০৮:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
স্থবিরতার মধ্যেই নতুন বছর শুরু জার্মান অর্থনীতির, ব্যবসায়িক আস্থায় স্থিরতা ডানা গ্যাস ও ক্রিসেন্ট পেট্রোলিয়ামের দীর্ঘমেয়াদি গ্যাস চুক্তি, কুর্দিস্তানের শিল্পে নতুন গতি ফারাহ খানের চোখে দীপিকার ভেতরে পুরোনো বলিউডের নায়িকা ভোরে শিলাবৃষ্টি আর বৃষ্টিতে কাঁপল আমিরাত, তাপমাত্রা নেমে পাহাড়ে শীতের রেকর্ড দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান আরও শক্ত করল সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মালয়েশিয়া শারজাহতে প্রযুক্তি অবকাঠামো জোরদারে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা খাদ্য খাতের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে উদ্ভাবনের সক্ষমতার ওপর: দুবাইয়ে গালফুডে শেখ মোহাম্মদ ইইউর সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে গাড়ির শুল্কে বড় ছাড় দিচ্ছে ভারত, খুলছে অটো বাজারের দরজা হৃদস্পন্দনের ছন্দে লুকোনো শরীরের বার্তা আমেরিকার সনায় ইউরোপীয় বিস্ময়: ঘামঘর নাকি ফিটনেস শো

স্থবিরতার মধ্যেই নতুন বছর শুরু জার্মান অর্থনীতির, ব্যবসায়িক আস্থায় স্থিরতা

বার্লিন

নতুন বছরের শুরুতে জার্মান অর্থনীতিতে তেমন কোনো গতি দেখা যাচ্ছে না। জানুয়ারিতে দেশটির ব্যবসায়িক আস্থা আগের মাসের মতোই অপরিবর্তিত রয়েছে। জার্মানির শীর্ষ অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা ইফো জানিয়েছে, চলতি মাসে তাদের ব্যবসায়িক পরিবেশ সূচক দাঁড়িয়েছে ৮৭ দশমিক ৬ পয়েন্টে, যা ডিসেম্বরের সমান।

ইফো ইনস্টিটিউটের সভাপতি ক্লেমেন্স ফুয়েস্ট বলেছেন, নতুন বছরে প্রবেশ করলেও জার্মান অর্থনীতি এখনো গতি পায়নি। বিশ্লেষকেরা সামান্য উন্নতির আশা করলেও বাস্তবে তা দেখা যায়নি।

বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা

ইফোর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতি মূল্যায়নে সামান্য ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। জানুয়ারিতে এই সূচক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫ দশমিক ৭ পয়েন্টে, যেখানে আগের মাসে ছিল ৮৫ দশমিক ৬। তবে ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা সূচক কিছুটা দুর্বল হয়েছে। ডিসেম্বরের ৮৯ দশমিক ৭ থেকে জানুয়ারিতে তা নেমে এসেছে ৮৯ দশমিক ৫ পয়েন্টে।

German business sentiment unexpectedly improves in January | Reuters

খাতভিত্তিক হিসাবে দেখা যাচ্ছে, উৎপাদন, খুচরা বিক্রি ও নির্মাণ খাতে ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত হয়েছে। বিপরীতে সেবা খাতে ব্যবসায়িক আস্থা আরও দুর্বল হয়েছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

দুই হাজার ছাব্বিশে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা

জার্মান সঞ্চয় ব্যাংকগুলোর সংগঠন ডিএসজিভি জানিয়েছে, টানা তিন বছরের স্থবিরতার পর দুই হাজার ছাব্বিশ সালে দেশটির অর্থনীতি সামান্য ঘুরে দাঁড়াতে পারে। সংস্থাটি ধারণা করছে, সে বছর মোট দেশজ উৎপাদন এক শতাংশ বাড়তে পারে।

ডিএসজিভির সভাপতি উলরিখ রইটার বলেছেন, মাঝারি মাত্রার এই পুনরুদ্ধার ইতিবাচক হলেও তা এখনো ভঙ্গুর। তাঁর মতে, প্রবৃদ্ধির বড় অংশই আসতে পারে সরকারের এককালীন ব্যয় থেকে, যা দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত দুর্বলতা সমাধান করতে পারবে না।

সরকারি ব্যয় ও প্রবৃদ্ধির ভূমিকা

📈 More growth in Germany in 2026? 🇩🇪 Experts debate the economy 🧐 Why  the Ifo Institute warns against the new IMF euphoria ⚠️

সঞ্চয় ব্যাংক স্পার্কাসে হানোভারের প্রধান অর্থনীতিবিদ টিমো প্লাগা বলেছেন, অবকাঠামো ও জলবায়ু খাতে সরকারি অর্থায়ন এবং প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির প্রাথমিক প্রভাব ইতিমধ্যেই দৃশ্যমান। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধির শূন্য দশমিক চার শতাংশ পয়েন্ট এসব পদক্ষেপ থেকে আসতে পারে, যা পরের বছর বেড়ে শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ পয়েন্টে পৌঁছাতে পারে।

রইটার মনে করছেন, বৈশ্বিক উত্তেজনা বাড়ার এই সময়ে দুই হাজার ছাব্বিশ সাল জার্মান অর্থনীতির জন্য একটি সম্ভাব্য মোড় ঘোরানোর বছর হতে পারে। তিনি নতুন বাণিজ্যিক অংশীদার খোঁজার আহ্বান জানিয়ে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর ভাষায়, এই উদ্যোগ ব্যর্থ হলে তা হবে তিক্ত আঘাত।

বিনিয়োগকারীদের আস্থায় উল্লম্ফন

একই দিনে প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে জার্মানির বিনিয়োগকারীদের আস্থায় বড় ধরনের উন্নতির চিত্র উঠে এসেছে। অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা জেডইডব্লিউ জানিয়েছে, জানুয়ারিতে তাদের সূচক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৯ দশমিক ৬ পয়েন্টে। আগের মাসে এই সূচক ছিল ৪৫ দশমিক ৮।

Inflation in Germany slowed down to 3.8 percent in October

জেডইডব্লিউয়ের সভাপতি আখিম ভামবাখ বলেছেন, সূচকের এই জোরালো উত্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে দুই হাজার ছাব্বিশ সাল জার্মান অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে পারে। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মূল্যায়নেও উন্নতি এসেছে। এই সূচক মাইনাস ৮১ থেকে জানুয়ারিতে মাইনাস ৭২ দশমিক ৭ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে।

মূল্যস্ফীতির গতি কমছে

এদিকে জার্মানির মূল্যস্ফীতির হারও ধীরে এসেছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসে দেশটির মূল্যস্ফীতি নেমে দাঁড়িয়েছে দুই শতাংশে। নভেম্বর মাসে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে তুলনাযোগ্য ভোক্তা মূল্যস্ফীতি ছিল দুই দশমিক ছয় শতাংশ।

সব মিলিয়ে, ব্যবসায়িক আস্থার স্থিরতা, বিনিয়োগকারীদের আশাবাদ এবং মূল্যস্ফীতির লাগাম টানা জার্মান অর্থনীতির জন্য মিশ্র বার্তা দিচ্ছে। সামনে পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা থাকলেও তা কতটা টেকসই হবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্থবিরতার মধ্যেই নতুন বছর শুরু জার্মান অর্থনীতির, ব্যবসায়িক আস্থায় স্থিরতা

স্থবিরতার মধ্যেই নতুন বছর শুরু জার্মান অর্থনীতির, ব্যবসায়িক আস্থায় স্থিরতা

০৬:০০:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

বার্লিন

নতুন বছরের শুরুতে জার্মান অর্থনীতিতে তেমন কোনো গতি দেখা যাচ্ছে না। জানুয়ারিতে দেশটির ব্যবসায়িক আস্থা আগের মাসের মতোই অপরিবর্তিত রয়েছে। জার্মানির শীর্ষ অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা ইফো জানিয়েছে, চলতি মাসে তাদের ব্যবসায়িক পরিবেশ সূচক দাঁড়িয়েছে ৮৭ দশমিক ৬ পয়েন্টে, যা ডিসেম্বরের সমান।

ইফো ইনস্টিটিউটের সভাপতি ক্লেমেন্স ফুয়েস্ট বলেছেন, নতুন বছরে প্রবেশ করলেও জার্মান অর্থনীতি এখনো গতি পায়নি। বিশ্লেষকেরা সামান্য উন্নতির আশা করলেও বাস্তবে তা দেখা যায়নি।

বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা

ইফোর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতি মূল্যায়নে সামান্য ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। জানুয়ারিতে এই সূচক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫ দশমিক ৭ পয়েন্টে, যেখানে আগের মাসে ছিল ৮৫ দশমিক ৬। তবে ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা সূচক কিছুটা দুর্বল হয়েছে। ডিসেম্বরের ৮৯ দশমিক ৭ থেকে জানুয়ারিতে তা নেমে এসেছে ৮৯ দশমিক ৫ পয়েন্টে।

German business sentiment unexpectedly improves in January | Reuters

খাতভিত্তিক হিসাবে দেখা যাচ্ছে, উৎপাদন, খুচরা বিক্রি ও নির্মাণ খাতে ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত হয়েছে। বিপরীতে সেবা খাতে ব্যবসায়িক আস্থা আরও দুর্বল হয়েছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

দুই হাজার ছাব্বিশে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা

জার্মান সঞ্চয় ব্যাংকগুলোর সংগঠন ডিএসজিভি জানিয়েছে, টানা তিন বছরের স্থবিরতার পর দুই হাজার ছাব্বিশ সালে দেশটির অর্থনীতি সামান্য ঘুরে দাঁড়াতে পারে। সংস্থাটি ধারণা করছে, সে বছর মোট দেশজ উৎপাদন এক শতাংশ বাড়তে পারে।

ডিএসজিভির সভাপতি উলরিখ রইটার বলেছেন, মাঝারি মাত্রার এই পুনরুদ্ধার ইতিবাচক হলেও তা এখনো ভঙ্গুর। তাঁর মতে, প্রবৃদ্ধির বড় অংশই আসতে পারে সরকারের এককালীন ব্যয় থেকে, যা দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত দুর্বলতা সমাধান করতে পারবে না।

সরকারি ব্যয় ও প্রবৃদ্ধির ভূমিকা

📈 More growth in Germany in 2026? 🇩🇪 Experts debate the economy 🧐 Why  the Ifo Institute warns against the new IMF euphoria ⚠️

সঞ্চয় ব্যাংক স্পার্কাসে হানোভারের প্রধান অর্থনীতিবিদ টিমো প্লাগা বলেছেন, অবকাঠামো ও জলবায়ু খাতে সরকারি অর্থায়ন এবং প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির প্রাথমিক প্রভাব ইতিমধ্যেই দৃশ্যমান। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধির শূন্য দশমিক চার শতাংশ পয়েন্ট এসব পদক্ষেপ থেকে আসতে পারে, যা পরের বছর বেড়ে শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ পয়েন্টে পৌঁছাতে পারে।

রইটার মনে করছেন, বৈশ্বিক উত্তেজনা বাড়ার এই সময়ে দুই হাজার ছাব্বিশ সাল জার্মান অর্থনীতির জন্য একটি সম্ভাব্য মোড় ঘোরানোর বছর হতে পারে। তিনি নতুন বাণিজ্যিক অংশীদার খোঁজার আহ্বান জানিয়ে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর ভাষায়, এই উদ্যোগ ব্যর্থ হলে তা হবে তিক্ত আঘাত।

বিনিয়োগকারীদের আস্থায় উল্লম্ফন

একই দিনে প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে জার্মানির বিনিয়োগকারীদের আস্থায় বড় ধরনের উন্নতির চিত্র উঠে এসেছে। অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা জেডইডব্লিউ জানিয়েছে, জানুয়ারিতে তাদের সূচক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৯ দশমিক ৬ পয়েন্টে। আগের মাসে এই সূচক ছিল ৪৫ দশমিক ৮।

Inflation in Germany slowed down to 3.8 percent in October

জেডইডব্লিউয়ের সভাপতি আখিম ভামবাখ বলেছেন, সূচকের এই জোরালো উত্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে দুই হাজার ছাব্বিশ সাল জার্মান অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে পারে। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মূল্যায়নেও উন্নতি এসেছে। এই সূচক মাইনাস ৮১ থেকে জানুয়ারিতে মাইনাস ৭২ দশমিক ৭ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে।

মূল্যস্ফীতির গতি কমছে

এদিকে জার্মানির মূল্যস্ফীতির হারও ধীরে এসেছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসে দেশটির মূল্যস্ফীতি নেমে দাঁড়িয়েছে দুই শতাংশে। নভেম্বর মাসে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে তুলনাযোগ্য ভোক্তা মূল্যস্ফীতি ছিল দুই দশমিক ছয় শতাংশ।

সব মিলিয়ে, ব্যবসায়িক আস্থার স্থিরতা, বিনিয়োগকারীদের আশাবাদ এবং মূল্যস্ফীতির লাগাম টানা জার্মান অর্থনীতির জন্য মিশ্র বার্তা দিচ্ছে। সামনে পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা থাকলেও তা কতটা টেকসই হবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।