বলিউডে পা রাখার প্রথম দিনেই দীপিকা পাড়ুকোনের মধ্যে পুরোনো দিনের নায়িকাদের সৌন্দর্য ও আভিজাত্য খুঁজে পেয়েছিলেন নির্মাতা ফারাহ খান। নিজের অভিষেক ছবি ‘ওম শান্তি ওম’-এর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এক পুরোনো সাক্ষাৎকারে এমন কথাই জানিয়েছেন দীপিকা।
পুরোনো দিনের ছায়া দেখেছিলেন ফারাহ
সেই সাক্ষাৎকারে দীপিকা বলেন, ফারাহ খান যেন আগে থেকেই বুঝেছিলেন যে তাঁর ভেতরে সেকালের নায়িকাদের মতো একটি স্টাইল আছে। গানের দৃশ্যে হাতের ভঙ্গি বা চলাফেরায় সেই পুরোনো দিনের নায়িকাদের ছাপ স্পষ্ট ছিল বলেই ফারাহ আলাদা করে শরীরী ভাষা শেখাতে বা চরিত্র গড়ে দিতে খুব বেশি সময় দেননি। শন্তিপ্রিয়া চরিত্রে তাঁকে মূলত একটি রেট্রো বলিউড তারকার রূপেই দেখা যায়।

কিংবদন্তি নায়িকাদের কাছ থেকে শেখা
দীপিকা জানান, চরিত্রের প্রস্তুতির জন্য তিনি নিয়মিত দেখেছেন হেমা মালিনী, মধুবালা ও বৈজয়ন্তীমালার ছবি। তাঁদের অভিনয়ের ভঙ্গি, পর্দায় উপস্থিতি এবং সৌন্দর্য গভীরভাবে লক্ষ্য করে সেখান থেকেই কিছুটা অনুপ্রেরণা নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, ছবিতে তাঁর লুক কোনো নির্দিষ্ট নায়িকার অনুকরণ নয়। পুরো বিষয়টি ছিল মূলত সত্তরের দশকের আবহ থেকে অনুপ্রাণিত।
পোশাক ও সাজে নিখুঁত প্রস্তুতি
‘ওম শান্তি ওম’-এর শুটিংয়ের আগে দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতি নেওয়ার কথাও স্মরণ করেন দীপিকা। পোশাক পরিকল্পক মণীশ মালহোত্রা, ভারত ও ডরিসের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছিল। চুলের স্টাইল ও পোশাকের ফিটিং ঠিক করতেই কেটে গিয়েছিল বেশ কয়েক দিন। সবকিছু এতটাই পরিকল্পিত ছিল যে শুটিং শুরুর সময় তাঁরা পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলেন বলে জানান তিনি।

প্রথম ছবির নার্ভাস দিনগুলো
অভিষেক ছবির সময় নিজের ভেতরের ভয় ও উৎকণ্ঠার কথাও খোলাখুলি বলেন দীপিকা। শাহরুখ খান ও ফারাহ খানের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে তিনি শুরুতে ভীষণ নার্ভাস ছিলেন। তবে পরিচালক ও সহশিল্পী দুজনই তাঁকে নিরাপদ ও স্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি করে দেন। কঠিন সংলাপ বা জটিল দৃশ্য এলে তাঁরা ধৈর্য ধরে বুঝিয়ে দিতেন, রিহার্সাল করাতেন এবং শট দেওয়ার সময় পাশে থাকতেন।
বলিউডে দীপিকার যাত্রা শুরু
ফারাহ খান পরিচালিত এবং গৌরী খানের প্রযোজনায় নির্মিত ‘ওম শান্তি ওম’ মুক্তি পায় দুই হাজার সাত সালের নয় নভেম্বর। ছবিতে শাহরুখ খান দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অর্জুন রামপাল, শ্রেয়াস তালপাড়ে ও কিরণ খের। মুক্তির পর ছবিটি ব্যাপক সাফল্য পায় এবং সে বছরের সর্বোচ্চ আয় করা হিন্দি ছবিগুলোর একটি হয়ে ওঠে। সংগীতও ছবির জনপ্রিয়তায় বড় ভূমিকা রাখে।
এই ছবির মাধ্যমেই বলিউডে শুরু হয় দীপিকা পাড়ুকোনের দীর্ঘ ও সফল যাত্রা, যার ভিত্তি ছিল পুরোনো দিনের সৌন্দর্য আর আধুনিক অভিনয়ের এক অনন্য মেলবন্ধন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















