবে।

কিন্তু আসিফ সালেহের মতে, এই জুলাই সনদের ভেতরে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে, যার মধ্যে ৪৭টি সাংবিধানিক সংস্কার এবং বাকি ৩৭টি সাধারণ আইন বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা। এতগুলো প্রস্তাবকে একত্রে অনুমোদনের চেষ্টা তিনি ‘চালাকি’ বলে আখ্যা দেন।

৮৪ সংস্কার প্রস্তাবে একমত রাজনৈতিক দলগুলো | দৈনিক চিত্র

ভোটারদের পছন্দের সুযোগ নেই
তিনি বলেন, একটি ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে একসঙ্গে নির্বাচনকালীন শাসনব্যবস্থা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামো পরিবর্তন, ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য বাধ্যতামূলক ৩০ দফা অঙ্গীকার এবং নতুন উচ্চকক্ষ গঠনের মতো দীর্ঘমেয়াদি ও গভীর সিদ্ধান্ত অনুমোদনের কথা বলা হচ্ছে।

এই সব বিষয়কে এক প্রশ্নে বেঁধে দেওয়ায় ভোটাররা আলাদা আলাদা বিষয়ে নিজেদের মত প্রকাশের সুযোগ পাচ্ছেন না। কেউ হয়তো নির্বাচন কমিশন সংস্কারের পক্ষে, কিন্তু উচ্চকক্ষ গঠনের বিপক্ষে। আবার কেউ কিছু প্রস্তাব মানলেও সবগুলো মানতে রাজি নন। বর্তমান গণভোটে এই ভিন্নমত জানানোর কোনো পথ নেই।

‘হ্যাঁ’ ভোটে পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন
সরকারি প্রচারে বলা হচ্ছে, ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলেই দেশে পরিবর্তন আসবে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসও গণমাধ্যমে প্রচারিত এক বার্তায় ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এতে দেশ বৈষম্য ও নিপীড়ন থেকে মুক্ত হয়ে নতুন বাংলাদেশের পথে এগোবে।

এই বক্তব্যকে আসিফ সালেহ স্পষ্টভাবে বিভ্রান্তিকর ও অসৎ দাবি বলে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, একটি গণভোট নিজে থেকেই পরিবর্তন নিশ্চিত করতে পারে না। প্রকৃত পরিবর্তন আসে রাজনৈতিক আচরণ, দলীয় সংস্কার, জবাবদিহি এবং কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে। একটি ভোটকে পরিবর্তনের একমাত্র শর্ত হিসেবে তুলে ধরা মানে মানুষের মধ্যে মিথ্যা আশা তৈরি করা।

গণভোটে যে চারটি প্রশ্ন থাকবে, 'হ্যাঁ' ভোট বেশি হলে কী হবে

প্রক্রিয়ার অস্বচ্ছতা ও তাড়াহুড়ো
গণভোট প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে তাঁর আপত্তির ব্যাখ্যায় আসিফ সালেহ বলেন, ভোটারদের বলা হচ্ছে কী কী বিষয় সংবিধানে যুক্ত হবে, কিন্তু এসব সংস্কারের খরচ কত, বাস্তবে কীভাবে তা কাজ করবে বা বিদ্যমান সমস্যার সমাধান আদৌ হবে কি না—এসব কিছুই পরিষ্কার করা হচ্ছে না।

তিনি মনে করেন, অনেক প্রস্তাবের সঙ্গে তিনি ব্যক্তিগতভাবে দ্বিমত না হলেও, পুরো প্রক্রিয়ার অস্বচ্ছতা, তাড়াহুড়ো এবং ব্যাখ্যার অভাবের কারণে এই উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ।

গণতন্ত্রে সম্মতির মানে
আসিফ সালেহের মতে, গণতন্ত্রে সম্মতি তখনই বৈধ, যখন তা বোঝাপড়ার ভিত্তিতে দেওয়া হয়। ভোটাররা যদি বিষয়টি না বোঝেন, অথচ তাদের কাছ থেকে সম্মতি নেওয়া হয়, তাহলে তা প্রকৃত সম্মতি নয়—এটি কেবল প্রক্রিয়াগত অনুমোদন।

রাজনৈতিক মতভেদ ও ভবিষ্যৎ জটিলতা
৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে কিছু বিষয়ে বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভিন্নমত বা আপত্তি রয়েছে। শুরুতে প্রস্তাব ছিল, যে দল যেসব প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছে, তারা ক্ষমতায় গেলে সেগুলো বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে না।

কিন্তু সেই সমাধানে পৌঁছানো না যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত গণভোটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আসিফ সালেহের ভাষায়, যদি ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হয়, তবে আগামী সংসদকে ৮৪টি ধারাই বাস্তবায়নে বাধ্য থাকতে হবে। আর যদি ‘না’ ভোট জিতে যায়, তাহলে পুরো জুলাই সনদই কার্যকর হবে না। এতে নির্বাচন-পরবর্তী নতুন ভুল বোঝাবুঝি ও সংকট তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।

শেষ প্রশ্ন
সবশেষে আসিফ সালেহ প্রশ্ন তুলেছেন, বলা হচ্ছে দেশের চাবি জনগণের হাতে। কিন্তু মানুষ কি সত্যিই জানে, কোন তালা খুলতে তারা কোন চাবি ব্যবহার করতে যাচ্ছে?

জনপ্রিয় সংবাদ

পুরোনো বিশ্বব্যবস্থায় ট্রাম্পের আঘাত, লাভবান চীন

শুধু ‘হ্যাঁ’ ভোটেই পরিবর্তন এ দাবি বিভ্রান্তিকর ও অসৎ আসিফ সালেহ

০৩:০২:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

গণভোটের প্রশ্নবিন্যাসে ‘চালাকি’র অভিযোগ
আসন্ন গণভোটে একটি মাত্র প্রশ্নের মাধ্যমে ৮৪টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের পক্ষে জনগণের সম্মতি নেওয়ার উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ। তাঁর মতে, এত বড় ও বহুমাত্রিক সংস্কারকে এক প্রশ্নে বেঁধে দেওয়া ভোটারদের বিভ্রান্ত করছে এবং এটি একটি অসৎ প্রক্রিয়ার ইঙ্গিত দেয়।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সরকারের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারের প্রেক্ষাপটে গণভোটের কাঠামো ও স্বচ্ছতা নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন।

গণভোট: ব্যালটে থাকা চারটি প্রস্তাবের খসড়া চূড়ান্ত | চ্যানেল আই অনলাইন

ভোটারদের অজানা বিষয় ও বিভ্রান্তি
আসিফ সালেহ লিখেছেন, অনেক ভোটারই জানেন না যে এই গণভোটের মাধ্যমে কুমিল্লা ও ফরিদপুরকে আলাদা বিভাগ করার মতো বিষয়েও তারা মত দিচ্ছেন। তাঁর ভাষায়, এই গণভোট নিয়ে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শিক্ষিত মহল পর্যন্ত সবাই বিভ্রান্ত। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, প্রশ্নের ভেতরে কী কী বিষয় অন্তর্ভুক্ত আছে, তা পরিষ্কারভাবে জানানো হচ্ছে না।

এক প্রশ্নে ৮৪ সংস্কার
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। আলাদা ব্যালটে ভোটারদের সামনে খুব সংক্ষেপে চারটি বিষয় লেখা থাকবে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সমর্থন আছে কি না—এই একটি প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিতে হবে।

কিন্তু আসিফ সালেহের মতে, এই জুলাই সনদের ভেতরে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে, যার মধ্যে ৪৭টি সাংবিধানিক সংস্কার এবং বাকি ৩৭টি সাধারণ আইন বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা। এতগুলো প্রস্তাবকে একত্রে অনুমোদনের চেষ্টা তিনি ‘চালাকি’ বলে আখ্যা দেন।

৮৪ সংস্কার প্রস্তাবে একমত রাজনৈতিক দলগুলো | দৈনিক চিত্র

ভোটারদের পছন্দের সুযোগ নেই
তিনি বলেন, একটি ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে একসঙ্গে নির্বাচনকালীন শাসনব্যবস্থা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামো পরিবর্তন, ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য বাধ্যতামূলক ৩০ দফা অঙ্গীকার এবং নতুন উচ্চকক্ষ গঠনের মতো দীর্ঘমেয়াদি ও গভীর সিদ্ধান্ত অনুমোদনের কথা বলা হচ্ছে।

এই সব বিষয়কে এক প্রশ্নে বেঁধে দেওয়ায় ভোটাররা আলাদা আলাদা বিষয়ে নিজেদের মত প্রকাশের সুযোগ পাচ্ছেন না। কেউ হয়তো নির্বাচন কমিশন সংস্কারের পক্ষে, কিন্তু উচ্চকক্ষ গঠনের বিপক্ষে। আবার কেউ কিছু প্রস্তাব মানলেও সবগুলো মানতে রাজি নন। বর্তমান গণভোটে এই ভিন্নমত জানানোর কোনো পথ নেই।

‘হ্যাঁ’ ভোটে পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন
সরকারি প্রচারে বলা হচ্ছে, ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলেই দেশে পরিবর্তন আসবে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসও গণমাধ্যমে প্রচারিত এক বার্তায় ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এতে দেশ বৈষম্য ও নিপীড়ন থেকে মুক্ত হয়ে নতুন বাংলাদেশের পথে এগোবে।

এই বক্তব্যকে আসিফ সালেহ স্পষ্টভাবে বিভ্রান্তিকর ও অসৎ দাবি বলে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, একটি গণভোট নিজে থেকেই পরিবর্তন নিশ্চিত করতে পারে না। প্রকৃত পরিবর্তন আসে রাজনৈতিক আচরণ, দলীয় সংস্কার, জবাবদিহি এবং কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে। একটি ভোটকে পরিবর্তনের একমাত্র শর্ত হিসেবে তুলে ধরা মানে মানুষের মধ্যে মিথ্যা আশা তৈরি করা।

গণভোটে যে চারটি প্রশ্ন থাকবে, 'হ্যাঁ' ভোট বেশি হলে কী হবে

প্রক্রিয়ার অস্বচ্ছতা ও তাড়াহুড়ো
গণভোট প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে তাঁর আপত্তির ব্যাখ্যায় আসিফ সালেহ বলেন, ভোটারদের বলা হচ্ছে কী কী বিষয় সংবিধানে যুক্ত হবে, কিন্তু এসব সংস্কারের খরচ কত, বাস্তবে কীভাবে তা কাজ করবে বা বিদ্যমান সমস্যার সমাধান আদৌ হবে কি না—এসব কিছুই পরিষ্কার করা হচ্ছে না।

তিনি মনে করেন, অনেক প্রস্তাবের সঙ্গে তিনি ব্যক্তিগতভাবে দ্বিমত না হলেও, পুরো প্রক্রিয়ার অস্বচ্ছতা, তাড়াহুড়ো এবং ব্যাখ্যার অভাবের কারণে এই উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ।

গণতন্ত্রে সম্মতির মানে
আসিফ সালেহের মতে, গণতন্ত্রে সম্মতি তখনই বৈধ, যখন তা বোঝাপড়ার ভিত্তিতে দেওয়া হয়। ভোটাররা যদি বিষয়টি না বোঝেন, অথচ তাদের কাছ থেকে সম্মতি নেওয়া হয়, তাহলে তা প্রকৃত সম্মতি নয়—এটি কেবল প্রক্রিয়াগত অনুমোদন।

রাজনৈতিক মতভেদ ও ভবিষ্যৎ জটিলতা
৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে কিছু বিষয়ে বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভিন্নমত বা আপত্তি রয়েছে। শুরুতে প্রস্তাব ছিল, যে দল যেসব প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছে, তারা ক্ষমতায় গেলে সেগুলো বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে না।

কিন্তু সেই সমাধানে পৌঁছানো না যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত গণভোটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আসিফ সালেহের ভাষায়, যদি ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হয়, তবে আগামী সংসদকে ৮৪টি ধারাই বাস্তবায়নে বাধ্য থাকতে হবে। আর যদি ‘না’ ভোট জিতে যায়, তাহলে পুরো জুলাই সনদই কার্যকর হবে না। এতে নির্বাচন-পরবর্তী নতুন ভুল বোঝাবুঝি ও সংকট তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।

শেষ প্রশ্ন
সবশেষে আসিফ সালেহ প্রশ্ন তুলেছেন, বলা হচ্ছে দেশের চাবি জনগণের হাতে। কিন্তু মানুষ কি সত্যিই জানে, কোন তালা খুলতে তারা কোন চাবি ব্যবহার করতে যাচ্ছে?