০৪:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
পুরোনো বিশ্বব্যবস্থায় ট্রাম্পের আঘাত, লাভবান চীন মিনেসোটায় উত্তেজনা কমানোর ইঙ্গিত, ফোনালাপে সমঝোতার সুরে ট্রাম্প ও গভর্নর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে প্রাণঘাতী তুষারঝড়, তীব্র শীতে বিপর্যস্ত কোটি মানুষ গ্রিনল্যান্ড ঘিরে ট্রাম্পের চাপের রাজনীতি, ন্যাটোতে ফাটল আর আমেরিকার বিশ্বাসযোগ্যতার ক্ষয় মৃত্যুতেও অপমান, ইরানে নিহত বিক্ষোভকারীদের দেহ নিয়ে ভয়াবহ অভিযোগ আলাস্কার মহামারির শেষ জীবিত সাক্ষী জির্ডেস উইন্টার ব্যাক্সটারের বিদায় ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি: কেন একে ‘সব চুক্তির জননী’ বলা হচ্ছে শুধু ‘হ্যাঁ’ ভোটেই পরিবর্তন এ দাবি বিভ্রান্তিকর ও অসৎ আসিফ সালেহ ২০ ফেব্রুয়ারি থেকেই শুরু অমর একুশে বইমেলা, স্টল ভাড়ায় ২৫ শতাংশ ছাড় জামিনে বেরিয়ে নিহত রূপলালের পরিবারকে মামলা তুলে নিতে হুমকি, থানায় অভিযোগ

নতুন রাজনীতি পোস্টারমুক্ত নির্বাচনে বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের প্রচারের চিত্র

বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে পরিচিত পোস্টারের ভিড় ছাড়াই। দেয়াল, বিদ্যুতের খুঁটি কিংবা রাস্তার পাশের গাছ—কোথাও নেই প্রার্থীদের রঙিন মুখ, স্লোগান বা দলীয় প্রতীক। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনী মৌসুম মানেই যে দৃশ্যগত বিশৃঙ্খলা দেখা যেত, এবারে তার সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম চোখে পড়ছে।

১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে শহরের চেহারা যেমন বদলে গেছে, তেমনি বদলেছে প্রচারের ছন্দ ও আবহ। আগে যেখানে স্তরে স্তরে পোস্টারই জানান দিত ভোটের আমেজ, সেখানে এখন রাস্তা-ঘাট অস্বাভাবিকভাবে ফাঁকা। অনেকের কাছে এই নীরবতা নির্বাচনের অনুভূতিকেই যেন ম্লান করে দিয়েছে।

৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সরাতে হবে প্রচার সামগ্রী

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত ও তার পেছনের কারণ
এই বড় পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে নির্বাচন কমিশনের সংশোধিত আচরণবিধি। পরিবেশের ক্ষতি ও দৃষ্টিদূষণ রোধের লক্ষ্যে কমিশন সব ধরনের পোস্টার নিষিদ্ধ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনী প্রচারের সময় যে পরিবেশগত চাপ তৈরি হতো, তা কমাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পরিবেশবাদী ও নগরবাসীর একটি বড় অংশ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, এতে শহর পরিচ্ছন্ন থাকবে এবং অপ্রয়োজনীয় আবর্জনা কমবে। তবে একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত ভোটারদের একটি অংশকে বিভ্রান্ত করছে, কারণ অনেকেই এত দিন পোস্টারের মাধ্যমেই প্রার্থীদের চিনে অভ্যস্ত ছিলেন। সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে মুদ্রণ শিল্পে, যা নির্বাচনের সময় বড় অঙ্কের কাজের ওপর নির্ভরশীল।

ভোটের মাঠে থাকছেন কারা চূড়ান্ত হবে আজ

নীরব প্রচারের বাস্তবতা
সাধারণত নির্বাচনী প্রচার শুরু মানেই এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। এবার সেই চেনা চিত্র নেই। পোস্টার, মাইক কিংবা অন্যান্য দৃশ্যমান প্রচারসামগ্রী না থাকায় অনেক ভোটারের কাছে নির্বাচন যেন দূরের কোনো ঘটনা বলে মনে হচ্ছে।

ঢাকার নিউমার্কেট এলাকার বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, পোস্টার না থাকলে জাতীয় নির্বাচন হচ্ছে—এমন অনুভূতিই আসে না। তার মতে, যারা নিয়মিত রাজনীতি বা সংবাদ অনুসরণ করেন না, তারা এখন প্রার্থীদের চিনতেই হিমশিম খাচ্ছেন।

২১ জানুয়ারি মধ্যরাতের পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার শুরু হলেও চার দিন পার হয়ে গেলেও রাজধানীর বেশির ভাগ এলাকায় তেমন কোনো পরিবর্তন চোখে পড়েনি।

মুদ্রণ শিল্পে নেমে আসা স্থবিরতা
রাস্তাঘাট যেমন নীরব, তেমনি নীরবতা নেমে এসেছে ছাপাখানাগুলোতেও। ফকিরাপুল ও বাংলাবাজার—ঢাকার মুদ্রণ শিল্পের দুই বড় কেন্দ্র—এবার কার্যত স্তব্ধ। যেখানে নির্বাচনের সময় দিনরাত মেশিন চলত, সেখানে এখন শূন্যতা।

বাংলাবাজারের এক ছাপাখানা মালিক জানান, সাধারণত নির্বাচন মানেই কোটি টাকার ব্যবসা। কিন্তু এবার কোনো অর্ডারই নেই। আগেভাগে কাগজ কিনে রাখলেও সেগুলো অব্যবহৃতই থেকে গেছে।

নতুন আচরণবিধির মূল দিক
গত বছরের ১০ নভেম্বর গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন আচরণবিধি সংশোধন করে। এতে পোস্টার নিষিদ্ধের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহারেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা ও গির্জাসহ ধর্মীয় উপাসনালয়, সরকারি দপ্তর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচার চালানো যাবে না। লিফলেট বা হ্যান্ডবিল বিতরণ করা গেলেও তা কঠোর শর্তের মধ্যে করতে হবে। দলীয় প্রচারে কেবল দলের প্রধানের ছবি ব্যবহার করা যাবে, অন্য কোনো নেতা বা প্রার্থীর ছবি নয়।

ড্রোন ও কোয়াডকপ্টার দিয়ে প্রচার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। হেলিকপ্টার ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও আকাশ থেকে লিফলেট ফেলা যাবে না। মাইকের ব্যবহার সীমিত করে দুপুর দুইটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে এবং শব্দমাত্রা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখতে হবে।

ভোটকেন্দ্রের ১৮০ মিটারের মধ্যে কোনো স্লিপ বিতরণ করা যাবে না। স্লিপের আকারও নির্ধারিত, এবং তাতে প্রার্থীর নাম, ছবি, পদবি বা প্রতীক রাখা নিষিদ্ধ।

৭০ শতাংশ বরাদ্দ বাড়ছে নির্বাচন কমিশনের জন্য

ভোটারদের ভিন্ন প্রতিক্রিয়া
ভোটারদের মধ্যে এই পরিবর্তন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার শফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি মূলত টেলিভিশনের মাধ্যমেই নির্বাচন সম্পর্কে জানছেন। তার কাছে প্রচার অনেকটাই নিষ্প্রাণ মনে হচ্ছে।

বনশ্রী এলাকার বাসিন্দা নাঈম মনে করেন, পোস্টার না থাকায় শহর পরিষ্কার থাকছে, যা ভালো দিক। তবে প্রথমবার হওয়ায় ব্যাপারটা অচেনা লাগছে এবং দল চেনার জন্য তাকে সংবাদমাধ্যমের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

মালিবাগ এলাকার এক ভোটারের মতে, শহরের মানুষ হয়তো দ্রুত মানিয়ে নেবে, কিন্তু যারা ডিজিটাল মাধ্যম বা সংবাদ কম অনুসরণ করেন, বিশেষ করে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে তাদের জন্য প্রার্থী চেনা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা
নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ দল পোস্টার নিষিদ্ধের পক্ষে মত দিয়েছে, মাত্র একটি দল এর বিরোধিতা করেছে।

তিনি বলেন, পরিবেশগত উদ্বেগ ছিল সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ। পরিবেশবাদী সংগঠন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের আপত্তি বিবেচনায় নিয়ে এবং বেশির ভাগ দলের মতামতের ভিত্তিতেই পোস্টার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পুরোনো বিশ্বব্যবস্থায় ট্রাম্পের আঘাত, লাভবান চীন

নতুন রাজনীতি পোস্টারমুক্ত নির্বাচনে বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের প্রচারের চিত্র

০২:৩৭:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে পরিচিত পোস্টারের ভিড় ছাড়াই। দেয়াল, বিদ্যুতের খুঁটি কিংবা রাস্তার পাশের গাছ—কোথাও নেই প্রার্থীদের রঙিন মুখ, স্লোগান বা দলীয় প্রতীক। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনী মৌসুম মানেই যে দৃশ্যগত বিশৃঙ্খলা দেখা যেত, এবারে তার সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম চোখে পড়ছে।

১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে শহরের চেহারা যেমন বদলে গেছে, তেমনি বদলেছে প্রচারের ছন্দ ও আবহ। আগে যেখানে স্তরে স্তরে পোস্টারই জানান দিত ভোটের আমেজ, সেখানে এখন রাস্তা-ঘাট অস্বাভাবিকভাবে ফাঁকা। অনেকের কাছে এই নীরবতা নির্বাচনের অনুভূতিকেই যেন ম্লান করে দিয়েছে।

৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সরাতে হবে প্রচার সামগ্রী

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত ও তার পেছনের কারণ
এই বড় পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে নির্বাচন কমিশনের সংশোধিত আচরণবিধি। পরিবেশের ক্ষতি ও দৃষ্টিদূষণ রোধের লক্ষ্যে কমিশন সব ধরনের পোস্টার নিষিদ্ধ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনী প্রচারের সময় যে পরিবেশগত চাপ তৈরি হতো, তা কমাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পরিবেশবাদী ও নগরবাসীর একটি বড় অংশ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, এতে শহর পরিচ্ছন্ন থাকবে এবং অপ্রয়োজনীয় আবর্জনা কমবে। তবে একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত ভোটারদের একটি অংশকে বিভ্রান্ত করছে, কারণ অনেকেই এত দিন পোস্টারের মাধ্যমেই প্রার্থীদের চিনে অভ্যস্ত ছিলেন। সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে মুদ্রণ শিল্পে, যা নির্বাচনের সময় বড় অঙ্কের কাজের ওপর নির্ভরশীল।

ভোটের মাঠে থাকছেন কারা চূড়ান্ত হবে আজ

নীরব প্রচারের বাস্তবতা
সাধারণত নির্বাচনী প্রচার শুরু মানেই এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। এবার সেই চেনা চিত্র নেই। পোস্টার, মাইক কিংবা অন্যান্য দৃশ্যমান প্রচারসামগ্রী না থাকায় অনেক ভোটারের কাছে নির্বাচন যেন দূরের কোনো ঘটনা বলে মনে হচ্ছে।

ঢাকার নিউমার্কেট এলাকার বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, পোস্টার না থাকলে জাতীয় নির্বাচন হচ্ছে—এমন অনুভূতিই আসে না। তার মতে, যারা নিয়মিত রাজনীতি বা সংবাদ অনুসরণ করেন না, তারা এখন প্রার্থীদের চিনতেই হিমশিম খাচ্ছেন।

২১ জানুয়ারি মধ্যরাতের পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার শুরু হলেও চার দিন পার হয়ে গেলেও রাজধানীর বেশির ভাগ এলাকায় তেমন কোনো পরিবর্তন চোখে পড়েনি।

মুদ্রণ শিল্পে নেমে আসা স্থবিরতা
রাস্তাঘাট যেমন নীরব, তেমনি নীরবতা নেমে এসেছে ছাপাখানাগুলোতেও। ফকিরাপুল ও বাংলাবাজার—ঢাকার মুদ্রণ শিল্পের দুই বড় কেন্দ্র—এবার কার্যত স্তব্ধ। যেখানে নির্বাচনের সময় দিনরাত মেশিন চলত, সেখানে এখন শূন্যতা।

বাংলাবাজারের এক ছাপাখানা মালিক জানান, সাধারণত নির্বাচন মানেই কোটি টাকার ব্যবসা। কিন্তু এবার কোনো অর্ডারই নেই। আগেভাগে কাগজ কিনে রাখলেও সেগুলো অব্যবহৃতই থেকে গেছে।

নতুন আচরণবিধির মূল দিক
গত বছরের ১০ নভেম্বর গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন আচরণবিধি সংশোধন করে। এতে পোস্টার নিষিদ্ধের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহারেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা ও গির্জাসহ ধর্মীয় উপাসনালয়, সরকারি দপ্তর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচার চালানো যাবে না। লিফলেট বা হ্যান্ডবিল বিতরণ করা গেলেও তা কঠোর শর্তের মধ্যে করতে হবে। দলীয় প্রচারে কেবল দলের প্রধানের ছবি ব্যবহার করা যাবে, অন্য কোনো নেতা বা প্রার্থীর ছবি নয়।

ড্রোন ও কোয়াডকপ্টার দিয়ে প্রচার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। হেলিকপ্টার ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও আকাশ থেকে লিফলেট ফেলা যাবে না। মাইকের ব্যবহার সীমিত করে দুপুর দুইটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে এবং শব্দমাত্রা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখতে হবে।

ভোটকেন্দ্রের ১৮০ মিটারের মধ্যে কোনো স্লিপ বিতরণ করা যাবে না। স্লিপের আকারও নির্ধারিত, এবং তাতে প্রার্থীর নাম, ছবি, পদবি বা প্রতীক রাখা নিষিদ্ধ।

৭০ শতাংশ বরাদ্দ বাড়ছে নির্বাচন কমিশনের জন্য

ভোটারদের ভিন্ন প্রতিক্রিয়া
ভোটারদের মধ্যে এই পরিবর্তন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার শফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি মূলত টেলিভিশনের মাধ্যমেই নির্বাচন সম্পর্কে জানছেন। তার কাছে প্রচার অনেকটাই নিষ্প্রাণ মনে হচ্ছে।

বনশ্রী এলাকার বাসিন্দা নাঈম মনে করেন, পোস্টার না থাকায় শহর পরিষ্কার থাকছে, যা ভালো দিক। তবে প্রথমবার হওয়ায় ব্যাপারটা অচেনা লাগছে এবং দল চেনার জন্য তাকে সংবাদমাধ্যমের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

মালিবাগ এলাকার এক ভোটারের মতে, শহরের মানুষ হয়তো দ্রুত মানিয়ে নেবে, কিন্তু যারা ডিজিটাল মাধ্যম বা সংবাদ কম অনুসরণ করেন, বিশেষ করে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে তাদের জন্য প্রার্থী চেনা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা
নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ দল পোস্টার নিষিদ্ধের পক্ষে মত দিয়েছে, মাত্র একটি দল এর বিরোধিতা করেছে।

তিনি বলেন, পরিবেশগত উদ্বেগ ছিল সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ। পরিবেশবাদী সংগঠন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের আপত্তি বিবেচনায় নিয়ে এবং বেশির ভাগ দলের মতামতের ভিত্তিতেই পোস্টার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।