দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি আকাশপথে যাত্রী পরিবহন আবার চালু হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রী নিয়ে করাচির উদ্দেশে রওনা দেবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট। এই যাত্রার মাধ্যমে ২০১২ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া ঢাকা-করাচি রুটে আবারও নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটের সূচনা হচ্ছে।
উদ্বোধনী ফ্লাইটের প্রস্তুতি
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. সাফিকুর রহমান জানিয়েছেন, ১৬২ আসনের উদ্বোধনী ফ্লাইটটির সব টিকিট ইতিমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। এটি জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থার পক্ষ থেকে ঢাকা-করাচি রুটে প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইট হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ দেখা গেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই রুট চালু হলে দুই দেশের মানুষের যাতায়াত যেমন সহজ হবে, তেমনি ব্যবসা ও বাণিজ্যিক সম্পর্কেও নতুন গতি আসবে।

ফ্লাইটের সময়সূচি ও যাত্রী তালিকা
বিমানের কর্মকর্তাদের তথ্যে জানা গেছে, উদ্বোধনী ফ্লাইটটি বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করবে এবং প্রায় তিন ঘণ্টার সরাসরি উড়ানের পর করাচি বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। এই ফ্লাইটে সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিরাও সফরসঙ্গী থাকবেন।
অনুমোদন ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পায়। এরই ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে এই রুট ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক অনুমতি দিয়েছে। এই অনুমতি প্রাথমিকভাবে ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
নিরাপত্তা ও পরিচালন শর্ত

পাকিস্তান বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত আকাশসীমা ও রুট কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে এবং করাচি বিমানবন্দরে এই ফ্লাইটের জন্য নির্দিষ্ট সময়সূচির স্লট বরাদ্দ করা হয়েছে। ফ্লাইট পরিচালনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি যাত্রার বিস্তারিত তথ্য আগেভাগেই করাচি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।
আঞ্চলিক যোগাযোগ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ায় দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের যাতায়াতজনিত ভোগান্তি কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সংযোগ জোরদার করতেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তাদের অভিমত।
২০১২ সালে বিভিন্ন কারণে ঢাকা-করাচি রুটে বিমানের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলেও প্রায় ১৪ বছর পর এই রুটে আবারও ফ্লাইট চালু হওয়াকে দুই দেশের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে যাত্রীবাহী ফ্লাইট দিয়ে কার্যক্রম শুরু হলেও ভবিষ্যতে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো এবং কার্গো পরিবহনের বিষয়টিও বিবেচনায় আনা হতে পারে। চাহিদা বৃদ্ধি পেলে করাচির পাশাপাশি লাহোর বা ইসলামাবাদ রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















