মিনেসোটায় অভিবাসন অভিযান ঘিরে প্রাণঘাতী ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট গভর্নর টিম ওয়ালজের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের ইঙ্গিত মিলেছে। সোমবার গোপন টেলিফোন আলাপে দুজনই সমঝোতামূলক ভাষায় কথা বলেন। এই আলাপকে কেন্দ্র করে ফেডারেল অভিযান ও রাজ্য প্রশাসনের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্বে বরফ গলার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
উত্তেজনার পটভূমি
মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন অভিযান চলাকালে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেয়। সর্বশেষ ঘটনায় নিহত হন সাতত্রিশ বছর বয়সী নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটের নার্স অ্যালেক্স প্রেটি। এই ঘটনার পর রাজ্য ও স্থানীয় প্রশাসনের তীব্র আপত্তির মুখে ফেডারেল সরকারের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয় এবং জনমনে ক্ষোভ বাড়তে থাকে।

টেলিফোন কূটনীতিতে নতুন সুর
ওয়ালজের সঙ্গে ফোনালাপের পর ট্রাম্প জানান, গভর্নরের সঙ্গে তাঁর ভাবনার মিল রয়েছে। ওয়ালজের দপ্তর জানায়, আলোচনাটি ফলপ্রসূ ছিল এবং প্রেসিডেন্ট রাজ্যে মোতায়েন অভিবাসন এজেন্টের সংখ্যা কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রেটি হত্যাকাণ্ডে রাজ্য সরকারকে নিজস্ব তদন্ত চালানোর সুযোগ দিতে স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগকে নির্দেশ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
ফেডারেল কমান্ডে পরিবর্তন
এই সমঝোতার আরেকটি ইঙ্গিত হিসেবে মিনেসোটায় মোতায়েন সীমান্ত টহল বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা গ্রেগরি বোভিনোকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত সামনে আসে। জানা যায়, তাঁকে আগের দায়িত্বে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং শিগগিরই অবসর নেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তাঁর পরিবর্তে সীমান্ত বিষয়ক সমন্বয়ক টম হোম্যানকে মিনেসোটার কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মেয়র ও প্রেসিডেন্টের কথোপকথন
মিনিয়াপোলিসের মেয়র জেকব ফ্রের সঙ্গেও ফোনে কথা বলেন ট্রাম্প। মেয়রের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতি আর চলতে পারে না—এই বিষয়ে উভয়ের মধ্যে বোঝাপড়া হয়েছে। এর ফলে আগামী দিনগুলোতে কিছু ফেডারেল এজেন্ট শহর ছাড়তে শুরু করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জনমত ও রাজনৈতিক চাপ
প্রেটির হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে অভিবাসন অভিযানের বিরুদ্ধে জনসমর্থন কমতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মানুষ মনে করছেন অভিবাসন দমনে ফেডারেল বাহিনী মাত্রা ছাড়িয়েছে। এই জনমতই ট্রাম্প প্রশাসনকে কিছুটা নরম অবস্থানে যেতে বাধ্য করছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















