০৯:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
যুদ্ধ গাজার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে সহজ ও আধ্যাত্মিক জীবনের পথে এক গ্রাম টোকিওর পথে পুরোনো প্রেম, না কি নতুন শুরু? সম্পর্কের জটিলতায় ভরপুর এক ভিন্নধর্মী প্রেমকাহিনি অতিরিক্ত উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য: সাফল্যের সোপান নাকি বিপর্যয়ের সূচনা? পর্যটনেই ভর করে বদলে যাবে গ্রেট নিকোবর: বিশাল উন্নয়ন পরিকল্পনায় নতুন অর্থনীতির স্বপ্ন পাঞ্জাবে নতুন ধারার চার্চে ভিড়, বিশ্বাস নাকি বিতর্ক—ধর্মান্তর আইন ঘিরে বাড়ছে উত্তাপ লুকিয়ে থাকা থেকে আশার পথে: বস্তারে মাওবাদী প্রভাব কমার পেছনের বাস্তব চিত্র ব্রিটেনে সহায়ক মৃত্যুর আইন থমকে: জনসমর্থন থাকলেও সংসদে কেন আটকে গেল বিতর্কিত বিল চীনের ছোট শহরে বার্গারের দখল: নতুন বাজারে ঝুঁকি নিয়েও এগোচ্ছে বহুজাতিক ফাস্টফুড জায়ান্ট চীন কি গোপনে ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে? মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে নতুন আশঙ্কা

সুদানের যুদ্ধে ঘরছাড়া তিন কোটির বেশি মানুষ ফিরছেন ঘরে, তবু থামেনি সহিংসতা

প্রায় তিন বছর ধরে চলা ভয়াবহ যুদ্ধে ঘরছাড়া হওয়া তিন কোটিরও বেশি সুদানি মানুষ আবার নিজেদের বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, যুদ্ধ চলমান থাকলেও দেশজুড়ে ঘরে ফেরার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

যুদ্ধের পটভূমি

দুই হাজার তেইশ সালের এপ্রিল থেকে সুদানে শুরু হয় রক্তক্ষয়ী সংঘাত। একদিকে রয়েছে দেশটির নিয়মিত সেনাবাহিনী, অন্যদিকে আধাসামরিক দ্রুত সহায়তা বাহিনী। এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত বহু মানুষ নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে সৃষ্টি হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাস্তুচ্যুতি ও খাদ্য সংকট। একসময় দেশটির ভেতরে ও বাইরে মিলিয়ে প্রায় এক কোটি চল্লিশ লাখ মানুষ ঘরছাড়া হয়ে পড়েছিলেন।

UN says 3.3 million war-displaced Sudanese return home | Arab News

ফেরার সংখ্যা বাড়ছে

জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত আনুমানিক তিন কোটি ত্রিশ লাখ বাস্তুচ্যুত সুদানি মানুষ নিজ এলাকায় ফিরে গেছেন। সেনাবাহিনীর একের পর এক অভিযানে কেন্দ্রীয় অঞ্চল পুনর্দখলের পর এই প্রবণতা বাড়ে। বিশেষ করে দুই হাজার চব্বিশ সালের শেষ দিকে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পর অনেক পরিবার ঘরে ফেরার সাহস পান।

খার্তুমে সবচেয়ে বেশি প্রত্যাবর্তন

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘরে ফেরা মানুষের বড় অংশ এসেছেন দেশের ভেতরের আশ্রয়কেন্দ্রগুলো থেকে। বিদেশ থেকে ফিরেছেন তুলনামূলক কম মানুষ। রাজধানী খার্তুমে ফিরেছেন প্রায় এক কোটি চল্লিশ লাখ মানুষ। এরপরেই রয়েছে আল জাজিরা রাজ্য, যেখানে ফিরেছেন প্রায় এক কোটি দশ লাখ বাসিন্দা।

The UN says more than 10 million people in Sudan have now fled their homes  as war continues | The Seattle Times

সরকার ও পুনর্গঠনের উদ্যোগ

দীর্ঘ সময় লোহিত সাগরের বন্দরনগরী থেকে পরিচালনার পর সেনাবাহিনী-সমর্থিত সরকার রাজধানীতে ফেরার ঘোষণা দিয়েছে। খার্তুম পুনর্দখলের পর থেকেই শহর পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় ও পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় সংঘর্ষ কিছুটা কমলেও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে মাঝেমধ্যে ড্রোন হামলা চালাচ্ছে দ্রুত সহায়তা বাহিনী।

দেশের অন্য অংশে ভয়াবহ অবস্থা

দেশের দক্ষিণাঞ্চলে পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। কর্দোফান অঞ্চলে দ্রুত সহায়তা বাহিনী আরও ভেতরে ঢুকে পড়েছে। দারফুরে সেনাবাহিনীর শেষ ঘাঁটি দখলের পর গণহত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ ও লুটপাটের অভিযোগ সামনে আসে। এসব ঘটনার তদন্তে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের তদন্ত শুরু করেছে।

Europe Is Helping Fuel Conflict in Sudan While Slamming the Door on Its  Victims

আঞ্চলিক অস্থিরতার প্রভাব

এদিকে প্রতিবেশী দক্ষিণ সুদানেও উত্তেজনা বাড়ছে। সেখানে সামরিক অভিযানের আগে জাতিসংঘ মিশন ও বিভিন্ন ত্রাণ সংস্থাকে কয়েকটি এলাকা থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে পুরো অঞ্চলজুড়ে মানবিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

যুদ্ধ গাজার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে

সুদানের যুদ্ধে ঘরছাড়া তিন কোটির বেশি মানুষ ফিরছেন ঘরে, তবু থামেনি সহিংসতা

০৫:২১:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

প্রায় তিন বছর ধরে চলা ভয়াবহ যুদ্ধে ঘরছাড়া হওয়া তিন কোটিরও বেশি সুদানি মানুষ আবার নিজেদের বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, যুদ্ধ চলমান থাকলেও দেশজুড়ে ঘরে ফেরার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

যুদ্ধের পটভূমি

দুই হাজার তেইশ সালের এপ্রিল থেকে সুদানে শুরু হয় রক্তক্ষয়ী সংঘাত। একদিকে রয়েছে দেশটির নিয়মিত সেনাবাহিনী, অন্যদিকে আধাসামরিক দ্রুত সহায়তা বাহিনী। এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত বহু মানুষ নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে সৃষ্টি হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাস্তুচ্যুতি ও খাদ্য সংকট। একসময় দেশটির ভেতরে ও বাইরে মিলিয়ে প্রায় এক কোটি চল্লিশ লাখ মানুষ ঘরছাড়া হয়ে পড়েছিলেন।

UN says 3.3 million war-displaced Sudanese return home | Arab News

ফেরার সংখ্যা বাড়ছে

জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত আনুমানিক তিন কোটি ত্রিশ লাখ বাস্তুচ্যুত সুদানি মানুষ নিজ এলাকায় ফিরে গেছেন। সেনাবাহিনীর একের পর এক অভিযানে কেন্দ্রীয় অঞ্চল পুনর্দখলের পর এই প্রবণতা বাড়ে। বিশেষ করে দুই হাজার চব্বিশ সালের শেষ দিকে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পর অনেক পরিবার ঘরে ফেরার সাহস পান।

খার্তুমে সবচেয়ে বেশি প্রত্যাবর্তন

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘরে ফেরা মানুষের বড় অংশ এসেছেন দেশের ভেতরের আশ্রয়কেন্দ্রগুলো থেকে। বিদেশ থেকে ফিরেছেন তুলনামূলক কম মানুষ। রাজধানী খার্তুমে ফিরেছেন প্রায় এক কোটি চল্লিশ লাখ মানুষ। এরপরেই রয়েছে আল জাজিরা রাজ্য, যেখানে ফিরেছেন প্রায় এক কোটি দশ লাখ বাসিন্দা।

The UN says more than 10 million people in Sudan have now fled their homes  as war continues | The Seattle Times

সরকার ও পুনর্গঠনের উদ্যোগ

দীর্ঘ সময় লোহিত সাগরের বন্দরনগরী থেকে পরিচালনার পর সেনাবাহিনী-সমর্থিত সরকার রাজধানীতে ফেরার ঘোষণা দিয়েছে। খার্তুম পুনর্দখলের পর থেকেই শহর পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় ও পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় সংঘর্ষ কিছুটা কমলেও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে মাঝেমধ্যে ড্রোন হামলা চালাচ্ছে দ্রুত সহায়তা বাহিনী।

দেশের অন্য অংশে ভয়াবহ অবস্থা

দেশের দক্ষিণাঞ্চলে পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। কর্দোফান অঞ্চলে দ্রুত সহায়তা বাহিনী আরও ভেতরে ঢুকে পড়েছে। দারফুরে সেনাবাহিনীর শেষ ঘাঁটি দখলের পর গণহত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ ও লুটপাটের অভিযোগ সামনে আসে। এসব ঘটনার তদন্তে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের তদন্ত শুরু করেছে।

Europe Is Helping Fuel Conflict in Sudan While Slamming the Door on Its  Victims

আঞ্চলিক অস্থিরতার প্রভাব

এদিকে প্রতিবেশী দক্ষিণ সুদানেও উত্তেজনা বাড়ছে। সেখানে সামরিক অভিযানের আগে জাতিসংঘ মিশন ও বিভিন্ন ত্রাণ সংস্থাকে কয়েকটি এলাকা থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে পুরো অঞ্চলজুড়ে মানবিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।