১১:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশে শিক্ষকের মান কেন এত দুর্বল: সংকটের গভীর কারণ ও বাস্তবতা বিরক্তির মৃত্যু নাকি নতুন সংকট: ব্রিটেনে কমছে একসময়ের ‘মহামারি’ অনুভূতি ইসলামাবাদে আলোচনায় ইরানের কঠোর বার্তা, এক্স বার্তায় স্পষ্ট করলেন মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ইরানি মিডিয়ার দাবি: যুক্তরাষ্ট্রের ‘অযৌক্তিক দাবিতে’ ভেস্তে গেল শান্তি আলোচনা চাপ নয়, নিজের শর্তেই আলোচনা—কঠোর বার্তা ইরানের টানা সাত দিন উড়তে পারে যে বিমান, এড়াতে পারে পারমাণবিক হামলার প্রভাব পাকিস্তানে ইরান- আমেরিকা আলোচনা ব্যর্থ: ২১ ঘণ্টার বৈঠকেও শান্তি চুক্তি হয়নি, জানালেন ভ্যান্স যুদ্ধ গাজার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে সহজ ও আধ্যাত্মিক জীবনের পথে এক গ্রাম টোকিওর পথে পুরোনো প্রেম, না কি নতুন শুরু? সম্পর্কের জটিলতায় ভরপুর এক ভিন্নধর্মী প্রেমকাহিনি

পুরোনো মানসিকতার ফাঁদে স্টারমারের সরকার

ভারত মহাসাগরের মাঝখানে অবস্থিত চাগোস দ্বীপপুঞ্জ ঘিরে ব্রিটেনের সিদ্ধান্ত আবারও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আলোড়ন তুলেছে। মরিশাসের কাছে এই দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব হস্তান্তরের সিদ্ধান্তকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের সম্পর্ক নতুন করে টানাপোড়েনে পড়েছে। একসময় ভদ্র ও সৌজন্যপূর্ণ বলে বিবেচিত এই সম্পর্ক হঠাৎ করেই তিক্ত হয়ে উঠেছে।

Britain needs to abandon its delusions of empire – giving up the Chagos  Islands is a good start | Simon Jenkins | The Guardian

ট্রাম্পের প্রকাশ্য ক্ষোভ
জানুয়ারির বিশ তারিখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রিটেনের সিদ্ধান্তকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, মরিশাসের হাতে দিয়েগো গার্সিয়ার মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ ছেড়ে দেওয়া চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা। এই দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের যৌথ সামরিক ঘাঁটি থাকলেও তা একশ বছরের কম মেয়াদি ইজারায় রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি।

UK cedes Chagos Island sovereignty to Mauritius, retains Diego Garcia  airbase | Reuters

গ্রিনল্যান্ড বিতর্কের ছায়া
এই সমালোচনার পেছনে আরেকটি রাজনৈতিক হিসাবও কাজ করছে। গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের যুক্তি হিসেবে ট্রাম্প যে নিরাপত্তা প্রয়োজনের কথা বলছেন, চাগোস ইস্যু সেই যুক্তিকে দুর্বল করে দেয়। এর আগে স্যার কিয়ার ট্রাম্পের শুল্ক হুমকিকে ভুল বলে মন্তব্য করেছিলেন। ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট, এই সমালোচনাও তার ক্ষোভ বাড়িয়েছে।

আন্তর্জাতিক আইনের পুরোনো মোহ
স্টারমার সরকারের এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের পরামর্শমূলক মতামত। আদালত বলেছিল, উনিশশ পঁয়ষট্টিতে মরিশাসকে স্বাধীনতা দেওয়ার আগে চাগোসকে আলাদা করা ভুল ছিল। আন্তর্জাতিক আইনকে সম্মান জানিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় এমন অবস্থান অনেকের কাছে সেকেলে মনে হচ্ছে।

UK hands sovereignty of Chagos Islands to Mauritius

ওয়াশিংটনের অবস্থান বদলের ইঙ্গিত
প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছিল। তখন স্টারমারের কূটনৈতিক সাফল্যের প্রশংসাও করা হয়। কিন্তু ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যে স্পষ্ট, সেই সমর্থন আর আগের মতো দৃঢ় নেই। মার্কিন নীতির এই পরিবর্তন ব্রিটেনের জন্য নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

ব্রিটিশ রাজনীতিতে বিভাজন
চুক্তির বেশির ভাগ আলোচনা হয়েছিল আগের রক্ষণশীল সরকারের আমলে। তবু বর্তমান বিরোধীদলীয় নেতা কেমি ব্যাডেনক এই চুক্তির কড়া সমালোচনা করেছেন। সংসদে অনুমোদনের শেষ ধাপে থাকা বিলটি এখন বাড়তি চাপের মুখে পড়েছে।

The Chagos Islands were paradise. Then came the UK and the US | Crimes  Against Humanity News | Al Jazeera

সময়ের সঙ্গে বেমানান সিদ্ধান্ত
অনেক বিশ্লেষকের মতে, চাগোস হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত এমন এক রাজনৈতিক মানসিকতার প্রতিফলন, যা নব্বইয়ের দশকের বিশ্বব্যবস্থার সঙ্গে বেশি মানানসই। বর্তমান ক্ষমতার রাজনীতিতে এটি ব্রিটেনকে কৌশলগতভাবে দুর্বল অবস্থানে ঠেলে দিতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশে শিক্ষকের মান কেন এত দুর্বল: সংকটের গভীর কারণ ও বাস্তবতা

পুরোনো মানসিকতার ফাঁদে স্টারমারের সরকার

০১:৫০:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

ভারত মহাসাগরের মাঝখানে অবস্থিত চাগোস দ্বীপপুঞ্জ ঘিরে ব্রিটেনের সিদ্ধান্ত আবারও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আলোড়ন তুলেছে। মরিশাসের কাছে এই দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব হস্তান্তরের সিদ্ধান্তকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের সম্পর্ক নতুন করে টানাপোড়েনে পড়েছে। একসময় ভদ্র ও সৌজন্যপূর্ণ বলে বিবেচিত এই সম্পর্ক হঠাৎ করেই তিক্ত হয়ে উঠেছে।

Britain needs to abandon its delusions of empire – giving up the Chagos  Islands is a good start | Simon Jenkins | The Guardian

ট্রাম্পের প্রকাশ্য ক্ষোভ
জানুয়ারির বিশ তারিখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রিটেনের সিদ্ধান্তকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, মরিশাসের হাতে দিয়েগো গার্সিয়ার মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ ছেড়ে দেওয়া চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা। এই দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের যৌথ সামরিক ঘাঁটি থাকলেও তা একশ বছরের কম মেয়াদি ইজারায় রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি।

UK cedes Chagos Island sovereignty to Mauritius, retains Diego Garcia  airbase | Reuters

গ্রিনল্যান্ড বিতর্কের ছায়া
এই সমালোচনার পেছনে আরেকটি রাজনৈতিক হিসাবও কাজ করছে। গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের যুক্তি হিসেবে ট্রাম্প যে নিরাপত্তা প্রয়োজনের কথা বলছেন, চাগোস ইস্যু সেই যুক্তিকে দুর্বল করে দেয়। এর আগে স্যার কিয়ার ট্রাম্পের শুল্ক হুমকিকে ভুল বলে মন্তব্য করেছিলেন। ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট, এই সমালোচনাও তার ক্ষোভ বাড়িয়েছে।

আন্তর্জাতিক আইনের পুরোনো মোহ
স্টারমার সরকারের এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের পরামর্শমূলক মতামত। আদালত বলেছিল, উনিশশ পঁয়ষট্টিতে মরিশাসকে স্বাধীনতা দেওয়ার আগে চাগোসকে আলাদা করা ভুল ছিল। আন্তর্জাতিক আইনকে সম্মান জানিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় এমন অবস্থান অনেকের কাছে সেকেলে মনে হচ্ছে।

UK hands sovereignty of Chagos Islands to Mauritius

ওয়াশিংটনের অবস্থান বদলের ইঙ্গিত
প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছিল। তখন স্টারমারের কূটনৈতিক সাফল্যের প্রশংসাও করা হয়। কিন্তু ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যে স্পষ্ট, সেই সমর্থন আর আগের মতো দৃঢ় নেই। মার্কিন নীতির এই পরিবর্তন ব্রিটেনের জন্য নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

ব্রিটিশ রাজনীতিতে বিভাজন
চুক্তির বেশির ভাগ আলোচনা হয়েছিল আগের রক্ষণশীল সরকারের আমলে। তবু বর্তমান বিরোধীদলীয় নেতা কেমি ব্যাডেনক এই চুক্তির কড়া সমালোচনা করেছেন। সংসদে অনুমোদনের শেষ ধাপে থাকা বিলটি এখন বাড়তি চাপের মুখে পড়েছে।

The Chagos Islands were paradise. Then came the UK and the US | Crimes  Against Humanity News | Al Jazeera

সময়ের সঙ্গে বেমানান সিদ্ধান্ত
অনেক বিশ্লেষকের মতে, চাগোস হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত এমন এক রাজনৈতিক মানসিকতার প্রতিফলন, যা নব্বইয়ের দশকের বিশ্বব্যবস্থার সঙ্গে বেশি মানানসই। বর্তমান ক্ষমতার রাজনীতিতে এটি ব্রিটেনকে কৌশলগতভাবে দুর্বল অবস্থানে ঠেলে দিতে পারে।